
ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে বিশাল ভরদ্বাজের সিনেমা ‘ও’রোমিও’। মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় ছবিটি। কারণ, এটি শুধু গ্যাংস্টার ড্রামা নয়; বরং বাস্তব ঘটনাপ্রসূত এক অন্ধকার অধ্যায়ের পুনর্কথন। হুসেইন জাইদির বই ‘মাফিয়া কুইনস অব মুম্বাই’ অবলম্বনে নির্মিত এই গল্পের কেন্দ্রে আছেন শহীদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরি।
স্বপ্না দিদির প্রতিশোধের শুরু
গল্পের পটভূমি ১৯৮৬ সালের মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড। স্বপ্না, যিনি তখন আশরাফ নামে পরিচিত ছিলেন, স্বামী মেহমুদের মৃত্যুর পর বিশ্বাস করেন—এর পেছনে আছেন কুখ্যাত ডন দাউদ ইব্রাহিম। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এ সময় স্বপ্নার পরিচয় হয় হুসেইন উস্তারার সঙ্গে, যিনি নিজেও দাউদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। স্বপ্না প্রথমে তাঁর কাছে অস্ত্র চালানো শেখার জন্য যান। ধীরে ধীরে কয়েক দিন ধরে প্রশিক্ষণ চলতে থাকে এবং উস্তারা তাঁকে মার্শাল আর্ট শেখার ব্যবস্থাও করে দেন, যাতে ভবিষ্যতের বিপজ্জনক পরিকল্পনার জন্য তিনি প্রস্তুত থাকতে পারেন।
সম্পর্কের ভাঙন: কেন সরে দাঁড়ালেন স্বপ্না
গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন উস্তারা জানান যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের ইনফরমার হিসেবে কাজ করছেন এবং দাউদ ইব্রাহিমকে ধরানোর জন্য তথ্য জোগাচ্ছেন। একদিকে দুজনের লক্ষ্য এক হলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় তৈরি হয় জটিলতা।
বর্ণনা অনুযায়ী, একপর্যায়ে উস্তারার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বপ্না বুঝতে পারেন, এই জোট আর এগোনো সম্ভব নয়। তিনি সরাসরি মুখোমুখি হয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং সেখান থেকেই তাঁদের পথ আলাদা হয়ে যায়। সেই মুহূর্তই গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বাস্তবতা বনাম সিনেমা
ছবিটি বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করলেও স্বাভাবিকভাবেই সিনেম্যাটিক নাটকীয়তা যোগ করা হয়েছে, যাতে সাসপেন্স, আবেগ ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের তীব্রতা ফুটে ওঠে। তবে বাস্তব ঘটনার মতোই ছবিটি এক নারীর প্রতিশোধস্পৃহা তুলে ধরে।
‘ও’রোমিও’র আকর্ষণ শুধু আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাহিনি নয়; বরং স্বপ্না দিদির চরিত্রকে কেন্দ্র করে এক নারীর জটিল মানসিক যাত্রা। শহীদ কাপুরের ধূসর চরিত্র ও তৃপ্তি দিমরির আবেগঘন অভিনয় ছবিটিকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
মুক্তির প্রথম দিনে ৩৪ কোটি রুপি আয় করেছে সিনেমাটি।
ইন্ডিয়া ডটকম অবলম্বনে