‘তাঁরা মনে করেন, শিল্পীর পরিবারে যোগাযোগ করলে সাহায্য করতে হতে পারে’

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বছর মারা যান অভিনেতা সাদেক বাচ্চু
ছবি: সংগৃহীত

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বছর মারা যান অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। খল চরিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেতার চলে যাওয়ার আজ এক বছর হলো। সময়টা যেন সাদেক বাচ্চুর পরিবারের কাছে দীর্ঘ পথ। কারণ, এই অভিনেতার চলে যাওয়ার পর তাঁদের তেমন খবর রাখেননি বিনোদন অঙ্গনের মানুষেরা। অনেকটা অভিমানের সুরে সাদেক বাচ্চুর স্ত্রী শাহনাজ জাহান বলেন, শিল্পীদের মূল্যায়ন নেই, এটা আফসোস।

শাহনাজ বলেন, ‘এক বছর হলো তিনি (সাদেক বাচ্চু) আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু এই সময়ে মানুষটার পরিচিত তেমন কেউ আমাদের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ করলেন না। তাঁরা মনে করেন, শিল্পীর পরিবারে যোগাযোগ করলে সাহায্য করতে হতে পারে। শিল্পীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ মানে সাহায্য নয়। একটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সামনে দাঁড়িয়ে দুটো কথা বলাও অনেক শক্তি দেয়। দেশের গুণী শিল্পী তিনি। তাঁর সঙ্গে সবার ভালো সম্পর্ক ছিল। কে খবর নিলেন, না নিলেন এসব নিয়ে আমাদের কোনো অভিমান নেই। কিন্তু এটাই ভাবায়, শিল্পীদের মূল্যায়ন করা জরুরি।’

সাদেক বাচ্চুর ‘মতিঝিল থিয়েটার’ নামে একটি মঞ্চ নাটকের দল ছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দলটির সভাপতি ছিলেন। তরুণদের অভিনয় শেখাতে চাইতেন সব সময়। মনে করতেন প্রত্যেকের অভিনয় শিখে এই মাধ্যমে আসা দরকার।

সাদেক বাচ্চু

চলচ্চিত্র অঙ্গনের সাম্প্রতিক সময়ে তেমন অভিনয়শিল্পী তৈরি হচ্ছে না। নতুনেরা এসে টিকতে পারছিলেন না। নায়ক, নায়িকা, কমেডি, খল অভিনেতার সংকট ছিল। এই নিয়ে মন খারাপ করতেন সাদেক বাচ্চু। তার স্ত্রী শাহনাজ বলেন, ‘শাকিব খানসহ অনেকেই আমাদের বাসায় আসতেন। অভিনয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি সবাইকে অভিনয়ের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বলতেন। আলোচনা করতেন। এফডিসিতে আগে কত অভিনয়শিল্পী ছিল, তিনি স্বপ্ন দেখতেন চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির তরুণ প্রজন্ম তাদেরকেও ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু অনেক তরুণের মাঝে শেখার আগ্রহ কম থাকাটা তাকে ব্যথিত করত।’

অভিনেতা সাদেক বাচ্চু

রেডিও ও টেলিভিশনে অনেক আগে থেকেই সাদেক বাচ্চুর পদচারণা ছিল। ১৯৭৪ সালে ‘প্রথম অঙ্গীকার’ নাটক দিয়ে বিটিভিতে তার অভিনয় শুরু। নব্বইয়ের দশকে পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। ৫ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে ‘একটি সিনেমা গল্প’তে অভিনয় করে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শাহনাজ বলেন, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে তার আফসোস ছিল। পুরস্কারটি পেয়ে তিনি তৃপ্তি পেয়েছিলেন। বড় একটি সম্মান নিয়ে মরেছেন, তার আর কোনো অতৃপ্তি ছিল না।’

সাদেক বাচ্চুর স্ত্রী ও তিন সন্তান

সাদেক বাচ্চু ছিলেন অভিনয় পাগল মানুষ। গত বছর করোনা কিছুটা কমলে শুটিং যান তিনি। তার স্ত্রী নিষেধ করেছিলেন। তখন সিনিয়র শিল্পীরা অনেকেই কাজে ফেরায় তিনিও কাজে যুক্ত হন। নাটকের শুটিংয়ের ৮ দিনের মাথায় তিনি করোনা আক্রান্ত হন। দেরিতে করোনা ধরা পরায় ফুসফুসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সাদেক বাচ্চুর দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। তারা সবাই পড়াশোনা করেন। বড় মেয়ে আগামী বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। ছোট দুজন মাধ্যমিকে পড়ছে। চলচ্চিত্রে সাদেক বাচ্চু হিসেবে পরিচিত মাহবুব আহমেদ ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।