চলে গেলেন ঢালিউডের ‘মিষ্টি মেয়ে’ সারাহ বেগম কবরী। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় গতকাল শুক্রবার রাতে মারা যান বড় পর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। আজ শনিবার বাদ জোহর জানাজা শুরুর আগে মুক্তিযোদ্ধা এই অভিনেত্রীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তাঁর মৃত্যুতে দেশের বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের বিনোদন জগতের তারকারা জানিয়েছেন শোক ও শ্রদ্ধা। বিদায়বেলায় ভাগ করে নিয়েছেন এই শিল্পীর সঙ্গে তাঁদের টুকরো স্মৃতি।
রুপালি পর্দায় আপনিই শ্রেষ্ঠ: সুবর্ণা মুস্তাফা
আপনার হাসি, আপনার অভিনয়, আপনার চাহনি যুগের পর যুগ ধরে সব বয়সের দর্শককে মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশের রুপালি পর্দায় আপনিই শ্রেষ্ঠ নায়িকা। আপনাকে বিদায় বলার কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। কেমন যেন দমবন্ধ, দমবন্ধ লাগছে। ওপারে শান্তিতে থাকবেন কবরী আপা।
কবরী আপা ছিলেন অত্যন্ত ব্যক্তিত্ববান একজন মানুষ: শাকিব খান
চলচ্চিত্রের যাঁরা পথপ্রদর্শক, তাঁরা একে একে চলে যাচ্ছেন। সেই পথে পাড়ি দিলেন আমাদের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী আপা। চলচ্চিত্রের প্রাজ্ঞজনের একজন ছিলেন কবরী আপা। তিনি সোনালি অতীতের সমুজ্জ্বল সাক্ষী ছিলেন। ‘সুতরাং’, ‘হীরামন’, ‘ময়নামতি’, ‘পারুলের সংসার’, ‘বিনিময়’, ‘আগন্তুক’, ‘সুজন সখী’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সারেং বউ’, ‘নীল আকাশের নিচে’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের নায়িকা ছিলেন কবরী আপা।
ভালো থাকবেন কবরী আপা। কয়েক দিন ধরেই আপনার সঙ্গে তোলা ছবিগুলো খুঁজছিলাম। এখন পেলাম, যখন আপনি অনেক দূরেচঞ্চল চৌধুরী
অভিনেত্রী পরিচয়ের বাইরে পরিচালনাতেও সুনাম অর্জন করেছিলেন তিনি। পর্দার মিষ্টি মেয়ে হিসেবে খ্যাতি পেলেও ব্যক্তিজীবনে কবরী আপা ছিলেন অত্যন্ত ব্যক্তিত্ববান একজন মানুষ। কিংবদন্তি এই মানুষটির সঙ্গে আমার অসংখ্য স্মৃতি আছে। যখনই দেখা হতো আমাকে স্নেহ করতেন। তাঁর সময়কার বিভিন্ন স্মৃতি শেয়ার করতেন। কবরী আপার মৃত্যুতে প্রিয় অভিনেত্রী হারানোর পাশাপাশি একজন অভিভাবক হারানোর শোক অনুভব করছি। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন কবরী আপা।
একটা ছবি তোলার আবদার করেছিলাম: চঞ্চল চৌধুরী
কবরী আপা নেই...! তিনি আমাদের স্বপ্নের নায়িকা। কোন অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয়েছিল, মনে নেই। শেষ যেবার দেখা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে, আবদার করেছিলাম একটা ছবি তোলার। স্পষ্ট মনে আছে, বলেছিলেন, ‘চঞ্চল, আমি তোমার “মনপুরা”র ভক্ত...’। ভালো থাকবেন কবরী আপা। কয়েক দিন ধরেই আপনার সঙ্গে তোলা ছবিগুলো খুঁজছিলাম। এখন পেলাম, যখন আপনি অনেক দূরে।
আমরা কোনো দিন আপনাকে ভুলব না: মুশফিকুর রহমান গুলজার
না-ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রিয়, শ্রদ্ধেয় কবরী আপা। শোক জানানোর কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, আপা। আপনি এভাবে চলে যাবেন তা কল্পনাও করিনি। এখন কে বড় বোনের মতো রাগ করে ধমক দিয়ে কথা বলবে? আবার কে আদরমিশ্রিত স্নেহের কণ্ঠে বলবে, ও তো আমার ভাই। তাই ওর ওপর আমি রাগ করতেই পারি। আপা, এ শোক সহ্য করা ভীষণ কঠিন। শুধু এইটুকু বলব, আমরা কোনো দিনই আপনাকে ভুলব না। ভুলতে পারব না।
প্রিয়জন চলে গেলে মনে হয় পাঁজরটাই ভেঙে যায়: কনক চাঁপা
আসলেই আর পারছি না। কবরী আপা নেই। ঘণ্টা পাঁচেক আগে দোয়া চেয়ে স্ট্যাটাস দিলাম, আর এখনই এটা শুনলাম। এভাবেই আমরা একে একে হারাব আমাদের প্রিয়জনকে? প্রিয়জন চলে গেলে মনে হয় পাঁজরটাই ভেঙে যায়। আর সেই চলে যাওয়া যদি মোটামুটি নিয়মিত হয়, তখন তা সহ্যের বাইরে চলে যায়।
ওপারে ভালো থাকবেন কবরী ম্যাডাম: বুবলী
মৃত্যু সবচেয়ে বড় সত্য, কিন্তু এত অবিশ্বাস্য কেন? আমাদের সবার মৃত্যু হবে জেনেও মানতে ইচ্ছে করে না কেন? পৃথিবীতে হয়তো এমন অনেক কেনর কোনো উত্তর নেই। ওপারে ভালো থাকবেন কবরী ম্যাডাম।
কবরী আপা বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্বর্ণমুকুট: অঞ্জনা
আরেকটি নক্ষত্রের পতন। কবরী আপা নেই—এটা মানতে পারছি না। ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এত বড় একটি শোক মেনে নেওয়ার মতো না। সব সময় আপনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্বর্ণমুকুট হয়ে রইবেন চিরজীবন।
এ দেশ সারা জীবন আপনার ঐতিহাসিক কাজগুলো মনে রাখবে: শফিক তুহিন
বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেত্রী মিষ্টি মেয়েখ্যাত কবরী ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেছেন। এ দেশ সারা জীবন আপনার ঐতিহাসিক কাজগুলো মনে রাখবে। ওপারে ভালো থাকবেন।
না–ফেরার দেশে ভালো থাকুন: অমিত হাসান
চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কবরী আপা আর নেই। না–ফেরার দেশে আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুক।
‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন
কপোলের কালো তিল পড়বে চোখে
ফুটবে যখন ফুল বকুলশাখে
ভ্রমর যে এসেছিল জানবে লোকে।’
এ ছাড়া জয়া আহসান, সিয়াম আহমেদ, ফেরদৌস, মেহ্জাবীন চৌধুরী, পূর্ণিমা, সুইটি, কোনাল, অপূর্ব, শাহনাজ খুশী, উজ্জল, অরুণা বিশ্বাস, জায়েদ খানসহ বাংলাদেশের বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির অসংখ্য মানুষ কবরীর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন শোক আর শ্রদ্ধা।