সাবরিন আজাদ
সাবরিন আজাদ

পার্টনার পছন্দ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সততা

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় অভিনেত্রী সাবরিন আজাদ। গত মঙ্গলবার এই তরুণ অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মকফুল হোসেন

প্রশ্ন

‘যমুনা’র ওপরে তো দর্শক রেগে আছেন...

সাবরিন আজাদ : দর্শক যদি রাগ করেন, এটা চরিত্রের সফলতা। এর মানে চরিত্রটা আমি ধারণ করতে পেরেছি। চরিত্রটাই ছিল এমন, সবাইকে ইরিটেট (বিরক্ত) করবে। আমাকে বলা হয়েছিল, চরিত্রটা এমনভাবে করতে হবে যেন দর্শক দেখে প্রচণ্ড রেগে যান। আমি ওটাই করার চেষ্টা করেছি। দেখলাম, মানুষ ওই রকমই রিঅ্যাকশন দেখাচ্ছেন। অনেকে এটাও বলছেন, অভিনয় ভালো হয়েছে বলেই আমরা রাগ করতে পারছি।

প্রশ্ন

কেউ কেউ বলেন, আপনার লুক যথেষ্ট ইনোসেন্ট। এই লুক নিয়ে নেতিবাচক চরিত্র কীভাবে করলেন?

সাবরিন আজাদ : আমি কনফিডেন্ট (আত্মবিশ্বাসী) ছিলাম। অনেকে বলেন, আমি দেখতে খুবই ইনোসেন্ট। ফলে আমাকে শুধু ইনোসেন্ট রোলই দেওয়া উচিত। এর মাধ্যমে শিল্পীকে একটা জায়গায় বেঁধে দেওয়া হয়। আমি বহুবার শুনেছি, আমাকে দিয়ে স্ট্রং, নেগেটিভ ক্যারেক্টার কিংবা অ্যাকশন ক্যারেক্টার হবে না। কারণ, আমি দেখতে সুইট টাইপ। আসলে ওটা ভাঙতে চেয়েছিলাম। যখন যমুনা চরিত্রটা পেলাম, তখন মনে হলো, এটাই আমার সুযোগ।

সাবরিন আজাদ
প্রশ্ন

সিনেমায় আপনাকে নববিবাহিত তরুণীর চরিত্রে দেখা গেছে। ব্যক্তিগত জীবনে সঙ্গী নির্বাচনে কোন বিষয় বিবেচনায় রাখবেন?

সাবরিন আজাদ : পার্টনার পছন্দ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সততা। অনেক সৎ হতে হবে, সত্য কথা বলতে হবে। আমার কাজের প্রতি সম্মান থাকতে হবে। বুঝতে হবে যে আমি কাজটাকে ভালোবেসে এসেছি, কেন এসেছি। মোটিভেটিং হতে হবে। এসব গুণ থাকলেই হবে।

প্রশ্ন

ঈদের অন্য সিনেমা দেখেছেন?

সাবরিন আজাদ : প্রেশার কুকার দেখার প্ল্যান আছে। ‘দম’ দেখব, ‘রাক্ষস’ও দেখব। এখন পর্যন্ত দেখার সুযোগ হয়নি। বনলতা এক্সপ্রেস নিয়ে প্রমোশন করছি। ফাঁকে সময় বের করে হলে গিয়ে সিনেমাগুলো দেখব।

প্রশ্ন

২০২৪ সালে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, অভিনয়ের জন্য আপনাকে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

সাবরিন আজাদ : তখন তো আসলে কেউই চিনতেন না। স্ট্রাগল করেছি, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসা-যাওয়া করে কাজ করেছি। নিজেকে চেনাতে সময় লেগেছে। এখন ইন্ডাস্ট্রির অনেকে আমাকে চেনেন। রাস্তাঘাটে বেরোলে মানুষও চিনছেন। এসে বলছেন, আপনার এই কাজটা দেখেছি। এখন স্ট্রাগল কমেছে একটু। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার জন্য এখন যে সাড়া পাচ্ছি, আমি জানি এটা সবে শুরু। এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কিন্তু এটুকু পর্যন্ত আসতে আমার অনেক অপেক্ষা আর স্ট্রাগল করতে হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ আমার এখন পর্যন্ত কাজ করা সব ডিরেক্টরের প্রতি, যাঁরা আমার ওপর ভরসা রেখেছেন, আমি অতটা পরিচিত না হওয়া সত্ত্বেও। শিল্পীদের প্রপার সুযোগ দেওয়াটা অনেক বড় ভূমিকা রাখে ক্যারিয়ারে।

সাবরিন আজাদ
প্রশ্ন

সামনে কোন ধরনের চরিত্র করতে চান?

সাবরিন আজাদ : আমি ইমপ্যাক্টফুল ক্যারেক্টার করতে বেশি পছন্দ করি। স্ক্রিনে এলাম, দুটো ডায়লগ দিলাম—এগুলোতে কখনোই আমার আগ্রহ ছিল না। সব সময় চেয়েছি, চরিত্রটা যেন এমন হয়, যাতে দেখে মানুষ বলেন, মেয়েটা ভালো করেছে। ওই স্পেসটা আমাকে দিতে হবে। আমি সব সময় ওই ধরনের ক্যারেক্টারই প্লে করতে চেয়েছি। সামনেও এটাই করতে চাই।

প্রশ্ন

অনেকে তো গ্ল্যামারাস চরিত্রে বেশি আগ্রহী...

সাবরিন আজাদ : আমারও গ্ল্যামারাস চরিত্র খুবই পছন্দ, কেন করব না? তবে শুধুই গ্ল্যামারাস চরিত্র করলে তো হবে না। আমি সব সময় ভালো অভিনেত্রী হতে চেয়েছি, যে অভিনয়টা পারে। ওই রকম হতে চাইলে একদমই স্টোরি ছাড়া শুধু গ্ল্যামারাস রোল করলে হবে না। ওইটা আসলে আমার এথিকসের সঙ্গেও যায় না। সব ধরনের রোলই করতে চাই, হোক সেটা গ্ল্যামারাস, নেগেটিভ ক্যারেক্টার বা খুবই সাদামাটা ক্যারেক্টার।

সাবরিন আজাদ
প্রশ্ন

আপনি সামনে কী করছেন?

সাবরিন আজাদ : সামনে একটি সিনেমা আসবে, সিনেমাটি বিভিন্ন উৎসবের পাঠানো হবে। সিনেমাটার কাজ শেষ করেছি। এখন পোস্টপ্রোডাকশনের কাজ চলছে।