শাবনাজ–নাইমদের গায়েহলুদ থেকে কাবিনের অদেখা ১২টি ছবি

১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক নাইম ও শাবনাজ। তাঁদের প্রেমের শুরু ‘বিষের বাঁশি’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে, পরে ‘লাভ’ ছবিতে তা আরও গভীর হয়। দেখতে দেখতে তাঁদের দাম্পত্যজীবনের ৩২ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ছবিতে দেখে নিন শাবনাজ–নাইমের বিয়ে ও গায়েহলুদের অদেখা এক ডজন ছবি।
নাইম–শাবনাজ দুজনের প্রথম চলচ্চিত্র ‘চাঁদনী’। এই চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে সহশিল্পী, সে সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক নাইমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কথায়–কথায় শাবনাজ জানালেন, ‘বিষের বাঁশি’ ছবির কাজ করতে গিয়ে দুজনের প্রেমের শুরু। আর ‘লাভ’ ছবির কাজ করতে গিয়ে ভালোবাসা বাড়তে থাকে। তবে শুরুতে কেউ কাউকে নিজেদের ভালো লাগার বিষয়টি বুঝতে দিতে চাইতেন না। ছবিতে বাবার সঙ্গে শাবনাজ
৩ অক্টোবর ১৯৯৪ সালে নাঈমদের উত্তরার রবীন্দ্র সরণির বাড়িতে গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়
৩ অক্টোবর ১৯৯৪ সালে নাঈমদের উত্তরার রবীন্দ্র সরণির বাড়িতে গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়
শাবনাজের লালমাটিয়ার বাড়িতে ১৯৯৪ সালের ২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় তাঁর গায়েহলুদ অনুষ্ঠান।
৩ অক্টোবর ১৯৯৪ সালে নাইমদের উত্তরার রবীন্দ্র সরণির বাড়িতে গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুহূর্তটি সেদিনের। এত বছর পর এসে শাবনাজ জানালেন, একটি সংসারে নানা ঘটনা ঘটে। সেখানে বেশির ভাগ দেখা যায়, তৃতীয় পক্ষকে এগিয়ে আসতে। এটা সংসারে আরও অশান্তি সৃষ্টি করে বলে জানালেন। শাবনাজ মনে করেন, নিজেদের সমস্যা ফলাও করে বলে বেড়ানো উচিত নয়। সংসারের কোনো কিছু তৃতীয় কেউ জানবেই না।
শাবনাজকে আংটি পরিয়ে দিচ্ছেন নাইম। সংসারজীবন প্রসঙ্গে শাবনাজ বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই যা–ই ঘটত, সবই নাইমকে বলতাম। নিজেদের মধ্যে কোনো কিছু গোপন রাখিনি। এই মধ্য দিয়েই বোঝাপড়া শুরু হয়। সবাই আমাদের বিষয়গুলো জানত। যে কারণে আমাদের মধ্যে আগে থেকেই বোঝাপড়া ভালো। আমরা একে অন্যকে সম্মান করি।’
মাত্র ১০ দিনের মাথায় দুই পরিবার মিলে শাবনাজ ও নাইমের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ নাইমের মা আছিয়া পান্নী মুরাদ তাঁদের উত্তরার বাসা থেকে শাবনাজদের লালমাটিয়ার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। শাবনাজ বললেন, ‘একসঙ্গে সংসার করতে গিয়ে সবার আগে দরকার নিজেদের শ্রদ্ধা করা। পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া। সেই ৩২ বছর ধরে দেখছি নাইমকে, এখনো সে বাইরে থেকে এলে, আমাদের জন্য কিছু নিয়ে আসবে। আমার পছন্দের পোশাক, পছন্দের খাবার এখনো সে নিয়ে আসে। বন্ডিং থাকলে সংসার এমনিতেই সুখের হবে।’ ছবিতে নাইমের সঙ্গে শাবনাজের অভিনয়শিল্পী বোন তাহমিনা সুলতানা মৌ
শাবনাজদের লালমাটিয়ার বাড়িতে ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে কাবিন ও সন্ধ্যায় একই বাড়িতে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ক্যারিয়ারে তখন চাঙা অবস্থা। এর মধ্যে নায়ক-নায়িকারা যেখানে ক্যারিয়ার গোছাতে ব্যস্ত, তখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন নাইম ও শাবনাজ। এমন অল্প বয়সে বিয়ে করতে দেখে স্বয়ং এফডিসির সেই সময়ের অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন, এই বিয়ে বেশি দিন টিকবে না। বিচ্ছেদ হবে নাইম-শাবনাজের। এর মধ্যে অনেকেই ছিলেন, এই অভিনয়শিল্পীদের কাছের, চেনা জগতের মানুষ। তাঁরা নাইম-শাবনাজের সামনে ভালো কথা বললেও অনেকের কাছে এই দম্পতি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতেন।
শাবনাজদের লালমাটিয়ার বাসায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার আগমুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়েন শাবনাজ। বিদায়ের মুহূর্তে শাশুড়ি আছিয়া পান্নী মুরাদ ও স্বামী নাইমের হাতে মেয়েকে তুলে দিচ্ছেন শাবনাজের বাবা এস এম হুমায়ূন।
শাবনাজের কপালে চুমু খাচ্ছেন তাঁর শাশুড়ি আছিয়া পান্নী মুরাদ। স্বামী হিসেবে স্ত্রীর কাছ থেকে সব সময়ই ভালো পরামর্শ পেয়েছেন নাইম। জীবন চলার পথে এসবকে গুরুত্বও দিয়েছেন। দীর্ঘ এই সংসারজীবনে একাধিকবার ভেঙে পড়েছিলেন নাইম। সেই দিনগুলোতে সব সময় পাশে পেয়েছেন স্ত্রী শাবনাজকে। নাইম বলেন, ‘আমি চিরকৃতজ্ঞ শাবনাজের কাছে। খারাপ সময়ে সে আমাকে আগলে রেখেছে। অনেক সময় সে যা করেছে, সেটা স্ত্রীর চেয়েও বেশি কিছু করা। যখন আমার অপারেশন হয়। সেই সময়ে হয়তো বড় কিছু ঘটে যেতে পারত। তখন সেই আমাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাঁচিয়েছে।’
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার একটা পর্যায়ে মালাবদল করছেন শাবনাজ ও নাইম। এর মধ্যে পার হতে চলছে ৩২ বছর। নিজেদের দোষ–গুণের কথা বলতে গিয়ে নাইম বলেন, ‘দীর্ঘ এই সংসারে আমি দিন শেষে সব সময়ই খুশি। এর কারণ, শাবনাজ। প্রথমেই বলব, সংসার ধরে রাখার জন্য সব সময় শাবনাজ চেষ্টা করে গেছে। এখানে দুকথা হবে, সেটা স্বাভাবিক; কিন্তু ভুল কোনো সিদ্ধান্ত কখনোই নিইনি।’
বিয়ের ৩২ বছরের এই দিনে কী করছেন? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাসা বদলের কাজে ব্যস্ত তাঁরা। ২৬ বছর ধরে যে বাড়িতে থাকতেন, সেটি এখন বহুতল ভবন হবে। তাই উত্তরায় ঠিকানা বদল করেছেন তাঁরা। শাবনাজ বলেন, ‘এখন দেখি কোনো কিছু হলেই অনেক শিল্পী নিজেরাই ব্যক্তিগত ঘটনা সামনে নিয়ে আসেন। এ ঘটনাগুলো দিয়েও কেউ কেউ প্রচার করতে চান। একটি সংসারে সবার আগে বোঝাপড়া, প্রাইভেসি থাকা দরকার। ট্রল হওয়া শিল্পীদের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করে দেয়। সবার মধ্যে সংসার নিয়ে পজিটিভ ভাবনা থাকাটাই জরুরি।’