
ঈদে মুক্তি পেয়েছে রেদওয়ান রনির সিনেমা ‘দম’। মুক্তির পর এটি নিয়ে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন অনেক অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা। এবার ‘দম’ নিয়ে নিজের মুগ্ধতা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন নির্মাতা দীপংকর দীপন।
আজ দুপুরে নিজের ফেসবুকে ‘দম’ দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে দীপংকর দীপন লিখেছেন, ‘“দম” আমার কাছে বাংলাদেশের সিনেমার একটি সম্পদ হয়ে থাকবে। অনেক দিন পর কোনো বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতাকে ঈর্ষা হচ্ছে। “দম” সিনেমা হলে দেখার সিনেমা। সিনেমা হলে দমের ল্যান্ডস্কেপের মজা ছোট পর্দায় পাবেন না।’
সিনেমাটিতে আফরান নিশোর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন ‘ঢাকা অ্যাটাক’ নির্মাতা। তিনি লিখেছেন, ‘“দম” দেখার পর নিশোকে কল করেছিলাম—আসলে নিজেকে ঠেকাতে পারি নাই। নিশোর স্ক্রিন প্রেজেন্স এত ভালো—যতক্ষণ স্ক্রিনে থাকে ততক্ষণ পুরো ফ্রেমজুড়ে তার দিকেই চোখ যায়। শাহরুখ খানের ক্ষেত্রে এটা আমার হয়, শাকিব খানের ক্ষেত্রে হয়, টম হ্যাংকস-হোয়াকিন ফিনিক্সের ক্ষেত্রে আমার এমনটা।’
সিনেমার অন্য অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি চঞ্চল চৌধুরীর ডাই-হার্ড ফ্যান। মন্ত্রী মহোদয় বা সুজিত দা সব জায়গাতেই চঞ্চল চৌধুরী ম্যাজিক্যাল। সত্যি—চঞ্চলদাকে আমার ম্যাজিক্যাল মনে হয়। আমি অনেকবার এ কথা বলেছি। ক্যারেক্টার পোর্ট্রেট একটা চলমান স্কুল চঞ্চল চৌধুরী। পূজাও দমে অসাধারণ। তবে পূজাকে নিয়ে আমার একটা মিষ্টি অভিযোগ আছে—অবশ্য এই অভিযোগে পূজা খুশি হবে। অভিযোগটা হলো—পূজা বেশি সুন্দর। কোনো মেকাপ না করে কেঁদে কেঁদে চোখ ফোলানোর পরে পুরো সিনেমায় পূজাকে এত বেশি সুন্দর লেগেছে। সৌন্দর্য দেখব না কান্না দেখব এই দ্বিধায় ছিলাম। অবশ্য ছবির শেষে দেখি আসল সজল সাহেবের স্ত্রীর ছবি দেখে পূজার প্রতি এই অভিযোগ কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। পূজার অভিনয়ের নতুন এক মাত্রা পেয়েছি এবার দমে। পূজাকে আমাদের বড় সম্ভাবনা মনে হয়েছে। “দম”–এ পূজাকে দেখতে দেখতে আমার কয়েকবার অশনি সংকেত–এর ববিতার কথা মনে পড়েছে।’
‘দম’–এর টেকনিক্যাল কাজ অসাধারণ—উল্লেখ করে দীপংকর দীপন আরও লিখেছেন, ‘খুব ভালো সিনেমাটোগ্রাফি। দেবজ্যোতির রঙ আর আদিপ–এর সাউন্ড আমার আগে থেকেই ভালো লাগে। এবার নবারুনের বিজিএম ভক্ত হয়ে গেলাম। বেশ কয়েকটা জায়গায় দুর্দান্ত সিনেমাটিক মোমেন্ট তৈরি হয়েছিল। অস্বীকার করব না কয়েকটা জায়গায় একটু স্লো লেগেছিল—দু’একবার ফোন বের করেছি—কিন্তু শেষ পর্যন্ত যা নিয়ে বেরিয়েছি আজীবন মনে থাকবে আমার। এই কারণেই আমার কাছে দম “খুব” গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা।’
নিজের পোস্টের শেষে দীপন আরও লিখেছেন, ‘গল্পের গরুকে গাছে না উঠিয়ে ক্লাইমেক্সকে যে জায়গায় নিয়ে গেছে “দম”—সেটাই তাকে তুলে রাখার মতো সিনেমা করে তোলে। আমি রনিকে বলব—দমের ডিরেক্টরস কাট করে সেটাকে সব ফেস্টিভালে পাঠাও। দমের দম আছে। মাথাভরা ঈর্ষা আর বুকভরা ভালোবাসা রেদওয়ান রনি।’