‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার পোস্টার
‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার পোস্টার

‘এই দুনিয়ায় ভালো মাইনষের দাম নাই’, ঘোষণা দিয়ে ফিরছে ‘মাসুদ’

‘একটা জিনিস চিন্তা কইরা দেখলাম, এই দুনিয়ায় ভালো মাইনষের দাম নাই’—আফরান নিশোর কণ্ঠে পরিচিত সেই সংলাপ। অন্ধকার পর্দা ভেদ করে সামনে আসেন ‘মাসুদ’। এরপর ভেসে ওঠে রায়হান রাফীর চলচ্চিত্রযাত্রার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক—‘পরাণ’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’ ও ‘তাণ্ডব’। সঙ্গে দেখা যায় নতুন কিছু অ্যাকশনধর্মী দৃশ্য, রহস্যময় আবহ আর নিশোর নতুন লুক। শেষ মুহূর্তে বড় অক্ষরে লেখা আসে, ‘মাসুদ ইজ ব্যাক’। আর তাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘সুড়ঙ্গ-২’-এর।

আজ শুক্রবার বিকেলে প্রকাশিত ঘোষণাটিজারেই জানানো হয়, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে ছবিটি। এর মধ্য দিয়ে আবারও এক হচ্ছেন নির্মাতা রায়হান রাফী ও অভিনেতা আফরান নিশো।

২০২৩ সালের পবিত্র ঈদুল আজহায় মুক্তির পর দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ‘সুড়ঙ্গ’। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশোর বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল এই ছবির মধ্য দিয়ে। ‘মাসুদ’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি ছবিটি বক্স অফিসেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। দেশ-বিদেশে আলোচিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও একাধিক বিভাগে সম্মাননা অর্জন করে সিনেমাটি।

‘সুড়ঙ্গ’ ছবিতে আফরান নিশো

সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় এবার নির্মিত হচ্ছে ‘সুড়ঙ্গ-২’। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, প্রথম ছবির গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই শুরু হবে নতুন অধ্যায়। তবে এবার কাহিনি ও নির্মাণ—দুই ক্ষেত্রেই পরিধি আরও বড় হবে। উন্নত প্রযুক্তি, বৃহৎ ক্যানভাস ও আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে ছবিটি নিয়ে।
এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহেন্দ্র সনি বলেন, ‘“সুড়ঙ্গ”-এর সাফল্য দেখিয়েছে, স্থানীয় শিকড়ে দাঁড়িয়েও বিশ্বজনীন আবেদন তৈরি করা সম্ভব। “সুড়ঙ্গ-২”-এর মাধ্যমে আমরা শুধু একটি সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এগিয়ে নিতে চাই না; বরং এমন একটি গল্প বলতে চাই, যা বর্তমান দর্শকদের প্রত্যাশা এবং বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎকে প্রতিফলিত করবে।’

রায়হান রাফীর ভাষ্য, ‘সুড়ঙ্গ’ তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দর্শকদের ভালোবাসা তাঁদের ওপর নতুন দায়িত্বও তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘“সুড়ঙ্গ-২” শুধু আগের গল্পের ধারাবাহিকতা নয়, এটি আমার চলচ্চিত্রের নিজস্ব ইউনিভার্সকে আরও বিস্তৃত করবে। মানুষের ভেতরের অন্ধকার, আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার লড়াইকে এবার আরও বৃহৎ পরিসরে দেখানোর চেষ্টা করেছি।’

রায়হান রাফী

নির্মাতার দাবি, দর্শকদের শুধু একটি সিক্যুয়েল নয়, নতুন এক সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ছবিটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল বলেন, ‘“সুড়ঙ্গ”-এর সাফল্য আমাদের বুঝিয়েছে যে বাংলাদেশের দর্শক এখন বিশ্বমানের কনটেন্ট দেখতে চায়। সেই লক্ষ্য নিয়েই “সুড়ঙ্গ-২” নির্মাণ করছি। গল্প, নির্মাণ ও প্রযোজনার প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’

আফরান নিশোর কাছে ছবিটির গুরুত্বও বিশেষ। কারণ, ‘সুড়ঙ্গ’ দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রা। তিনি বলেন, ‘“মাসুদ” চরিত্রটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। দর্শকেরা যেভাবে এই চরিত্রকে ভালোবেসেছেন, তা আমার জন্য বিশেষ পাওয়া। নতুন গল্প, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নতুন কিছু চমক দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে।’

বর্তমানে ছবিটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। শিগগিরই অন্যান্য অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী এবং শুটিংয়ের সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। তবে ঘোষণাটিজার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা।