ঈদে মুক্তি পেয়েছে পাঁচ সিনেমা ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’
ঈদে মুক্তি পেয়েছে পাঁচ সিনেমা ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’

সন্ধ্যার পর তালা মাল্টিপ্লেক্সে, চাপে ঈদের সিনেমা—উদ্বেগে নির্মাতারা

ঈদের সিনেমা মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহেও যখন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড় চোখে পড়ার মতো, ঠিক তখনই সন্ধ্যার পর মাল্টিপ্লেক্সে প্রদর্শনী বন্ধের সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সরকারি নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপণিবিতান বন্ধ রাখার কারণে একে একে মাল্টিপ্লেক্সগুলো সন্ধ্যার পরের শো বন্ধ ঘোষণা করায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন ঈদের সিনেমাগুলোর নির্মাতা ও প্রযোজকেরা।

এ পরিস্থিতিতে নির্মাতা ও প্রযোজকেরা এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানালেও এর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও এর ফলে মার্কেটের ভেতরে থাকা সিনেমা হলগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা চলমান ঈদের সিনেমা এবং সামগ্রিক চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নির্মাতা–প্রযোজকদের মতে, ঈদের সিনেমার মূল দর্শকসমাগম ঘটে সন্ধ্যা ও রাতের শোগুলোয়, যা ‘প্রাইম টাইম’ হিসেবে বিবেচিত। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে অধিকাংশ দর্শক পরিবারসহ এ সময়েই প্রেক্ষাগৃহে আসেন। ফলে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শো বন্ধ হয়ে গেলে বিপুলসংখ্যক দর্শক সিনেমা দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন।

নির্মাতা ও প্রযোজকেরা অতীতের দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছেন। আগে মার্কেট নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হলেও সিনেমা হলগুলোকে সেই নিয়মের বাইরে রাখা হতো। রাত ১০টা বা শো শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রদর্শনী চালানোর অনুমতি থাকত এবং এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ব্যবস্থা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অর্থনৈতিক দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সিনেমা নির্মাণে প্রযোজকের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকে, যার বড় অংশ ফেরত আসে উৎসবের এই সময়েই। পিক টাইমে হল বন্ধ থাকলে সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাতা ও প্রযোজকদের প্রধান দাবি—সিনেমা হলকে সাধারণ দোকানের আওতামুক্ত রেখে, মার্কেট বন্ধ থাকলেও আগের মতো প্রদর্শনী চালু রাখার সুযোগ দেওয়া। এতে দর্শকদের ঈদের আনন্দ যেমন পূর্ণতা পাবে, তেমনি প্রযোজকেরাও তাঁদের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন তাঁরা।


যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ‘দম’-এর নির্মাতা ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, নির্মাতা রেদওয়ান রনি, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর নির্মাতা তানিম নূর ও প্রযোজক সাকিব আর খান, ‘প্রেশার কুকার’-এর নির্মাতা রায়হান রাফী, ‘রাক্ষস’-এর প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি এবং ‘প্রিন্স’-এর প্রযোজক শিরিন সুলতানা।

এদিকে মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষও একই বাস্তবতার কথা তুলে ধরছেন। লায়ন সিনেমাসের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক বলেন, ‘সন্ধ্যার সময়টাই সিনেমা হলের পিক টাইম। কর্মজীবী মানুষ সাধারণত এই সময়েই পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে আসেন। সরকারের নির্দেশনা আমরা মানছি, তবে সিনেমা হলগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা করে বিবেচনা করা হলে ভালো হতো। এটি শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতিই নয়, চলচ্চিত্রশিল্পের জন্যও অশনিসংকেত।’

স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, মার্কেট বন্ধ থাকলে দর্শক আসার সুযোগ কমে যায়। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিকেল পর্যন্তই শো চালানো হবে, সন্ধ্যার পরের সব প্রদর্শনী বন্ধ থাকবে।
একই সুর ব্লকবাস্টার সিনেমাসের পক্ষ থেকেও। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অফিস শেষে দর্শকেরা সাধারণত সন্ধ্যার পর পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে আসেন। এই সময় শো বন্ধ থাকলে দর্শক হারানোর পাশাপাশি ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সামনে নতুন করে প্রদর্শনীর সূচি সাজাতে হতে পারে।’
চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ, ঈদের এই জমজমাট সময়ে প্রদর্শনী সীমিত হয়ে গেলে শুধু একটি মৌসুম নয়, পুরো চলচ্চিত্রশিল্পের গতিই শ্লথ হয়ে পড়তে পারে।