শুভ জন্মদিন।
ধন্যবাদ।
অভিনেত্রী রিকিতা নন্দিনী শিমুর জন্মদিন ছিল গতকাল। দুপুরে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তিনি ব্যক্তিগত সফরে পোল্যান্ড। আলাপটা তাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময় দিয়েই শুরু হলো। এবারের জন্মদিনটা তাঁর অন্য রকম। কারণ, জন্মদিনের আগে ১৬ সেপ্টেম্বর টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর অভিনীত দুটি সিনেমা—রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ও আনিবা রহমানের ‘বেলিফুল’।
বাংলাদেশি অভিনয়শিল্পীদের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণটা এখন আর তেমন বিরল কোনো ঘটনা নয়। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভেনিস ও টরন্টোর মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একাধিক ছবির প্রদর্শনী শিমুর জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ৬ সেপ্টেম্বর প্রদর্শিত হয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। প্রদর্শনীর পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সিনেমাটি ও শিমুর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। তবে অভিনেত্রীর মনে দাগ কেটেছে প্রিমিয়ারের অভিজ্ঞতা। গতকাল পোল্যান্ড থেকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সালা দারসেনায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ দর্শকের সামনে ছবিটির প্রদর্শনী হয়। এটা আমার জন্য অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। প্রদর্শনীর পর দর্শকেরা অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন—এটা ছিল আমার জন্য বিশেষ ঘটনা। বাংলাদেশের সিনেমার জন্যও গর্বের মুহূর্ত।’
ভেনিসের সঙ্গে শিমুর সম্পর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তর ‘ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা’র বিশ্ব প্রিমিয়ারও ভেনিসে হয়েছিল। সেই ছবিরও গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শিমু। দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড–এর ভেনিস প্রিমিয়ারে থাকলেও শিডিউল জটিলতার জন্য টরন্টো যেতে পারেননি। তবে গত বুধবার উৎসবে তাঁর দুই সিনেমার প্রিমিয়ারের খবর নিয়েছেন নিয়মিত। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ও ‘বেলিফুল’ একই দিনে, একই ভেন্যুতে দেখানো হয়েছে। জন্মদিনের আগে এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা উপহার,’ বললেন শিমু।
ভেনিসে রিকিতা নন্দিনী শিমু। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
‘উনি আমার একজন অভিভাবক’
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শৈল্পিক ঘরানার সিনেমায় কাজ করেন শিমু। তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’ দিয়ে শুরু। এরপর অভিনয় করেছেন ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’, ‘শিমু’, ‘ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা’ এবং ইরান-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘ফেরেশতেতে’। এর মধ্যে শিমু’র জন্য যৌথভাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’, ‘শিমু’র পর ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’—এ নিয়ে তিন সিনেমায় পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে কাজ করলেন তিনি। ‘রুবাইয়াত আপুর সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। আমাদের দুই কাজের মাঝে অনেক সময়ের ব্যবধান, কিন্তু ওনার সঙ্গে সব সময়ই যোগাযোগ ছিল। বরাবরই উনি আমাকে গাইড করেছেন। উনি আমার একজন অভিভাবক,’ বললেন তিনি।
শিমু কাজ করেন খুবই কম। দুই কাজের মাঝখানে এত বিরতিরই–বা কারণ কী? ‘আমি তো সব সময়ই করতে চাই, কিন্তু গল্প পছন্দ না হলে রাজি হই না। গল্প পছন্দ হলে কিন্তু আর কিছু চিন্তা না করে মাঠে নেমে পড়ি। সময় নিয়ে কাজ করতে চাই, যেন চরিত্রকে পর্দায় বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে পারি। সিনেমা, সিরিজ যা–ই করি, আগে নিজেকে প্রশ্ন করি—কাজটি বা চরিত্রটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? নিজের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে রাজি হয়ে যাই। কাজ আমার অনেক আসে, যে ধরনের গল্প বা চরিত্র চিন্তা করি, সে রকম কিছু পেলেই হ্যাঁ বলে দিই,’ উত্তর অভিনেত্রীর।
ভেনিস, টরন্টোর পর শিকাগো
ভেনিস ও টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর এবার ৬২তম শিকাগো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। উৎসবের আন্তর্জাতিক ফিচার প্রতিযোগিতার ১৩টি সিনেমার তালিকায় রয়েছে এটি। এবারের শিকাগো উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ১৪ থেকে ২৫ অক্টোবর।
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নিয়ে কমবেশি আলোচনা হলেও শিমু অভিনীত ‘বেলিফুল’ নিয়ে খুব বেশি কথা হয়নি। শিমু জানান, ২২ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাটির পরিচালক নিয়ইয়র্কভিত্তিক নির্মাতা আনিবা রহমান। সিনেমাটিতে বেলি নামে এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। পরিচালকের বারণ থাকায় গল্প নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাইলেন না। টরন্টো উৎসবের ওয়েবসাইটে সিনেমাটি নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে বেগমকে ঘিরে—চার প্রজন্মের নারীদের একটি পরিবারের তিনি অভিভাবক। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের ঢাকাকে পটভূমি করে নির্মিত ছবিটি এক দিনে বেগমের জীবনের নানা ঘটনা তুলে ধরে। সমাজের চোখে একজন “বহিরাগত” হিসেবে নিজের ঘর-সংসার গড়ে তুলতে গিয়ে বেগমকে যে আনন্দ, কষ্ট, টানাপোড়েন ও নানা বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেসবই এতে উঠে এসেছে।’