‘চিত্রা নদীর পারে’ ও ‘লালসালু’র পোস্টার। কোলাজ
‘চিত্রা নদীর পারে’ ও ‘লালসালু’র পোস্টার। কোলাজ

বাংলাদেশ বিমানে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ প্রদর্শন বন্ধ, যা জানাল কর্তৃপক্ষ

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে প্রদর্শিত হয়ে আসছিল তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’। তবে সম্প্রতি সিনেমা দুটি আর প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে। কেন সিনেমা দুটি প্রদর্শন করা হচ্ছে না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র দুটির পরিচালক ও প্রযোজক তানভীর মোকাম্মেলও ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’—দুটি সিনেমাই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে একাধিক বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে। তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘লালসালু’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, রওশন জামিল ও মুনিরা ইউসুফ মেমীসহ অনেকে। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘চিত্রা নদীর পারে’ ছবিতে অভিনয় করেছেন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ, রওশন জামিল ও সুমিতা দেবী প্রমুখ।

‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে চলচ্চিত্র সরবরাহের কাজ করছে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাজী রিটন জানান, তানভীর মোকাম্মেলের বেশ কয়েকটি সিনেমা তাঁদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমানে প্রদর্শিত হয়ে আসছে। তবে মাস দুয়েক আগে তাদের জানানো হয়, ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ আর প্রদর্শন করা হবে না।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে কাজী রিটন বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে, ছবি দুটি দশ বছরের বেশি সময় দেখানো হয়েছে। তাই আপাতত না দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে আবার দেখানো হবে।’

কথা হয় বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট বা বিমানের অভ্যন্তরীণ বিনোদনব্যবস্থা নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তার সিনেমা, টিভি শো এবং অডিওর তালিকা সাধারণত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিবর্তন করে থাকে। ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট মূলত লাইসেন্স চুক্তি, স্টোরেজের সীমাবদ্ধতা এবং যাত্রীদের সন্তুষ্টির কারণে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিবর্তন করতে হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তার প্রদর্শিত সিনেমা বা শোগুলোর মালিক নয় এবং মিডিয়া ব্রোকারদের কাছ থেকে কনটেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে সাময়িক প্রদর্শনের স্বত্ব কিনে প্রদর্শন করে বলে উল্লেখ করেন মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এই লাইসেন্সিং চুক্তিগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্ট্রিমিংয়ের অধিকার দেয়। প্রতি কনটেন্ট সাইকেল পরিবর্তনের সময় এয়ারলাইনস আইনত সেই কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে বাধ্য। তা ছাড়া একটি উড়োজাহাজের ভেতরের ফিজিক্যাল সার্ভার স্টোরেজ সীমিত থাকে। বিমানের হার্ডড্রাইভগুলোতে সীমাহীন মিডিয়া লাইব্রেরি রাখা সম্ভব নয় বলে নতুন কনটেন্ট যুক্ত করার জায়গা তৈরি করতে পুরোনো কনটেন্টগুলো মুছে ফেলতে হয়। যাত্রীদের সন্তুষ্টি ধরে রাখার জন্যও সিনেমা, টিভি শো এবং অডিওর তালিকা নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়।