বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নাটকটির ৫০তম মঞ্চায়ন করতে যাচ্ছে লোক নাট্যদল। এ উপলক্ষে আগামী শুক্রবার ‘মঞ্চায়নের পঞ্চাশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে লোক নাট্যদল। শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এই অনুষ্ঠান শুরু হবে। এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সভাপতি রামেন্দু মজুমদার।
বিশ্বকবির সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অনুদানে ২০১১ সালের ২ জুন লোক নাট্যদল বৈকুণ্ঠের খাতা প্রথমবারের মতো মঞ্চস্থ করে। নাটকটি বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও একাধিকবার ভারতের ত্রিপুরা ও আসামে অনুষ্ঠিত উৎসবে মঞ্চস্থ হয়েছে।
‘বৈকুণ্ঠের খাতা’র বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহিদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল হারুন, খায়রুল আলম, আনোয়ার কায়সার, জাহিদ চৌধুরী, বাসুদেব হালদার প্রমুখ। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন কামরুন নূর চৌধুরী।
চাটুকারিতা ও তোষামোদির মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার যে প্রবণতা মানবসমাজে বিরাজমান, তারই সরল ব্যঙ্গাত্মক কাহিনি রবীন্দ্রনাথ বর্ণনা করেছেন তাঁর ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নাটকে। এ নাটকের বিষয়বস্তু এ যুগেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
নাটকের গল্পটি এমন, ছোট ভাই, বিধবা মেয়ে নিরুপমা ও দীর্ঘদিনের গৃহকর্মী ঈশানকে নিয়ে বসবাস করেন লেখক বৈকুণ্ঠ। বৈকুণ্ঠ সংগীত ও প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সংগীতশাস্ত্রের উৎপত্তি ও ইতিহাস নিয়ে লেখেন। তাঁর ইচ্ছা, এই লেখাগুলো শুনে তাঁর পরিবারের সদস্যরা মতামত দেবেন।
কিন্তু সংসারের নানা টানাপোড়েনে বৈকুণ্ঠের লেখা শোনার ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরা উদাসীন। এই সুযোগে ধূর্ত ও সুযোগসন্ধানী কেদার বৈকুণ্ঠের মন জয় করার জন্য তাঁর লেখা শোনার ভান করে। তার উদ্দেশ্য ছিল, শ্যালিকার সঙ্গে বৈকুণ্ঠের ছোট ভাই অবিনাশের বিয়ে দেওয়া। এরপর বৈকুণ্ঠের বাড়িতেই আত্মীয় হয়ে বসবাস করা ও বৈকুণ্ঠকে উচ্ছেদ করা। শেষ পর্যন্ত তা–ই ঘটে। ফলে বৈকুণ্ঠের পরিবারে নেমে আসে নানা বিপর্যয়।