নাট্যকার মলয় ভৌমিকের ‘সুনাগরিকের সন্ধানে’ নাটকের একটি দৃশ্য
নাট্যকার মলয় ভৌমিকের ‘সুনাগরিকের সন্ধানে’ নাটকের একটি দৃশ্য

১৮ বছর পর নাটক ‘সুনাগরিকের সন্ধানে’

সুনাগরিকের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আত্মসংযম। নগরকর্তার স্ত্রীর জন্মদিনে পুরস্কৃত করার জন্য সুনাগরিকের নামে পাঁচ দিন ধরে না খেয়ে থাকা একজনকে নিয়ে আসলেন প্রহরীরা। ভাতের মতো অন্ন ত্যাগ করে থাকা মানে কঠিন আত্মসংযম, এই বিবেচনায় তাঁকে নিয়ে আসা। চোখ–মুখে পানি ছিটিয়ে তাঁর যখন চেতনা ফেরানো হলো, তখন তিনি দৌড়ে গিয়ে জন্মদিনের কেকে কামড় দিলেন। সুনাগরিকের কর্তব্য কী, প্রমাণ করতে তিনি বাকি কেকটা নগরকর্তার মুখের ওপর ছুড়ে মারলেন। এটি নাট্যকার মলয় ভৌমিকের ‘সুনাগরিকের সন্ধানে’ নাটকের একটি দৃশ্য। আজ সোমবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে নাটকটি পরিবেশিত হয়।

ব্যাঙ্গরসাত্মক কাহিনির এই নাটক ২০০৫ সালে শেষ মঞ্চস্থ হয়। ১৮ বছর পর নাটকটির ৪৭তম মঞ্চায়ন হলো। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যকার মলয় ভৌমিক। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুশীলন নাট্যদলের ৬৪তম প্রযোজনা। নাটকের শুরুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ধর্মান্ধতা, কূপমণ্ডূকতা ও আলোর বিরুদ্ধে সব প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করবে নাটক ‘সুনাগরিকের সন্ধানে।’

১৮ বছর পর নাটকটির ৪৭তম মঞ্চায়ন হলো

৪০ মিনিটের পুরো নাটকজুড়ে শিল্পীদের অভিনয়শৈলী ও ব্যাঙ্গরসাত্মক সংলাপ নগরকর্তার বুদ্ধিহীন কর্মকাণ্ড, তাঁর পণ্ডিতের জ্ঞানের অসারতায় দর্শকেরা যেমন হেসে গড়িয়ে পড়েছেন, তেমনি আমাদের সমাজব্যবস্থার ত্রুটিগুলো ফুটে উঠেছে। এসব দৃশ্য দেখে দর্শক একের পর এক করতালি দিয়েছেন।

নাটকে দেখা যায়, নগরকর্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে কী করা যায়, তা ঠিক করতেই সভাসদেরা গলদঘর্ম। শেষ পর্যন্ত গৃহকর্তা ঠিক করলেন, ওই দিন একটি গণশৌচাগার উদ্বোধন করবেন। এটি একটি জনহিতকর কাজ। এতেই যারপরনাই চটে যান গৃহকর্তী। গৃহকর্তা আপত্তি করে বলেন, জন্মদিনে কি কারও শৌচাগারের প্রয়োজন পড়তে পারে না। শেষ পর্যন্ত একজন সুনাগরিককে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই সুনাগরিক খুঁজতে পণ্ডিতের কাছে পরীক্ষা দিতে এলেন নাগরিকেরা।

সেখানে একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর সংজ্ঞা অনুযায়ী সুনাগরিকের গুণাবলি-বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক যাচাই করার জন্য বোর্ড বসানো হলো। সেখানে লেখাপড়া না করাই একজন সুনাগরিকের গুণাবলি হিসেবে ধরা হলো। এমন সব হাস্যকর প্রশ্নোত্তর পর্বে কোনো নাগরিকই উত্তীর্ণ হতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে না খেয়ে থাকা একজনকে আত্মসংযমী বলে তুলে আনা হলো। এভাবেই নাটকের কাহিনির শেষ হয়।

‘সুনাগরিকের সন্ধানে’ নাটকের একটি দৃশ্য

নাটকে নগরকর্তার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাকিবুল আলম, নগরকর্ত্রীর ভূমিকায় তানজীমা মাহজাবিন, নগরমন্ত্রী লিঙ্কন বিশ্বাস, নগর পণ্ডিত আরিফুল ইসলাম, ঘোষক ফাতিমা তুজ জোহরা ও সুব্রত কুমার হালদার, নগররক্ষী হৃদয় ভৌমিক, নাগরিক অন্তর মহান্ত, হৃদয় তালুকদার ও মোশাররফ হোসেন এবং নতর্কীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সাদিয়া আফরিন।