
নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে আগমন নায়ক ওমর সানির। শুরুর দিকে টানা কাজ করলেও একটা সময় অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। এই নায়কের জন্মদিন আজ। চলচ্চিত্র, পরিবার ও জন্মদিন উদ্যাপন নিয়ে কথা হলো তাঁর সঙ্গে।
শুভ জন্মদিন।
ধন্যবাদ।
জন্মদিন কীভাবে কাটাবেন?
জন্মদিন এলে সব সময় ভালো লাগে। কিন্তু ১৯ বছর ধরে জন্মদিনে খুব একটা আনন্দ পাই না। ২০০২ সালের এই মাসে আমার মা মারা যান। তাই বিষণ্ন থাকি। এ বছর এটা কম। এবারের জন্মদিনের ঠিক আগে সৃষ্টিকর্তা আমাকে আরেক মেয়ে (ছেলে ফারদীনের স্ত্রী) আয়েশাকে উপহার দিয়েছেন। আমার জন্য সে পাঞ্জাবি কিনেছে, কেক এনেছে। এখন আবার ওমর সানি ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবার তারা সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূলদের মধ্যে ইফতারি বিতরণ করবে বলে জানিয়েছে। বাড়ির পাশে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে এই আয়োজনে আমি অংশ নেব।
আপনি সে সময়ের জনপ্রিয় নায়কদের একজন। আপনার স্ত্রী জনপ্রিয় একজন নায়িকা। দুজন পার করছেন লম্বা সময়। জীবনে কোনো অপূর্ণতা আছে?
অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমার জীবনে কোনো অপূর্ণতা নেই। ব্যবসায়ী হিসেবে অপূর্ণতা থাকলেও সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া, তিনি সুস্থভাবে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন। জীবন চলার পথে মৌসুমীর মতো সুন্দর মনের একজন মানুষকে পেয়েছি। আমি অনেক ভাগ্যবান। তারকা মৌসুমীকে আমি চিনতে চাইনি, সব সময় মানুষ মৌসুমীকে চিনতে চেয়েছি। একজন স্ত্রী, মা হিসেবে সবাইকে যেভাবে আগলে রাখে, এটা সত্যিই অসাধারণ। এখন তার মধ্যে আমি একজন শাশুড়িকেও দেখছি। সে তো আরও অসাধারণ।
জন্মদিনে মৌসুমীর কাছ থেকে চমকে যাওয়ার মতো কোনো উপহার পেয়েছেন?
সবচেয়ে বড় চমক পেয়েছিলাম এক জন্মদিনের মাস দুয়েক আগে। এই চমকের খবরটা মৌসুমী আমাকে দিয়েছিল ১৭ বছর আগে। আমরা তখন কলকাতায়। ছেলে ফারদীনসহ আমাদের সঙ্গে আরও পরিচিত কয়েকজন ছিল। ফেব্রুয়ারি কিংবা মার্চেই আমাকে আগাম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিল। বললাম, এত আগে কেন জানাচ্ছ? তখন তারা বলল, তুমি আবার বাবা হতে যাচ্ছ। মেয়ে ফাইজার জন্মের খবর তখনই দিয়েছিল। এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চমক।
এখন আপনার ছেলে-মেয়েরাও বড় হয়েছে। কে বেশি চমকে দেয়, ছেলে, মেয়ে, নাকি স্ত্রী?
আমরা দুজনই এখন ছেলে-মেয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছি। তারা দুজনই নানাভাবে মা-বাবাকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করে।
আপনারা দুজনেই দাপুটে নায়ক-নায়িকা। এই অঙ্গনে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আসার কোনো ইচ্ছা নেই?
আমরা আসলে তাদের আগ্রহের দিকটা বোঝার চেষ্টা করেছি। তাদের মধ্যে ক্যামেরার সামনে আসার কোনো আগ্রহ ছিল না। আমাদের ছেলে ফারদীনের ক্যামেরার পেছনে আগ্রহ ছিল বেশি। তাই ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ফিল্ম অব টেকনোলজি বিষয়ে পড়িয়েছি।
আপনাকে নিয়ে ফেসবুকে মাঝেমধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত আলোচনা দেখা যায়। কীভাবে দেখেন এসব?
আমাকে নিয়ে যারা অহেতুক ট্রল করে, তারা সত্যিই মূর্খ। ক্ষেত্রবিশেষে এদের আমি অসুস্থও মনে করি। যেকোনো তারকাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলে তারা আলোচনায় থাকতে পছন্দ করে। এখন আবার ইউটিউবারের অভাব নেই। তারা তারকাদের নিয়ে ইউটিউবে কনটেন্ট বানিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। তাই তাদের নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই।
করোনা কারণে বেশির ভাগ সময় বাসায় থাকতে হচ্ছে। কী করে সময় কাটে?
পুরোনো দিনের ছবি দেখি। এখনকার ছবিও দেখি। বিশ্ব সিনেমার ট্রেন্ড বোঝার চেষ্টা করি। ঘরে বসে বিভিন্ন ইভেন্টেও অংশ নিই। প্রতিদিন শরীরচর্চা করি। ওজন বেড়ে যাওয়ায় এখন বাসার বাইরে প্রতিদিন দুই কিলোমিটার নিয়ম করে হাঁটি। মাঝেমধ্যে সবাই মিলে রান্নাবান্নাও করি।
নতুন কী পরিকল্পনা করছেন?
মাস দুয়েক আগে তিনটি ছবির শুটিং শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আরও জটিল। আমাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কপোতাক্ষ ঘর’ থেকে ছবি নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছি। এই বছরে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
সাক্ষাৎকার: বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা