চরকির ভৌতিক সিরিজ ষ–এর তৃতীয় পর্ব ‘লোকে বলে’–তে অভিনয় করেছেন তাসলিমা হোসেন। অভিনয় সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না তাঁর। সেই অভিনয়ই তাঁকে এখন স্বপ্ন দেখায়, আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। ক্যারিয়ার ও নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন তিনি

‘লোকে বলে’ প্রচারের পর কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
ওটিটি মুক্তিপ্রাপ্ত আমার প্রথম কোনো কাজ। প্রচারের পর থেকেই সাড়া পাচ্ছি। যেমন আজ (গতকাল) আমি ধানমন্ডি ২৭–এ একটি মেলায় এসেছিলাম। মাস্ক পরে ঘুরছি। কয়েকজন দেখেই বলেছেন আপনি কি চরকির ভূতের গল্পের অভিনেত্রী, আপনার কাজটি ভালো ছিল। অনেকেই কাজটি মনোযোগ দিয়ে দেখেছেন। বন্ধুরাও বেশ প্রশংসা করেছেন। আমি খুব খুশি।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
এত সুন্দর লোকেশন, চিত্রনাট্য আর সহকর্মী সব মিলিয়ে অসাধারণ ছিল। আমরা গাড়ি রেখে এক ঘণ্টা নৌকায় যেতাম লোকেশনে। শুটিং করতাম, সেখানে ড্রেস পরিবর্তন করার জায়গা ছিল না। শুধু ড্রেস পরিবর্তন করার জন্য পাহাড়ের ওপরে ৭০টি সিঁড়ি বেয়ে উঠতাম আর নামতাম। পরিচালক যখন বলতেন ড্রেস পছন্দ হয়নি, তখন মনেই হতো না ৭০টি সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হবে। আমি এতটাই এক্সাইটেড ছিলাম যে পাহাড়ের ৭০টি সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা কিছুই মনে হতো না। কাজের সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি মানিয়ে নিয়েছিলাম।
ভূতের ঘটনা নিয়েই লোকে বলে, ভূতের ভয় পেয়েছেন কখনো?
শুটিংয়ে আমার সঙ্গে অদ্ভুত একটি ঘটনা ঘটে গেছে। একটি দৃশ্য ছিল, গীতশ্রী আন্টি আমার সহকর্মী। তিনি একটি দৃশ্যে গালে হাত বুলিয়ে বলবেন, কী সুন্দর মুখ! তার আগের অংশ ছিল, আমি মিশু ভাইয়ের সঙ্গে বসে কথা বলব। তো শুটিং করছি। এর মধ্যেই একটি কোমল হাত আমার গালে বুলিয়ে দিয়ে বলে, কী সুন্দর মুখ! আমি তখন প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে পরিচালক নুহাশ বললেন, ভৌতিক আবহ তৈরির জন্য আন্টিকে হঠাৎ পাঠিয়েছেন। তখন থেকেই ভয়ের মধ্যে ছিলাম।
অভিনয়ের শুরুটা কীভাবে?
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগে মাস্টার্সে পড়ি। চার বছর ধরে ভয়েস অ্যাকটিং করি। তখনই আমার কিছু বিজ্ঞাপনের কাজ করার সুযোগ হয়েছে। অ্যাপল বক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ করি। কিছু বিজ্ঞাপন দর্শকপ্রিয়তাও পেয়েছে। সেই কাজের সূত্র ধরেই নুহাশ হুমায়ূনের সঙ্গে আমার পরিচয়।
কবে থেকে মনে হয়েছে অভিনয় করবেন?
আমি কখনোই অভিনয় করতে চাইনি। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স ভর্তির সুযোগ পেয়ে যাই। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে চাইনি। বাধ্য হয়েই ভর্তি হই। আমি কিছু না জেনেই অভিনয় নিয়ে পড়তে এসেছিলাম। থিয়েটার বিভাগ নিয়েই আমার জ্ঞান ছিল শূন্য। এই বিভাগে পড়ার সম্ভাবনাগুলো আমি আবিষ্কার করতে থাকি। যতই অভিনয় নিয়ে জানতে থাকি, ততই আমার মধ্যে অভিনয়ের আগ্রহ জন্মায়। পড়তে পড়তে মনে হলো, আমার এ সিদ্ধান্তই সঠিক। আমাদের বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ জামিল আহমেদ স্যার আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছেন।
নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস তৈরি হলো কীভাবে?
আমাকে দিয়ে অভিনয়টা হচ্ছে তো (হাসি)। একসময় মনে হলো, অভিনয় যদি না–ও করি, তাহলে ক্যারিয়ার হিসেবে হয়তো বিভাগের শিক্ষক হতে হবে, নয়তো অভিনয় নিয়ে ওয়ার্কশপ করাতে হবে। তখন মানুষকে অভিনয় শেখানো পেশা হতো। এ জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, অভিনয়টাই করব।
আপনার সহপাঠীরা কি সবাই অভিনয় করবেন?
না, অনেকেই বিসিএসসহ অন্যান্য চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সেই জায়গা থেকে পেশা হিসেবে অভিনয় নিতে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়নি?
সেটা তো আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে থাকেই। কিন্তু অভিনয়টা এখন আর চ্যালেঞ্জিং মনে হয় না। কারণ, চার বছর ধরে আমি ভয়েস অ্যাকটিং করি। এর মধ্য দিয়ে আমি অভিনয়টাকে ওন করেছি। এখন অভিনয় করতে আমার কাছে অনেক মজা লাগে।
অভিনয় নিয়ে পরিবারের লোক কী বলেন?
অভিনয় নিয়ে আমার মা–বাবা খুবই খুশি। তাঁরা আমাকে শতভাগ সহযোগিতা করেন। আমার কাজের সবচেয়ে বড় সমালোচক আমার মা ও বাবা। আমার কাজগুলো দেখে মা সব সময় বলেন, এই পোশাকের চেয়ে অন্যটা পরলে ভালো হতো। বাবা বলেন, এখানে অভিনয় আরও ভালো হতে পারত। পরে দেখলাম আমাদের বাসার লাইব্রেরিতে নাটক নিয়ে অনেক বই। সেগুলো মা-বাবা পড়তে দিলেন। অভিনয় নিয়ে আমার আগ্রহে মা–বাবা এতটা সম্মান জানাবেই ভাবিনি।
আর কী কী কাজ করছেন?
আবরার আতাহারের পরিচালনায় চরকির জন্য আরও একটি কাজ করেছি। বিজ্ঞাপন ও ওটিটির কিছু কাজ করছি। পড়ালেখা শেষ করে পুরোদমে অভিনয় করে যেতে চাই।