২৪ ডিসেম্বর ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে মাঈনুল আহসান নোবেল–এর নতুন গান ‘আশ্বাস’। আবদুল্লাহ আল মামুনের লেখা গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সালমান জেইম। গতকাল এল ‘মুখোশ’ ছবিতে তাঁর গাওয়া টাইটেল গানটি। এসবসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
নতুন গানে দর্শকের সাড়া নেই কেন?
অনেক দিন নতুন কোনো গান প্রকাশ করিনি, এ কারণে হতে পারে। আবার এ–ও হতে পারে চ্যানেলটা তেমন পপুলার নয়।
বিগত দিনে দেখা গেছে, নোবেলের গান প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে শুনেছেন। এক দিনের মাথায় লাখ লাখ ভিউ হয়েছে, কিন্তু এবার...
বুঝতে পারছি না, কেন এমন হলো। এমনও হতে পারে, নোবেলের নামটা দর্শকের কাছে চাপা পড়ে গেছে (হাসি)। তবে গানটি কিন্তু অনেক সুন্দর।
নাকি নোবেলের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে?
আসলে মার্কেটে জনপ্রিয় কে? আমাকে এখানকার তথাকথিত জনপ্রিয়দের সঙ্গে তুলনা করে লাভ নেই। আমি তাদের সঙ্গে খেলতেও চাই না। জেমস ভাই তো অনেক দিন নতুন গান প্রকাশ করেন না। তাঁর জনপ্রিয়তায় কি ভাটা পড়েছে? যদি খেলতেই হয়, জেমস ভাইয়ের সঙ্গে খেলব। মার্কেটের সবার সঙ্গে কেন খেলব? আমি তো এখানকার মার্কেটের লোকই নই, আমি তো ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটের লোক।
অনেক দিন ধরে ফেসবুক থেকে শুরু করে কোথাও আপনাকে নিয়ে আলোচনা নেই। কারণ কী?
দর্শক-শ্রোতা গান শুনলেই তো আমার সফলতা, আমার পরিচিতি। বছরজুড়ে অডিও-ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেক থেকে এক ডজন গান বের করার কথা ছিল। গানগুলো করতে পারলে সারা বছরই শ্রোতাদের সঙ্গে থাকা যেত। কিন্তু সাউন্ডটেকের সঙ্গে কাজের শুরুতেই জঘন্য অভিজ্ঞতা হয়েছে। পরে আর তাদের সঙ্গে কাজ করিনি। এখন আর এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা নেই আমার। ‘আশ্বাস’ গানটি আমার নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে বানিয়েছি। অডিও প্রতিষ্ঠানগুলো কোটি কোটি টাকার মালিক, আমার তো অত টাকা নেই। নিজের যা আছে, তা–ই দিয়ে মাঝেমধ্যে এ রকম কোয়ালিটিফুল কাজ করব।
প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে একক উদ্যোগে গান নিয়ে দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছানো যাবে?
অডিও প্রতিষ্ঠানের মতো হয়তো অতটা ফোকাসড হব না, তবে যাবে। আমার খুব বেশি তাড়াহুড়া নেই। একটা সময় দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছানো যাবেই। আমার নিজেরও একটা রেকর্ড লেবেল করার ইচ্ছা আছে। পাশাপাশি নিজের ইউটিউব চ্যানেলকেও এগিয়ে নিতে কাজ করব। তবে আমার একটাই কথা, নিয়মিত ভালো গান দিতে পারলে দর্শক-শ্রোতার অভাব হবে না।
কিন্তু বেশ কদিন ধরে নোবেল নিজেও চুপচাপ। কেন?
সামনে একটা লম্বা রেস খেলব, এ কারণে একটু জিরিয়ে নিচ্ছি। তা ছাড়া চুপচাপ থাকার আরও কারণ আছে। এই সময়ে নিজের ভুলগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছি। মানুষমাত্রই ভুল করে। বেশ কয়েকবার আমার ভুল হয়েছে। সামনে যে ভুল হবে না, তা–ও তো নয়। তবে সামনে ভুল হলে যাতে অন্য রকমের ভুল হয়, একই রকমের ভুল যেন না হয়, সেই চেষ্টা করব।
গানের বর্তমান বাজারটাকে কীভাবে দেখছেন?
বর্তমান বাজার নিয়ে আর কী বলব, ভাবি, যদি আবার সিডি-ক্যাসেটের যুগ ফিরে আসত! তাহলে শান্তিতে গানবাজনা করা যেত। আগে ১০-১১টা গান পরপর একসঙ্গে শোনা যেত। এ জন্য একটি সিডি কিনতে হতো। আর এখন ১০টা গান একসঙ্গে ছাড়লে চাইলেই ফরোয়ার্ড করা যায়, চাইলেই নেক্সট বাটন টেপা যায়। একজন শিল্পী চার-পাঁচ মাস ধরে কষ্ট করে গান বানান। সেই গানের মূল্য ‘নেক্সট’ বাটনে চাপ দিলেই শেষ। সিডি-ক্যাসেটের যুগই ভালো ছিল।
নতুন কাজের খবর কী?
বাংলাদেশের সিনেমায় গাওয়া আমার প্রথম গান প্রকাশিত হয়েছে। ইমন চৌধুরীর সুর ও সংগীত পরিচালনায় ‘মুখোশ’ ছবির টাইটেল গান। গানটির জন্য অপেক্ষা করছি। পরপরই তরুণ মুনশির কথা ও সুরে ‘অপরাধ’ শিরোনামে আরেকটি অডিও গান আসবে।
স্টেজ শো শুরু করেছেন নিশ্চয়ই?
প্রায় প্রতিদিনই শো করছি। গতকাল ছিল, আজও আছে। করপোরেট শোই বেশি করছি। তবে ফেসবুকে কোনো আওয়াজ দিয়ে শো করছি না। চুপচাপ থেকেই স্টেজ শো করছি। আওয়াজে বিশ্বাসী নই। এতে আরও শত্রু বাড়ে।
স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের সর্বশেষ খবর কী?
পারসোনাল ম্যাটার নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। অন্য কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারেন। এসব বিষয় আর কিছুই শেয়ার করব না। করলে আবার নতুন বিতর্কের জন্ম হবে।