জাহিদ হাসান। ছবি : সাবিনা ইয়াসমিন
জাহিদ হাসান। ছবি : সাবিনা ইয়াসমিন

মোশাররফ করিমের সঙ্গে আমার কোনো প্রতিযোগিতা নেই: জাহিদ হাসান

বিরতি দিয়ে সিনেমায় ফিরে আলোচনায় এসেছিলেন। এবার চার বছর পর নাটকে ফিরেই প্রশংসা পাচ্ছেন। সাম্প্রতিক নানা প্রসঙ্গে প্রথম আলোর মুখোমুখি অভিনেতা জাহিদ হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম

প্রশ্ন

সিনেমার পরে নাটকে ফিরেও আলোচনায়, নিয়মিত অভিনয় করেন না কেন?

জাহিদ হাসান : আমি তো নিয়মিতই অভিনয় করতে চাই; কিন্তু ভালো গল্প–চরিত্র পাচ্ছি না। গতানুগতিক কাজ করে কী হবে।

প্রশ্ন

‘উৎসব’–এর সফলতার পরে আর সিনেমা করলেন না কেন?

জাহিদ হাসান : স্ক্রিপ্ট আসে না। আরেকটি সিনেমা নিয়ে কথা হয়েছিল। আমি সায় দিয়েছিলাম। সেটাও এখন কী অবস্থায় রয়েছে, জানি না।

প্রশ্ন

দুই বছরে নাটক–সিনেমা মিলিয়ে কতগুলো চিত্রনাট্য আপনার কাছে এসেছে?

জাহিদ হাসান : সংখ্যাটা বলার মতো না। বলতে গেলে চিত্রনাট্য আসেইনি। এর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা ছিল। আর নাটকে দীর্ঘদিন অভিনয় করি না ভেবে হয়তো অনেকেই মনে করেছেন আমি নাটক করছি না। সে কারণে হয়তো নাটকের চিত্রনাট্য আসছে না। আমি ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় রয়েছি।

প্রশ্ন

চিত্রনাট্য না আসায় মন খারাপ করে?

জাহিদ হাসান : জীবনটা সব সময় একরকম যায় না। এখন নানা কারণেই মন খারাপ হয়। আমাদের সেই দিনগুলো যেমন নেই, তেমনি আগের মতো ভালো কাজের সংখ্যা কমছে। চেনা সহশিল্পীরা অনেকেই নাটক থেকে দূরে। নাটকের জায়গাটা আগের মতো নেই। সেখানে চিত্রনাট্য না আসায় কিছুটা মন খারাপ করে। এতে আমার তো কোনো হাত নেই।

জাহিদ হাসান। ছবি : সাবিনা ইয়াসমিন
প্রশ্ন

এ সময়ের তরুণদের মধ্যে কতটা সম্ভাবনা দেখেন?

জাহিদ হাসান : আমার তো খুব বেশি নতুনদের কাজ দেখা হয় না। শুনছি অনেকেই চেষ্টা করছে। কেউ ভালো করছে। তবে (মোস্তফা কামাল) রাজের ‘পথহারা মন’ নাটকে খায়রুল বাসার ছিল। ওর অভিনয় দেখে মনে হয়েছে ছেলেটা চেষ্টা করে। বাসার অভিনয়ে আরও ভালো করবে। তার আরও বেশি ডেডিকেশন দরকার। ওর মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। আর সম্ভাবনাময় শিল্পী তৈরি হওয়ার জন্য ভালো মেকার যেমন দরকার, তেমনি অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে স্থিরতা দরকার।

প্রশ্ন

স্থিরতা বলতে কী বোঝাচ্ছেন?

জাহিদ হাসান : সবকিছু খাইতে গেলে হবে না। সব কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন কাজ করব আর কোনটা করব না। আরেকটা বিষয়, এখানে তরুণদের অনেকের কোনো দোষ নেই। কারণ, তাদের অনেকের ভিউয়ের কারণে সব কাজই বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। সবার কাছ থেকে আলাদা হওয়ার জন্য এখানেই বুদ্ধি খাটিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

জাহিদ হাসান
প্রশ্ন

চরকির কার্নিভ্যালে মোশাররফ করিমের অভিনয়ের প্রশংসা করছিলেন...

জাহিদ হাসান : মোশাররফ আমাদের ছেলে। আমাদের দলের ছেলে। সেটা বড় কথা না। বড় কথা, কারও কোনো একটি কাজ ভালো হয়েছে, আমি ভালো বলব না! মোশাররফ করিমের সঙ্গে তো আমার প্রতিযোগিতা নেই। সে ভালো অভিনয় করেছে, সেজন্যই ডেকে প্রশংসা করেছি। যে কেউ ভালো করলে তার প্রশংসা করা উচিত। কারও বদনাম লুকিয়ে, প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে হয়। কেউ একজন ভালো করছে, এই ভালোটা লুকিয়ে রাখাটাও অপরাধ। তাহলে আমি সত্য গোপন করছি।

প্রশ্ন

প্রশংসা কেন দরকার?

জাহিদ হাসান : আমরা কাজ করি ফিডব্যাকের প্রত্যাশায়। সেখানে আলোচনা–সমালোচনা থাকবে। এটা অভিনয়শিল্পীকে অনেক কিছু শেখায়। প্রশংসা একজন অভিনয়শিল্পীকে ইন্সপায়ার করে। তার কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। মানসিকভাবে সে খুশি থাকে। নিজেকে বুঝতে পারে। এটা শিল্পীর জন্য খুবই দরকার।

প্রশ্ন

কখনো কি আপনার নামে বদনাম ছড়িয়েছে, এমন কিছু শুনেছেন?

জাহিদ হাসান : আমার নামে অনেকেই বদনাম ছড়ায়, এটা আমি প্রায়ই শুনি। কারও সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ঠিক নয়। এখন যদি কেউ সেই অসত্য তথ্য ছড়িয়ে আনন্দ পায়, আমার বলার কী আছে।

জাহিদ হাসান। ছবি : সাবিনা ইয়াসমিন
প্রশ্ন

কীভাবে এগুলো ছাড়াচ্ছে?

জাহিদ হাসান : কেউ আমাকে নিয়ে ফেসবুকে ইচ্ছা করে লিখছে। সেটা বিচার-বিবেচনা না করেই আরেকজন শেয়ার করছে। তারপর আমার নামে নানা কথা ছড়িয়ে যাচ্ছে। অনেক মিথ্যা কথাও অনেক সময় মন খারাপ করে।

প্রশ্ন

আগের মতো কোনো আয়োজনেও আপনাকে দেখা যায় না...

জাহিদ হাসান : ইচ্ছা করেই অনেক জায়গায় যাই না। যেতে ইচ্ছা করে না। যে কারণে বাসাতেই বেশি থাকা হয়। আমার ব্যবসা দেখছি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটে। বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটে। এভাবেই চলছে।

প্রশ্ন

সুস্থ থাকতে কী করেন?

জাহিদ হাসান : তেমন কিছু করি না। হালকা কিছু ব্যায়াম। আগে অনেক কিছু করতাম। এখন করা হচ্ছে না। পার্কে হাঁটতেও কম যাই। এটা প্রায়ই মনে হয়, নিজেকে আরও সময় দেওয়া উচিত।

চরকির কার্নিভ্যালে জাহিদ হাসানের মুখে অভিনয়ের প্রশংসা শুনে চুপ হয়ে গেলেন মোশাররফ করিম