২৩ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করা হয়।
২৩ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করা হয়।

ভিডিওটি দেখে খুশি হয়েছি, সাক্ষাৎকারে ‘মহাজাদু’ গায়িকা

২৩ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটির আবহ সংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হয় ‘মহাজাদু’। সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে কোক স্টুডিও বাংলার গানটিতে কণ্ঠ দেন তাজিক সংগীতশিল্পী মেহরনিগর রুস্তম। গত বুধবার রাতে মেহরনিগরের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছেন মকফুল হোসেন

প্রশ্ন

আনোয়ার ইব্রাহিমের ফেসবুক পেজের ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামের বায়োতে শেয়ার করেছেন দেখলাম। ভিডিওটি কখন আপনার নজরে এসেছে?

মেহরনিগর রুস্তম: শুরুতে বিষয়টি খেয়াল করিনি। পরে অনেকে ভিডিওটি আমাকে ট্যাগ করছিলেন। তখন বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বুঝতে পারলাম, তাঁরা আমাদের গানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভিডিওতে ব্যবহার করছেন। সত্যি বলতে, আমার গুজবাম্প (রোমহর্ষ) হচ্ছিল। এটা আমার জন্য গর্বের। হাবিবও (ওয়াহিদ) ভিডিওটি আমাকে ইনস্টাগ্রামে পাঠিয়েছে আজ (বুধবার)। ভিডিওটি দেখে খুশি হয়েছি।

এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের, গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতিও বটে। আমি সত্যিই গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। ভিডিওতে আমাদের ফারসি ভাষার অংশটুকু শুনে খুবই আনন্দিত হয়েছি। গানটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। সংগীত দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষকে একত্র করতে পারে। বিষয়টি আমার কাছে অনেক বড় একটি প্রাপ্তি। আমি খুবই আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি। গানটি বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে, এটি সত্যিই ভালো লাগার।

মেহরনিগর রুস্তম
প্রশ্ন

গানটি তো আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে...

মেহরনিগর রুস্তম: আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। গানটিতে কাজ করতে আমি বাংলাদেশে উড়ে যাই। আমরা টানা ১০ দিন কাজ করেছি। তখন পবিত্র রমজান মাস ছিল। তাই আমরা রোজা রেখেই ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শুটিং করেছি। কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। আমরা আজ সেই পরিশ্রমের ফল পাচ্ছি।

প্রশ্ন

গানটি আপনার ক্যারিয়ারে কতটা প্রভাব ফেলেছে?

মেহরনিগর রুস্তম: পেশাগত ও ব্যক্তিগত—দুই দিক থেকেই এটি অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে কাজ করাটা আমার জন্য সম্মানের ছিল। যাঁরা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন, আমাকে সুযোগটি দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। সংগীত আমাদের দুই সংস্কৃতিকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। সত্যি বলতে, বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে এত ভালোবাসা পাব, তা কখনো কল্পনাও করিনি। তাঁদের আন্তরিকতা ও সমর্থন আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দেন তাজিক সংগীতশিল্পী মেহরনিগর রুস্তম
প্রশ্ন

হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

মেহরনিগর রুস্তম: তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাটা ছিল নিখাদ আনন্দের। তিনি অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন শিল্পী। সংগীত সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ও বোঝাপড়া ব্যাপক। তিনি খুবই সদয়, বিনয়ী ও বন্ধুসুলভ। রেকর্ডিংয়ে তিনি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। ফলে একসঙ্গে কাজ করাটা খুব সহজ ও উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল।

মেহরনিগর রুস্তম
প্রশ্ন

বাংলাদেশে কোথায় ঘুরেছিলেন, কী খেয়েছেন?

মেহরনিগর রুস্তম: সত্যি বলতে, স্টুডিও, শুটিং লোকেশন আর হোটেলের বাইরে খুব বেশি কিছু দেখার সুযোগ আমার হয়নি। কারণ, তখন রমজান মাস ছিল। আমরা পুরোপুরি কাজেই মনোযোগী ছিলাম। পুরো সময়টাই আমি খুব ব্যস্ত ছিলাম।
তবে যখনই একটু অবসর পেয়েছি, নিজের জন্য কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলাম। এমনকি কিছু ঐতিহ্যবাহী পোশাকও কিনেছিলাম। স্থানীয় খাবারও খেয়েছি, আর সেগুলো ছিল খুবই সুস্বাদু। খাবারগুলো কিছুটা ঝাল ছিল, ভারতীয় খাবারের মতো, কিন্তু আমি বেশ উপভোগ করেছি। আমার শুধু ইতিবাচক স্মৃতিই রয়েছে। আমি সত্যিই আশা করি, কোনো একদিন আবার বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারব।

মেহরনিগর রুস্তম
প্রশ্ন

বাংলাদেশের সংগীত সম্পর্কে আগে কতটা জানতেন?

মেহরনিগর রুস্তম: সত্যি বলতে, এর আগে আমি বাংলাদেশি গান খুব একটা শুনতাম না। আমি শুধু একটি গান শুনেছি, সেটি ‘জোছনা করেছে আড়ি’। তাজিকিস্তানে আমার একজন শিক্ষক একসময় আমাকে গানটি শিখিয়েছিলেন। এর বাইরে বাংলাদেশ সম্পর্কে আমার প্রায় কিছুই জানা ছিল না।

মেহরনিগর রুস্তম
প্রশ্ন

সামনে আপনাকে আর কোনো বাংলা গানে পাওয়া যাবে?

মেহরনিগর রুস্তম: অভিজ্ঞ কোনো সংগীত প্রযোজকের কাছ থেকে আবার প্রস্তাব পেলে কাজ করব। এমনকি বাংলায় গানও করতে চাই। সংগীতের মাধ্যমে এই সুন্দর বন্ধনকে আরও গভীর করতে আমি মুখিয়ে আছি।