ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘পয়জন’। শেষ করেছেন ঝামেলা নামের সিনেমার শুটিং। এখন ঈদের নাটক নিয়ে ব্যস্ত। ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গে গত বুধবার দুপুরে প্রথম আলোর মুখোমুখি হলেন অভিনেতা আবু হুরায়রা তানভীর। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মনজুরুল আলম
কোথায় আছেন?
আবু হুরায়রা তানভীর: বাসাতেই আছি। মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম। গতকাল রাত তিনটার পর শুটিং প্যাকআপ হয়েছে। ঘুমাতে ঘুমাতে ভোর হয়ে গিয়েছিল।
এত রাতে কিসের শুটিং?
আবু হুরায়রা তানভীর: চলচ্চিত্র উৎসবকে টার্গেট করে একটা এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। পুরোটাই রাতের গল্প। সন্ধ্যা থেকে শুটিং শুরু। এর গল্প, চরিত্র নিয়ে কিছুই বলা যাবে না। চরিত্র নিয়ে এটুকু বলতে পারি, আমার বেশির ভাগ কাজই এক্সপেরিমেন্টাল। কমেডির বাইরে আমাকে সিরিয়াস গল্পগুলোতেই বেশি ডাকে।
ঝামেলাও কি একই রকম?
আবু হুরায়রা তানভীর: বলা যায়। এটাও চলচ্চিত্র উৎসবকে টার্গেট করে নির্মিত। আমি, শ্যামল মাওলাসহ অনেকে কাজ করেছি। পোস্টের কাজ চলছে। এটিও দারুণ সিনেমা হবে। আমাদের এখানে আর্টিস্টিক–ঘরানার সিনেমার চিত্রটা আসলে বদলাতে শুরু করেছে।
শুটিং শেষ হলে চরিত্রগুলো কতটা আপনার মধ্যে থাকে?
আবু হুরায়রা তানভীর: আমি সব সময় চরিত্র ভুলে যেতে চাই। কোনো চরিত্র বা গল্প আমি মনে রাখতে চাই না। আমি নতুন চরিত্র নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই।
ব্যক্তিগত জীবনে অভিনীত চরিত্র কোনো প্রভাব ফেলে?
আবু হুরায়রা তানভীর: আমরা তো ইতিবাচক–নেতিবাচক—সব চরিত্রেই অভিনয় করি। কিন্তু কোনোটিই তো আমি নই। এখন আমি যদি ওই চরিত্র থেকে বের না হতে পারি, এটা আমার মনস্তাত্ত্বিক জায়গায় থেকে যায়। এটা প্রভাব ফেলে, আমি মানসিকভাবে ভালো থাকি না।
শুটিংয়ের পর এটা নিয়ে কোনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে?
আবু হুরায়রা তানভীর: পরিচালক জাহিদ প্রীতমের তিলোত্তমা নামে একটি কাজ করেছিলাম। শুটিং শেষে চরিত্র থেকে বের হতে ১০ দিনের মতো লেগেছে। এই চরিত্রটা ছিল ট্র্যাজিক। প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার পর মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া তরুণের গল্প। ইমোশনাল একটা ব্যাপার ছিল। শুটিংয়ের পর আমি মানসিকভাবেই ভেঙে পড়েছিলাম। ট্রমার মধ্যে ছিলাম। ১০ দিন লেগেছে চরিত্র থেকে বের হতে। এ সময় সিনেমা দেখা, আড্ডা দিয়ে সময় কেটেছে।
আপনার পছন্দের সিনেমা কোনটা?
আবু হুরায়রা তানভীর: কয়েক বছরের মধ্যে আমার পছন্দের সিনেমা ১৯১৭। সিনেমাটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। এর গল্প, ক্যামেরার কাজ দুর্দান্ত। সিনেমাটি এখনো আমার মাথায় রয়ে গেছে। এর আগে ডার্ক ম্যাটার সিরিজ খুব ভালো লেগেছে। আসলে সিনেমা, সিরিজ দেখা বা বই পড়তে ইচ্ছা করে, কিন্তু সময় পাই না।
পরিবারে সময় দেওয়া নিয়ে অভিযোগ থাকে?
আবু হুরায়রা তানভীর: পরিবারকে সময় দিতে পারি না, এটা নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ থাকে। যে কারণে টানা কাজ করে বাসায় এসে খুব বেশি সিনেমা দেখা বা বই পড়া হয়ে ওঠে না। এই সময় পরিবারকে দিতে হয়। যে কারণে গত এক মাসে তেমন সিনেমা ও টানা বই পড়তে পারিনি। জীবনটা ব্যালেন্স করেই চালাতে হয়।
সর্বশেষ কোনো বাংলা সিনেমা দেখে ভালো লেগেছে?
আবু হুরায়রা তানভীর: আমি বাংলাদেশের তুফান ও তাণ্ডব দেখে উচ্ছ্বসিত। সিনেমা দুটিতে এক্স ফ্যাক্টর বেশি থাকলেও ভালো লেগেছে। গল্পের চেয়ে অ্যাকশননির্ভর। শাকিব খান মানেই তো এখন আলাদা কিছু বোঝায়। আগামী ঈদেও শাকিব খানের সিনেমা দেখব, তানিম নূরের বনলতা এক্সপ্রেস দেখব। ঈদে আমার অনেক সিনেমা দেখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় নিয়ে পরিকল্পনা কী?
আবু হুরায়রা তানভীর: ইচ্ছা আছে বড় পরিসরে সিনেমা করব। সেই পরিশ্রম করে যাচ্ছি, কিন্তু তাড়াহুড়া নাই। আর আমার কী এমন বয়স। ক্যারিয়ারের এই সময়ে তাড়াহুড়া করাটা বোকামি।
কেন বোকামি মনে হয়?
আবু হুরায়রা তানভীর: দেখুন, এখন কিন্তু ফেসবুকে কারও কোনো ভিডিও ভাইরাল হলেই সে ভাইরাল। কিন্তু এভাবে কেউ দর্শকদের মনে কি দাগ কাটতে পারছে? ওইভাবে একজন শিল্পীকে চিন্তা করা উচিত নয়। আমি নিজে মনে করি অভিনয় দিয়ে একটু একটু করে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে হবে। তাহলে আমার স্থায়িত্ব দীর্ঘস্থায়ী হবে। নিজেকে ভাঙছি, নতুন করে তৈরি করছি সুন্দর কিছুর জন্য। আমি টিকে থাকতে চাই।
ওয়েব ফিল্ম পয়জন মুক্তি পেল, সামনে আর কী কী আসছে?
আবু হুরায়রা তানভীর: আমার ভিন্নধরনের একটা কাজ পয়জন। ওটিটির পর এটা ইউটিউবে ১০ দিনেই ১০ লাখের বেশি দর্শক দেখেছেন। নতুন করে প্রশংসা পাচ্ছি। এদিকে স্যাটায়ার কাজ খুব কম করেছি। মাসুদ সেজান ভাইয়ের পরিচালনায় এ ধরনের একটি কাজ নির্বাচনের আগে আসবে। এখন ঈদের কাজ নিয়ে টানা ব্যস্ততা। চাঁদরাত পর্যন্ত শুটিং চলবে।