
জীবন নিয়ে শতভাগ আশাবাদী মানুষ কি খুঁজে পাওয়া যায়? কখনো জীবন নিয়ে নিরাশ হননি, এমন মানুষ সুলভ নয়। তাই বলে কী পৃথিবীতে না পাওয়াই সব? ঠিক এ কঠিন প্রশ্নেরই সহজ উত্তর দিয়েছে সৌল।
এবারের অস্কার আসরে সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্মের ট্রফি জিতেছে ছবিটি। পরিচালনায় ছিলেন দুজন—পিট ডক্টার ও কেম্প পাওয়ারস। গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন এ দুজন। তাঁদের সঙ্গে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে ছিলেন মাইক জোনস। অরিজিনাল স্কোর বিভাগেও সেরার অস্কার পেয়েছে সৌল। ছবিটি দেখার পর এতটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারা যায় যে সুরের মূর্ছনায় গা ভাসিয়ে দিতে পারবেন। বিশেষ করে প্রধান চরিত্র জো যখন পিয়ানোতে হাত দেবে, তখন কান দুটিকে বিশ্রাম দেওয়া দুরূহ হয়ে পড়তে পারে।
সৌল ছবিটিতে প্রধান চরিত্র দুটি, জো ও টুয়েন্টি টু। জো একজন জ্যাজ পিয়ানিস্ট। পেশাদার সুরকার হিসেবে পিয়ানোতে ঝংকার তোলার বদলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখায় সে। কিন্তু যার আত্মার ইচ্ছা সুরের সাগরে ভেলা ভাসানোর, তার কি আর বাঁধাধরা কাজে পুরোপুরি মন বসে? আর বসে না বলেই যখন পেশাদার বাদ্যযন্ত্রী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পায় জো, তখন তার মনে দোলা দেয় স্বপ্ন পূরণের সুখ। কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে দুর্ঘটনা।
কথায় আছে—মানুষ ভাবে এক, আর হয় আরেক। জো ভেবেছিল সুরকার হিসেবে সে বিখ্যাত হবে। সে আশার গুড়ে বালি। শরীরী জীবন থেকে মুক্তি পেলেও জোর আত্মা সেই জীবনেই বারবার ফিরে যেতে চায়। প্রয়োজনে অন্যকে বঞ্চিত করে হলেও নিজের আশা পূরণের অভিযানে নামে জো। তখনই সঙ্গী হিসেবে টুয়েন্টি টুকে পায়। আর তাতেই বদলে যায় জোর জীবন।
কিছু না পাওয়া সবার জীবনেই থাকে। সেটিকে বড় করে দেখে বিতৃষ্ণায় ডুবে যাবেন, নাকি সত্যকে সহজে গ্রহণ করে নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবেন—সেটিই হয়ে দাঁড়ায় সৌল–এর মূল কাহিনি। আমরা যা করি, সেটিই কি আমাদের সত্যিকারের চাওয়া কি না—এমন প্রশ্নও তুলে দেয় ছবিটি। এর শেষাংশে জীবনকে যাপনের দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়া জোকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বাকি জীবনটা সে কীভাবে কাটাতে চায়। জবাবে জো বলে, ‘আমি নিশ্চিত নই। কিন্তু আমি জানি...জীবনের প্রতিটি মিনিট আক্ষরিক অর্থেই বেঁচে থাকতে চাই আমি।’
জোর চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন গুণী অভিনেতা জেমি ফক্স। অস্কার, গোল্ডেন গ্লোবস বা বাফটা—সব আসরে অতীতেই সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পাওয়া হয়ে গেছে ফক্সের। এবার কণ্ঠের কারুকাজেও কিস্তিমাত করেছেন তিনি। ওদিকে টুয়েন্টি টুয়ের কণ্ঠকে প্রাণ দিয়েছেন টিভি সিরিজের পরিচিত মুখ টিনা ফে।
অস্কার ছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আসরে সৌল এরই মধ্যে অসংখ্য পুরস্কার জিতেছে। গোল্ডেন গ্লোবস ও বাফটা—দুই আসরেই অ্যানিমেটেড ফিল্ম ও অরিজিনাল স্কোর বিভাগে সেরা হয়েছে ছবিটি।
এবার তবে সৌল দেখতে দেখতে আত্মার সুলুক সন্ধান করা যাক। নিজের ভেতরের সত্যিকারের আমি, আর তার ইচ্ছাকে জেনে নেওয়ার পালা শুরু হোক। হয়তো এর মধ্য দিয়েই মিলে যেতে পারে সত্যিকারের বেঁচে থাকার স্বাদ!