‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্য। কোলাজ
‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্য। কোলাজ

১৭ দিনেই ২৪ হাজার কোটি টাকা আয়! যে ১০ কারণে ঝড় তুলল ‘স্পাইডার–ম্যান’

বিশ্ব বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েছে মার্ভেল ও সনির ‘স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির মাত্র ১৭ দিনের মাথায় সিনেমাটি ২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম চলচ্চিত্র হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর আগে সবচেয়ে দ্রুত ২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছাতে ‘অ্যাভঞ্জার্স: এন্ডগেম’–এর সময় লেগেছিল মাত্র ১১ দিন।

বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র আয় দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক শূন্য ২২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। টম হল্যান্ড ও জেনডায়া অভিনীত এবং ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত ছবিটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আয় করেছে ৭৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ১ দশমিক ২৩৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে এটি এখন পর্যন্ত বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে মাত্র অষ্টম ছবি, যা ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে।

তৃতীয় সপ্তাহান্তেও ছবিটির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বব্যাপী সপ্তাহান্তের আয় ১৮৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এসেছে ৭০ মিলিয়ন ডলার। এটি উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে তৃতীয় সপ্তাহান্তের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়। এই তালিকায় এখনো শীর্ষে আছে ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকনস’। আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি ৬৭টি দেশে চলমান। তৃতীয় সপ্তাহান্তে বিদেশি বাজার থেকে আয় করেছে ১১৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বড় বাজার ছিল চীন, যেখানে সপ্তাহান্তে আয় ১০ মিলিয়ন ডলার এবং মোট আয় ২১০ মিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে ফ্রান্স (৬৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন), যুক্তরাজ্য (১০৬ মিলিয়ন), মেক্সিকো (৭৮ মিলিয়ন), ব্রাজিল (৫৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন) ও ভারত (৫৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার)।

ভারতসহ ৩৬টি আন্তর্জাতিক বাজারে এটি সনি পিকচার্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হয়ে গেছে। তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ইতালি, স্পেন, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশ।

অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য অডিসি’ও দুর্দান্ত গতিতে এগোচ্ছে। মুক্তির পঞ্চম সপ্তাহে ছবিটির বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে আয় ৫০৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ৭৮৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। শুধু চীনেই প্রথম সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৩৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। তবে এই মুহূর্তে বিশ্ব বক্স অফিসের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ১৭ দিনে ২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করে ছবিটি শুধু স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির নয়, পুরো সুপারহিরো সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্যে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু একের পর এক সুপারহিরো সিনেমা যখন ব্যর্থতার মুখে, তখন নতুন ‘স্পাইডার–ম্যান’ কীভাবে সাফল্য পেল? জেনে নেওয়া যাক সম্ভাব্য ১০ কারণ—

‘স্পাইডার-ম্যান’ নিজেই এক বিশাল ব্র্যান্ড
টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সও নয়—স্পাইডার-ম্যান নিজেই একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানের মতো স্পাইডার-ম্যানও বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সুপারহিরোদের একজন। এমসিইউর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে চরিত্রটি আরও বড় একটি জগৎ পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা এমসিইউর ওপর নির্ভরশীল নয়।
এই কারণেই টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানকে দেখতে দর্শক শুধু মার্ভেলের ভক্ত হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে যান না। সাধারণ দর্শকের কাছেও চরিত্রটির আলাদা আবেদন আছে। ফলে এমসিইউর অন্য কিছু সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কমলেও স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

টম হল্যান্ডের আগের তিন সিনেমাই ছিল সফল
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর আগে টম হল্যান্ডকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়া তিনটি স্পাইডার-ম্যান সিনেমা—‘হোমকামিং’ (২০১৭), ‘ফার ফ্রম হোম’ (২০১৯) ও ‘নো ওয়ে হোম’ (২০২১)—দর্শক ও সমালোচকদের কাছেই জনপ্রিয় হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এও হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানকে দর্শক পছন্দ করেছেন।

অর্থাৎ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ শূন্য থেকে শুরু করেনি। আগের সিনেমাগুলো চরিত্রটির জন্য যে আস্থা তৈরি করেছে, নতুন ছবিটি সেই আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে এগিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে যেন ‘চেইন অব কাস্টডি’ অক্ষত থেকেছে—আগের প্রতিটি সিনেমা পরের সিনেমার জন্য দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। মার্ভেলের বৃহত্তর ফ্র্যাঞ্চাইজির কিছু চরিত্র ও গল্প নিয়ে যেখানে দর্শকের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, স্পাইডার-ম্যানের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থাপনা ছিল অনেক বেশি ধারাবাহিক।

‘নো ওয়ে হোম’-এর আবেগ এখনো তাজা
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’কে বোঝার জন্য ‘নো ওয়ে হোম’-এর শেষটাও গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমাটির শেষে পিটার পার্কারকে এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যার ফলে পৃথিবীর সবাই তাকে ভুলে যায়। এমনকি তার প্রিয় মানুষ এমজিও আর জানে না পিটার পার্কার কে।
এই সমাপ্তি শুধু একটি সিনেমার শেষ ছিল না; এটি ছিল চরিত্রটির জীবনে বড় এক পরিবর্তন। ফলে পরের সিনেমায় কী হবে, পিটার কীভাবে এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেবে—তা জানার কৌতূহল তৈরি হয় দর্শকের মধ্যে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই আবেগের জায়গা থেকেই গল্প শুরু করেছে। ফলে আগের সিনেমার দর্শকের জন্য এটি শুধু আরেকটি নতুন স্পাইডার-ম্যান সিনেমা নয়; বরং অসমাপ্ত একটি আবেগের পরের অধ্যায়।

‘‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’–এর দৃশ্য।

এবার মাল্টিভার্স নয়, নিউইয়র্কের রাস্তায় স্পাইডার-ম্যান
সাম্প্রতিক এমসিইউর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মাল্টিভার্স। অন্য জগৎ, বিকল্প বাস্তবতা, অসংখ্য চরিত্র ও সময়ের নানা স্তর—সব মিলিয়ে বিশাল এক গল্পের কাঠামো। ‘নো ওয়ে হোম’ও সেই মাল্টিভার্সকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল এবং দর্শক সেটি দারুণভাবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এরপর একই ধরনের ধারণার পুনরাবৃত্তিতে দর্শকের একাংশ ক্লান্ত হয়েছে।

‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পথ থেকে সরে এসেছে। ছবিটির গল্প তুলনামূলকভাবে স্ট্রিট-লেভেল বা মাটির কাছাকাছি। পিটার পার্কার নিউইয়র্কে নিজের মতো করে কাজ করছেন, অপরাধীদের মোকাবিলা করছেন, পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সমস্যার সঙ্গে লড়ছেন।

এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্পাইডার-ম্যানের আসল শক্তি শুধু পৃথিবী বাঁচানো নয়; একজন সাধারণ তরুণ কীভাবে নিজের ব্যক্তিজীবন ও সুপারহিরো পরিচয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখে—সেটিও।

‘ম্যাকগাফিন’ নেই, আছে চরিত্র
সুপারহিরো সিনেমার বহুল ব্যবহৃত একটি কাঠামো হলো কোনো বিশেষ বস্তু খুঁজে বের করা, রক্ষা করা কিংবা ধ্বংস করা। কখনো পাথর, কখনো কিউব, কখনো তলোয়ার, কখনো এমন কোনো বস্তু যা পুরো মহাবিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই পরিচিত কাঠামো থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছে।

স্পাইডার-ম্যান কমিকসের দীর্ঘদিনের লেখক জে মাইকেল স্ট্র্যাজিনস্কিও এ বিষয়টিকে ছবিটির সাফল্যের একটি কারণ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, দর্শক বারবার একই ধরনের ‘ম্যাকগাফিন’ বা রহস্যময় বস্তুকেন্দ্রিক গল্প দেখতে দেখতে ক্লান্ত হতে পারেন।

‘এন্ডগেম’-এর পর আবার সেই উন্মাদনা?‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ছিল এমসিইউর একটি যুগের সমাপ্তির প্রতীক। এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অনেক সিনেমাই ব্যবসা করেছে, কিছু সিনেমা বড় সাফল্যও পেয়েছে। কিন্তু ‘এন্ডগেম’-এর মতো সর্বজনীন সাংস্কৃতিক ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর সাফল্য তাই শুধু স্পাইডার-ম্যানের সাফল্য নয়। এটি মার্ভেলের জন্যও একধরনের স্বস্তির খবর। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল—সুপারহিরো সিনেমা কি তার আগের আবেদন হারিয়ে ফেলেছে?—‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ তার উত্তর দিয়েছে অন্যভাবে। দর্শক হয়তো সুপারহিরো সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। তাঁরা শুধু একই ধরনের সুপারহিরো সিনেমা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়েছেন। তাই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ যখন একই পুরোনো চরিত্রকে নতুন পরিস্থিতিতে এনে গল্পকে ব্যক্তিগত করেছে, মাল্টিভার্সের বদলে নিউইয়র্কের রাস্তায় ফিরিয়েছে, অতিরিক্ত ম্যাকগাফিন বাদ দিয়েছে এবং টম হল্যান্ড-জেন্ডায়ার মতো তারকাদের আবেগকে সামনে রেখেছে—তখন দর্শক আবারও সাড়া দিয়েছেন। আর এখানেই ছবিটির সবচেয়ে বড় শিক্ষা: সুপারহিরো সিনেমার সমস্যা হয়তো সুপারহিরো নয়, সমস্যা গল্প বলার ধরনে।

চরিত্রনির্ভর গল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে তাই গল্পের কেন্দ্রে কোনো জাদুকরি বস্তু নয়; বরং পিটার পার্কার নিজেই। তার হারানো সম্পর্ক, একাকিত্ব, দায়িত্ববোধ এবং নতুন শত্রুর মোকাবিলা—গল্পের আবেগ তৈরি হয়েছে এসব জায়গা থেকে। সুপারহিরো সিনেমায় এটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট পরিবর্তন হলেও দর্শকের কাছে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

বাস্তবধর্মী আবহ দর্শককে টেনেছে
‘গ্রাউন্ডেড’ বা বাস্তবধর্মী—শব্দ দুটি শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগে, কারণ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ কোনো বাস্তবধর্মী পারিবারিক নাটক নয়। এটি স্পাইডার-ম্যানের সিনেমা।
তবু মার্ভেলের অন্যান্য অনেক ছবির তুলনায় এর গতি কম উন্মত্ত, গল্প বেশি চরিত্রনির্ভর এবং বেশ কিছু দৃশ্যকে নিছক সিজিআই প্রদর্শনী মনে হয় না।
সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকের মধ্যে বাস্তবধর্মী নির্মাণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে—লো-ফাই ঘরানার সফল সিনেমা থেকে শুরু করে বড় বাজেটের কিছু ছবিতেও বাস্তব সেট, বাস্তব অ্যাকশন ও চরিত্রনির্ভর গল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ও সেই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়েছে।

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

এমনকি ছবিটির সবচেয়ে দুর্বল অংশ হিসেবে যে দীর্ঘ লড়াইয়ের দৃশ্যটির কথা বলা হয়েছে, সেটিও হলো সবচেয়ে বেশি ‘মার্ভেলসুলভ’ অংশ—স্পাইডার-ম্যান ও হাল্কের দীর্ঘ লড়াই। অর্থাৎ ছবিটির যে অংশটি বেশি প্রচলিত সুপারহিরো ঘরানার, সেটিই তুলনামূলকভাবে গল্পের জন্য কম জরুরি বলে মনে হয়েছে।

টম হল্যান্ড ও জেনডায়ার প্রভাব
স্ট্রিমিংয়ের যুগে অনেকেই মনে করেন, বড় তারকার প্রয়োজন কমে গেছে। কিন্তু বক্স অফিস আবারও দেখাচ্ছে, তারকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

টম হল্যান্ড ও জেনডায়া দুজনই বর্তমানে নিজেদের ক্যারিয়ারের জনপ্রিয়তার শীর্ষ পর্যায়ে। বাস্তব জীবনেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দর্শকের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ফলে পর্দায় পিটার পার্কার ও এমজের সম্পর্কও বাড়তি আবেগ তৈরি করে।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে এই সম্পর্কই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ‘নো ওয়ে হোম’-এর পর এমজি পিটারকে মনে না রাখার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি নতুন সিনেমার শুরু থেকেই দর্শকের আবেগের কেন্দ্র।

অর্থাৎ এখানে তারকাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং চরিত্রের আবেগ—দুটো একে অন্যকে শক্তিশালী করেছে।

স্যাডি সিঙ্ককে ঘিরে রহস্য
সিনেমা মুক্তির আগে স্যাডি সিঙ্ককে নিয়ে তৈরি হয়েছিল আলাদা কৌতূহল। মার্ভেল তাঁর চরিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু না বলায় ভক্তদের মধ্যে নানা তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কে—এই প্রশ্নের উত্তর জানতে দর্শকের আগ্রহ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত জিন গ্রের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে, বিশেষ করে এমসিইউতে এক্স-মেনের নতুন যুগ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে।

‘‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

বর্তমান সময়ে সিনেমার বড় কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে চরিত্রের পরিচয় গোপন রাখা নিজেই একটি বিপণন কৌশলে পরিণত হয়।

‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই কৌশল সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে। দর্শক সিনেমাটি দেখতে গেছেন শুধু গল্পের জন্য নয়, স্যাডি সিঙ্ক আসলে কে—সেটি নিজের চোখে দেখার জন্যও।

দর্শকের মুখে মুখে প্রশংসা
বক্স অফিসে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার জন্য প্রথম সপ্তাহের আয় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সব নয়। একটি সিনেমাকে দীর্ঘ দৌড়ের জন্য প্রয়োজন দর্শকের ভালোবাসা।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই জায়গাতেও সুবিধা পেয়েছে। দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং সিনেমাকে ঘিরে নানা মিম—সব মিলিয়ে ছবিটি মুক্তির পরও পপ সংস্কৃতির আলোচনায় থেকে গেছে।
একটি সিনেমা যত বেশি মানুষকে কথা বলায়, নতুন দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসার সম্ভাবনাও তত বাড়ে।

এই ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ বা মুখে মুখে প্রচারই বড় বাজেটের সিনেমার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিজ্ঞাপনগুলোর একটি।

শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি দর্শকের ভালো লেগেছে
সব বিশ্লেষণের পর সবচেয়ে সহজ কারণটিই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—দর্শকের সিনেমাটি ভালো লেগেছে। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ টম হল্যান্ড যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমা। দর্শক-প্রতিক্রিয়াও ছিল অসাধারণ। ছবিটির দর্শক স্কোর ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা লাইভ-অ্যাকশন ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

ছবিতে ক্যামিও আছে, ভবিষ্যৎ সিনেমার জন্য কিছু প্রস্তুতিও আছে, আছে নানা চমক ও মোড়। কিন্তু এসবের মধ্যেও গল্পের কেন্দ্র থেকে সরে যায়নি পিটার পার্কার। একদিকে তাকে নতুন এক রহস্যময় শত্রুর মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজের ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে।

বিশেষ করে পিটার ও এমজেকে ঘিরে একটি ছাদদৃশ্য দর্শকের আবেগকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ প্রমাণ করে, সুপারহিরো সিনেমার সাফল্যের জন্য সব সময় পৃথিবী ধ্বংসের হুমকি দরকার হয় না; কখনো একজন মানুষের ব্যক্তিগত বেদনা দিয়েও লাখো দর্শককে নাড়া দেওয়া সম্ভব।

ডেডলাইন ও স্ক্রিন র‍্যান্ট অবলম্বনে