‘ইউফোরিয়া ৩’–এর প্রিমিয়ারে জেনডায়া। এএফপি
‘ইউফোরিয়া ৩’–এর প্রিমিয়ারে জেনডায়া। এএফপি

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং হয় কীভাবে? জানালেন ম্যাম

হলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতনতা তৈরি হয়েছে। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’রা—যাঁদের কাজ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও সম্মান নিশ্চিত করা। সম্প্রতি এমনই একজন পরিচিত ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর ম্যাম স্মিথ খোলামেলা কথা বলেছেন এই পেশা, ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজের কাজ, জেনডায়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্তরঙ্গ দৃশ্য শুটিংয়ের বাস্তবতা নিয়ে।

‘ইন দ্য এনভেলপ: দ্য অ্যাক্টর’স পডকাস্ট’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাম স্মিথ জানান, ২০১৯ সালে তিনি যখন স্টান্ট পারফরমার থেকে ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকায় আসেন, তখন এই পেশা নিয়ে মানুষের ধারণাই ছিল না। এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘ওয়েস্টওয়ার্ল্ড’-এর তৃতীয় সিজনে কাজ করার সময় অনেকেই তাঁকে ভুল বুঝতেন।
তাঁর ভাষায়, ‘তখন কেউই জানত না ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর আসলে কী করেন। অনেকে ভাবতেন আমি বুঝি এইচআর বিভাগের কেউ, সবাইকে শাস্তি দিতে এসেছি। কেউ কেউ ভাবতেন আমার কাজই খবরদারি করা। কিন্তু আমি তাঁদের বোঝাতাম, আমি এখানে সাহায্য করতে এসেছি। যোগাযোগ সহজ করতে এসেছি।’

সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন হলিউডে ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরদের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। ম্যাম স্মিথ কাজ করেছেন টেইলর শেরিডানের ‘ল্যান্ডম্যান’ ও ‘লায়োনেস’-এর মতো সিরিজে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘ইউফোরিয়া’র দ্বিতীয় ও তৃতীয় সিজনে তাঁর কাজ। এই সিরিজে কাজ করতে গিয়েই জেনডায়ার সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পর্ক আরও গভীর হয়। পরে লুকা গুয়াদাগনিনোর ‘চ্যালেঞ্জার্স’ এবং ক্রিস্টোফার বর্গলির ‘দ্য ড্রামা’তেও একসঙ্গে কাজ করেন তাঁরা।

জেনডায়াকে নিয়ে ম্যাম স্মিথ বলেন, ‘যেকোনো সম্পর্কের মতোই এখানে বিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে একটা শর্টহ্যান্ড তৈরি হয়ে যায়। জেনডায়া আমাকে দেখলেই বুঝে যায়, “ঠিক আছে, ম্যাম বিষয়টা সামলে নেবে।” সে জানে আমি তার পাশে আছি, তাকে রক্ষা করব।’

‘ইউফোরিয়া ৩’–এর দৃশ্য। ছবি: এইচবিও

জেনডায়ার মতো তারকার জন্য এই সমর্থন আরও জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। ‘সে খুব শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এত পরিশ্রম করে এখানে এসেছে। তার ওপর অনেক প্রত্যাশা থাকে। তাই তাকে নিরাপদ ও সমর্থিত অনুভব করানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
তবে শুধু বড় তারকা নন, সেটে থাকা প্রত্যেক অভিনেতার প্রতিই একই রকম দায়িত্ববোধ কাজ করে ম্যাম স্মিথের। বিশেষ করে নতুন অভিনেতারা যাতে অস্বস্তিতে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করতে তিনি আলাদা গুরুত্ব দেন।

তাঁর মতে, অনেকে ভাবেন ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেশন মানে অনেক বাধা বা নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি উল্টো। এতে অভিনেতারা আরও স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করি, যেটাকে বলি “বডি ম্যাপিং”। সেখানে অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয়—কোথায় স্পর্শ নিরাপদ, কোথায় নয়। কেউ বলতে পারেন, “আমি চাই না আমার কোমরে হাত দেওয়া হোক”, কেউ বলেন, “আমার কান খুব সংবেদনশীল।”’

এই সীমারেখাগুলো আগে থেকেই পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। এরপর অভিনেতারা জানেন কোন জায়গার ভেতরে তাঁরা কাজ করছেন। ফলে দৃশ্যের সময় আর ভয় বা অস্বস্তি কাজ করে না।

‘ইউফোরিয়া ৩’–তে সিডনি সুইনি। এইচবিও

ম্যাম স্মিথের ভাষায়, ‘যখন সীমারেখা পরিষ্কার থাকে, তখন আপনি অনেক বেশি স্বাধীনভাবে অভিনয় করতে পারেন। তখন আর মনে হয় না—আমি কি কোনো সীমা অতিক্রম করে ফেললাম? বরং পুরো বিষয়টা নিরাপদ একটা জায়গার মধ্যে থাকে।’
‘ইউফোরিয়া’র মতো সিরিজে যৌনতা ও সম্পর্ককে যেভাবে দেখানো হয়, তা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। তবে ম্যাম স্মিথ মনে করেন, এই ধরনের দৃশ্যের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক সম্মান ও সম্মতি।

তিনি জানান, বর্তমানে হলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্য শুটিংয়ের সংস্কৃতি অনেক বদলেছে। আগে যেখানে অভিনেতারা অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেন, এখন সেখানে আলোচনা, প্রস্তুতি ও সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর মতে, ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের কাজ শুধু দৃশ্য পরিচালনা নয় বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে অভিনেতারা নিজেদের নিরাপদ বোধ করেন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।

রেডিও  টাইমস অবলম্বনে