সুসান সারানডন। রয়টার্স
সুসান সারানডন। রয়টার্স

গাজায় যুদ্ধবিরতি চেয়ে ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছে এই হলিউড অভিনেত্রী

হলিউডের অভিনেত্রী সুসান সারানডন জানিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি দাবি করার পর তার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা খেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার এজেন্সি আমাকে বরখাস্ত করেছে, বিশেষ করে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদী মিছিল ও বক্তব্য দেওয়ার কারণে। এর পর থেকে বড় হলিউড প্রজেক্ট বা টেলিভিশনে কাজ করা আমার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।’ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এক আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন ৭৯ বছর বয়সী অভিনেত্রী।

সারানডন আরও জানান, শেষ পর্যন্ত তিনি ইউরোপে, বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও ইতালিতে নতুন এজেন্টের সাহায্যে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। ‘আমি ইতালিতে একটি সিনেমা করেছি এবং থিয়েটারে কয়েক মাস ধরে অভিনয় করেছি। এমনকি কিছু আন্তর্জাতিক পরিচালককে আমাকে তাঁদের প্রকল্পে নিতে নিষেধ করা হয়েছে, তবে তাঁরা তা মানেননি। বর্তমানে আমি মূলত স্বাধীন সিনেমা ও ছোট প্রজেক্টে কাজ করছি।’

সুসান সারানডন। রয়টার্স

সারানডন স্পেনের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘যেখানে দমন ও সেন্সরশিপ আছে, সেখানে স্পেনের প্রেসিডেন্ট এবং সুপরিচিত অভিনেতারা, যেমন হাভিয়ের বারডেম, গাজার জন্য দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করছেন। এটি আমাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।’

সুসান সারানডনের মতে, শিল্পী হিসেবে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার কারণে তাঁর ওপর যেসব চাপ এসেছে, তা শিল্পের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, কোনো বড় এজেন্সি বা প্রযোজনা সংস্থা রাজনৈতিক কারণে শিল্পীকে সরিয়ে দিতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আমার কাজের সুযোগ রয়েছে, যা আমাকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে গেছে।’

২০২৩ সালে ফিলিস্তিনের পক্ষে আয়োজিত সমাবেশ বক্তব্য দেওয়ার পর সারানডনের এজেন্সি তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দেয়। তার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এর পর থেকে সারানডন ইউরোপের স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ছোট প্রকল্পে কাজ করছেন।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে