
অনেকেই মনে করেন শিশুশিল্পী হিসেবে এসেই হলিউডে জয় করে বসেছেন অভিনেত্রী জেনডায়া। আসলে তেমনটা নয়। তাঁর পথচলায় ছিল বহু বাধা। সেসব বাধা পেরিয়ে হলিউডে জায়গা করে নিয়েছেন আজ ৩০ বছর পা দেওয়া এই অভিনেত্রী।
১৯৯৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে জন্ম জেনডায়ার। মাত্র তিন দশকের জীবনে তিনি শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, প্রযোজক, গায়িকা ও ফ্যাশন আইকন হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। জেনে নিতে পারেন তাঁর জানা–অজানা কথা।
৩০ বছর বয়সী জেনডায়া গান, নাচ, অভিনয়—সবকিছুতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ডিজনির জনপ্রিয় সিরিজ ‘শেক ইট আপ’ তাঁকে প্রথম পরিচিতি বাড়িয়ে দিয়েছিল। পরিচিতি পাওয়ার পর ‘ইউফোরিয়া’, ‘স্পাইডার-ম্যান’, ‘ডুন’ ও ‘চ্যালেঞ্জার্স’-এর মতো সিনেমা ও সিরিজে অভিনয় করে আজকের প্রজন্মের অন্যতম আলোচিত তারকা হয়ে উঠেছেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই মঞ্চের সঙ্গে মিতালি
মা–বাবা ছিলেন শিক্ষক। পাশাপাশি তাঁরা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ও মঞ্চের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তিনি। শিশু বয়সে নাচ শেখা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ক্যালিফোর্নিয়া শেক্সপিয়ার থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মঞ্চের পেছনে কাজও করেন। তখনো ছোট চরিত্রগুলোতে তাঁকে দেখা যেত। পরে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ডিজনি চ্যানেলের ‘শেক ইট আপ’ সিরিজে রকি ব্লু চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ২০১০ সালে শুরু হওয়া সিরিজটি তাঁকে কিশোর দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে। পরে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তবে কিশোর চরিত্রের মধ্যেই আবদ্ধ ছিলেন।
গান থেকে অভিনয়
অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর। ২০১৩ সালে নিজের নামেই প্রথম অ্যালবাম ‘জেনডায়া’ প্রকাশ করেন। তাঁর রিপ্লে গানটি সেই সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়। তবে ধীরে ধীরে অভিনয়ই হয়ে ওঠে তাঁর প্রধান পরিচয়। ২০১৭ সালে ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ সিনেমায় জোন্স চরিত্রে অভিনয় করে বড় পর্দায় নতুন পরিচয় তৈরি করেন। পরে সিক্যুয়েলগুলোতেও একই চরিত্রে দেখা যায়, যা তাঁর খ্যাতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপরে আসে টার্নিং পয়েন্ট।
বদলে গেল ক্যারিয়ার
জেনডায়ার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে এইচবিওর ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে। এখানে মাদকাসক্তি, মানসিক সংকট, সম্পর্ক ও কৈশোরের নানা জটিলতার মধ্যে থাকা রু বেনেট চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তখনো তাঁর পারিশ্রমিক ছিল কয়েক হাজারের ঘরে। চরিত্রটি তাঁর অভিনয়জীবনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। ২০২০ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে ‘ইউফোরিয়া’র জন্য প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড জিতে ইতিহাস তৈরি করেন জেনডায়া। তিনি হন ড্রামা সিরিজে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী অভিনেত্রী। পরে ২০২২ সালেও একই পুরস্কার পান। এবার তাঁর পারিশ্রমিক হয়ে যায় লাখের ঘরে।
পারিশ্রমিক হাজার–লাখ থেকে কোটিতে
একসময় মাত্র কয়েক হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। সেই জেনডায়া প্রতি মুহূর্তে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, যা বাড়িয়েছে তাঁর পারিশ্রমিক। ‘ডুন’ সিনেমায় তিনি তিন লাখ ডলার পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন। ‘ইউফোরিয়া’র প্রতি পর্বে তাঁর পারিশ্রমিক প্রায় ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেখানে ‘চ্যালেঞ্জার্স’ সিনেমায় তিনি এক লাফে পারিশ্রমিক নেন এক কোটি ডলার। দুই বছরের ব্যবধানে কোটিপতি হয়ে যান।
ক্যারিয়ারে ছিল বাধা
জেনডায়ার পথ সব সময় মসৃণ ছিল না। ছোট বয়সে ডিজনি তারকা হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর তাঁকে দীর্ঘদিন কিশোর অভিনেত্রী হিসেবেই দেখা হয়েছে। সেখান থেকে নিজেকে সিরিয়াস অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তাঁকে সচেতনভাবে চরিত্র বেছে নিতে হয়েছে। বিশেষ করে ‘ইউফোরিয়া’র মতো কঠিন ও অন্ধকার চরিত্রে অভিনয় ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সিরিজটিতে মাদকাসক্তি ও মানসিক সংকটে থাকা এক তরুণীর চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে আবেগের দিক থেকেও কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল নিজের গতিতে এগিয়ে চলা। জেনডায়া একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অন্যের প্রত্যাশার চেয়ে নিজের পছন্দ ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও কঠিন সময়
খুব অল্প বয়সেই খ্যাতি পাওয়ায় ব্যক্তিগত জীবনও বরাবরই আলোচনায় থেকেছে জেনডায়ার। তাঁর সঙ্গে ‘স্পাইডার–ম্যান’ সিনেমার সহ-অভিনেতা টম হল্যান্ডের সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের আগ্রহ ছিল। পরে তাঁকেই বিয়ে করেন এই অভিনেত্রী। এসব ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সাধারণত খুব বেশি কথা বলেন না তিনি।
জেনডায়ার কাছে খ্যাতির সঙ্গে মানসিক চাপও একটি বাস্তব বিষয়। অল্প বয়সে লাখো মানুষের নজরে চলে আসা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ক্রমাগত আলোচনার মধ্যেও তিনি নিজের মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। যে কারণে তিনি সব সময়ই বলেন, ‘নিজেকে সামনে মেলে ধরা এবং ব্যর্থ হতে ভয় না পাওয়াটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
দ্য টাইমস, পিপল, এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি অবলম্বনে