দেখতে পারেন এই ১২ সিনেমা। কোলাজ
দেখতে পারেন এই ১২ সিনেমা। কোলাজ

৭ মাসের কোন ১২ সিনেমা না দেখলেই নয়

চলতি বছর শেষ হতে এখনো অনেক বাকি। তাই ২০২৬ সালের সেরা সিনেমার চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করার সময়ও আসেনি। তবে বছরের প্রথম সাত মাসের হিসাব বলছে, সিনেমাপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটি বছর চলছে। বক্স অফিসের ফল থেকে সমালোচকদের তালিকা—দুই ক্ষেত্রেই দেখা মিলেছে বৈচিত্র্যময় সব সিনেমার। এই সাফল্যের কৃতিত্ব শুধু পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি বা সুপারহিরো সিনেমার নয়; বরং দর্শক সাড়া দিয়েছেন মৌলিক গল্প, নতুন নির্মাতা এবং ভিন্ন স্বাদের বাণিজ্যিক ছবিগুলোকেও। ফলে বড় স্টুডিওর ব্লকবাস্টারের পাশাপাশি স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রও সমানভাবে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে কোন ১২টি সিনেমা না দেখলেই নয়? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

‘ব্লু হেরন’
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়। হাঙ্গেরি থেকে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে নতুন জীবন শুরু করতে আসে একটি অভিবাসী পরিবার। নতুন সমাজে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চললেও সেই পথ সহজ হয় না। কারণ, পরিবারের সবার থেকে আলাদা হয়ে পড়া বড় ছেলের মানসিক স্বাস্থ্য ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকে। পুরো ঘটনাপ্রবাহ দেখা যায় তার ছোট বোনের চোখ দিয়ে—যে একই সঙ্গে বড় ভাইকে ভয় পায়, আবার তাকে নিজের আদর্শও মনে করে। সেই শিশুর দৃষ্টিতেই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় একটি পরিবারের ভাঙনের গল্প।

কানাডীয় নির্মাতা সোফি রমভারি নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাণ করেছেন তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তবে ‘ব্লু হেরন’ শুধু আত্মজীবনীমূলক পারিবারিক ড্রামা নয়; এটি স্মৃতি, আত্মকথন ও আবেগের মিশেলে নির্মিত একটি মনোমুগ্ধকর নির্মাণ। ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি, এটি ট্রমাকে কখনোই নাটকীয় করে তোলে না; বরং একটি শিশুর দৃষ্টিতে পরিবার, ভয়, ভালোবাসা এবং বড় হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরে। পরিচালক রমভারি যেভাবে কল্পকাহিনি থেকে ধীরে ধীরে তথ্যচিত্রের মতো করে বলেছেন। সেটিই ‘ব্লু হেরন’কে এ বছরের অন্যতম ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্রে পরিণত করেছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ইলুল গুভেন, এমি জিমার ও ইরিঙ্গো রেতি।

‘ব্লু হেরন’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

‘এপিক: এলভিস প্রিসলি ইন কনসার্ট’
এত দিন পরও ফুরিয়ে যায়নি এলভিস–জাদু! তা আবার প্রমাণ করল বাজ লুরমান পরিচালিত এই কনসার্ট তথ্যচিত্র। সমালোচকদের মতো, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে উপভোগ্য মিউজিক ফিল্মগুলোর একটি। ১৯৬৯ এবং সত্তরের দশকের শুরুর দিকে লাস ভেগাসে এলভিস প্রিসলির পরিবেশনার দুর্লভ ফুটেজ নতুনভাবে পুনরুদ্ধার করে নির্মিত হয়েছে ছবিটি।

এলভিস ঘিরে আজও যে কিংবদন্তি টিকে আছে—সাদা জাম্পস্যুট, গাড়ির গ্রিলের মতো নকশার সানগ্লাস, ঘামে ভেজা সাইডবার্ন কিংবা মঞ্চের সেই বিখ্যাত কারাতে মুভ—সবই এখানে নতুনভাবে ধরা দিয়েছে। ভ্যারাইটির সমালোচক ওয়েন গ্লেইবারম্যানের মতে, এই সময়কার এলভিসের মঞ্চ উপস্থিতি ছিল বিস্ময়কর। নতুন আবিষ্কৃত ফুটেজের নিপুণ ব্যবহার আর এলভিসের অনন্য ভিব্র্যাটো কণ্ঠস্বর মিলিয়ে ছবিটি হয়ে উঠেছে এক অসাধারণ কনসার্ট অভিজ্ঞতা।

‘ইজ গড ইজ’
প্রশংসিত নাট্যকার আলেশিয়া হ্যারিসের পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘ইজ গড ইজ’। সিনেমাটি বছরের অন্যতম আলোচিত হওয়ার মতো সব উপাদান আছে। তা সত্ত্বেও বড় কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি আলোচনায় আসেনি। ভ্যারাইটির সমালোচক গাই লজের মতে, এটিই ২০২৬ সালের অন্যতম বড় বিস্ময়!

শৈশবে বাবার নির্যাতনের শিকার দুই যমজ বোনের প্রতিশোধের গল্প নিয়ে এগিয়েছে সিনেমাটি। তবে এটি শুধু প্রতিশোধের কাহিনি নয়; বরং ট্রমা, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারীর আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার গল্পও। কারা ইয়াং ও ম্যালরি জনসন দুর্দান্ত অভিনয়ে ছবিটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। স্টার্লিং কে. ব্রাউন, জেনেল মোনে ও ভিভিকা এ. ফক্সের মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের উপস্থিতির মধ্যেও তাঁরা সমান উজ্জ্বল। ভিন্নধর্মী গল্প বলার ধরন আর আত্মবিশ্বাসী নির্মাণশৈলীর কারণেই এটি চলতি বছরের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্রগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

‘ইজ গড ইজ’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

‘অবসেশন’
বছরের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি ‘অবসেশন’। এক মিলিয়ন ডলারের কম বাজেটে নির্মিত ছবিটি ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। শুধু তা–ই নয়, বসন্তকালীন বক্স অফিসে এটি নতুন ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমাকেও আয়ের দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে। সমালোচকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হলিউডের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্পগুলোর একটি এটি।

পরিচালক কারি বার্কার দেখিয়েছেন, একটি মৌলিক চিত্রনাট্যকে আলাদা করে তুলতে সব সময় সম্পূর্ণ নতুন ধারণার প্রয়োজন হয় না। বহু পুরোনো ‘মাংকিস প’ ঘরানার ইচ্ছাপূরণের গল্পকে তিনি আধুনিক সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন। একতরফা প্রেমে পড়া এক তরুণ চায়, তার ভালোবাসার মানুষটিও যেন একই তীব্রতায় তাকে ভালোবাসে। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পরই সে বুঝতে পারে, জোর করে আদায় করা ভালোবাসায় কোনো আনন্দ নেই। বিষাক্ত নির্ভরশীল সম্পর্ক, অনলাইন পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতির অন্ধকার দিক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকির মতো সমসাময়িক বিষয়গুলোও উঠে এসেছে ছবিটিতে। আর ইন্দে নাভারেটের শক্তিশালী অভিনয় ছবিটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।

‘আওয়ার হিরো, বালথাজার’
সিনেমাটির নামে ‘হিরো’ থাকলেও বালথাজার মোটেও প্রচলিত অর্থে নায়ক নয়। জেডেন মার্টেল অভিনীত চরিত্রটি নিউইয়র্কের এক ধনী পরিবারের একঘেয়েমিতে ভোগা তরুণ, যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কান্নার ভিডিও প্রকাশ করে মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

‘আওয়ার হিরো, বালথাজার’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

পরিচালক অস্কার বয়েসনের তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি বর্তমান প্রজন্মের একাকিত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপনের প্রবণতা এবং ভার্চ্যুয়াল জীবনের অস্বস্তিকর বাস্তবতা সামনে নিয়ে আসে। এক স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় সমবেদনা জানিয়ে ভিডিও পোস্ট করার পর হামলাকারী নিজেই বালথাজারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। আসা বাটারফিল্ড সেই রহস্যময় তরুণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। শুরুতে এটি অদ্ভুত এক বন্ধুত্বের গল্প মনে হলেও শেষ পর্যন্ত ছবিটি হয়ে ওঠে ডিজিটাল যুগে পথ হারানো এক প্রজন্মের নির্মম প্রতিচ্ছবি। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ইডেন মার্তেল, আসা বাটারফিল্ড ও নোয়া সেন্টিনিও।

‘পাওয়ার ব্যালাড’
জন কার্নির এই মিউজিক্যাল ড্রামা আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছানোর দাবি রাখে। পল রাড অভিনয় করেছেন রিক পাওয়ার চরিত্রে—আশির দশকের শেষ দিকে সম্ভাবনাময় এক রকশিল্পী, যাঁর সংগীতজীবন কখনোই প্রত্যাশামতো সফল হয়নি। এখন তিনি আয়ারল্যান্ডে ওয়েডিং সিঙ্গার হিসেবে কাজ করে পরিবার নিয়ে শান্ত জীবন কাটান। একদিন তাঁর পরিচয় হয় ড্যানির (নিক জোনাস) সঙ্গে, একসময়ের জনপ্রিয় বয় ব্যান্ডের সাবেক গায়ক।

কয়েক মাস পর ড্যানির গাওয়া একটি স্লো-রক গান তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু রিক বুঝতে পারেন, গানটি আসলে তাঁরই লেখা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছবিটি শুধু চুরি হয়ে যাওয়া একটি গানের গল্প বলে না; বরং একজন শিল্পীর হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন, পরিচয় এবং সৃষ্টিশীলতার মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পল রাডের সংযত অভিনয় আর জন কার্নির নির্মাণশৈলী ‘পাওয়ার ব্যালাড’কে হৃদয়স্পর্শী ড্রামায় পরিণত করেছে।

‘পাওয়ার ব্যালাড’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

‘রোজ অব নেভাডা’
২০১৯ সালে ‘বেইট’ দিয়ে আলোচনায় আসা ব্রিটিশ নির্মাতা মার্ক জেনকিনের নতুন চলচ্চিত্র ‘রোজ অব নেভাডা’। স্বল্প বাজেটের ছবি নির্মাণের জন্য পরিচিত এই পরিচালকের আগের কাজগুলোর তুলনায় এটি অনেক বড় পরিসরের। ছবিতে অভিনয় করেছেন জর্জ ম্যাকে এবং জেমস বন্ড চরিত্রে সম্ভাব্য অভিনেতাদের একজন হিসেবে আলোচিত কালাম টার্নার।

১৬ মিলিমিটার ফিল্মে ধারণ করা ছবিটির প্রতিটি ফ্রেম যেন পুরোনো, রোদে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া একটি পারিবারিক অ্যালবামের কথা মনে করিয়ে দেয়। গল্পে দেখা যায়, আর্থিক সংকটে থাকা দুই জেলে একটি পুরোনো ট্রলারে চেপে অতীতের উদ্দেশে যাত্রা করে। তবে টাইম ট্রাভেলের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার চেয়ে স্মৃতি, অনুশোচনা এবং মানুষের আবেগের দিকটিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মার্ক জেনকিন। সেই কারণেই ‘রোজ অব নেভাডা’ শুধু সায়েন্স ফিকশন নয়, একই সঙ্গে গভীর মানবিক এক চলচ্চিত্র। সিনেমাটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জর্জ ম্যাককে ও ক্যালাম টার্নার।

‘সাইলেন্ট ফ্রেন্ড’
‘ট্রি-হাগার’ শব্দটি আজ অনেক সময় বিদ্রূপের অর্থে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ইলডিকো এনিয়েডির এই সিনেমা যেন সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ জানায়। অস্কার মনোনীত ‘অন বডি অ্যান্ড সোল’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া এই হাঙ্গেরীয় নির্মাতা মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ককে তুলে ধরেছেন এক মায়াবী, সংবেদনশীল চলচ্চিত্রে।
তিনটি ভিন্ন সময়ের গল্পকে একসুতায় বেঁধেছে একটি প্রাচীন জিঙ্কোগাছ। কোভিড মহামারির সময় হামবুর্গের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা এক বিজ্ঞানীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন টনি লিয়াং। একসময় তিনি আবিষ্কার করেন, গাছের সঙ্গে যেন এক অদ্ভুত যোগাযোগ গড়ে উঠেছে তাঁর। অন্য দুই সময়রেখায় লুনা ওয়েডলার ও জোহানেস হেগেমানের চরিত্রও সেই একই গাছের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। মানুষ, প্রকৃতি ও সময়ের সম্পর্ককে নতুনভাবে ভাবতে শেখায় ছবিটি। ভ্যারাইটির ভাষায়, ‘এটি এমন এক চলচ্চিত্র, যার আসল জাদু ভাষায় পুরোপুরি ধরা যায় না; সেটি অনুভব করতে হয় পর্দার সামনেই।’

‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

‘টয় স্টোরি ৫’
প্রায় তিন দশক ধরে উডি, বাজ লাইটইয়ার আর তাদের খেলনা-বন্ধুরা শুধু শিশুদের নয়, বড়দেরও সঙ্গী। সমালোচক ওয়েন গ্লেইবারম্যানের ভাষায়, ‘টয় স্টোরি ৫’ হলো ‘টয় স্টোরি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘অ্যাবি রোড’; অর্থাৎ পুরো সিরিজের আবেগ ও দর্শনকে একজায়গায় এনে দাঁড় করানো একটি চলচ্চিত্র। তবে ছবিটি শুধু পুরোনো স্মৃতির ওপর নির্ভর করে না। স্মার্টফোন আর ট্যাবলেটের যুগে এটি একটি নতুন প্রশ্ন তোলে—শিশুরা যদি কল্পনা করে খেলাই ভুলে যায়, তাহলে তাদের শৈশব আর বেড়ে ওঠা কতটা বদলে যাবে?

পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্যান্টন আবারও আবেগ, হাস্যরস আর কল্পনাশক্তিকে একসুতায় গেঁথেছেন। ক্লাইম্যাক্সের দৃশ্যটি ছবির অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। ‘টয় স্টোরি ৫’ শুধু বিনোদনই দেয় না, শেষ পর্যন্ত মনে করিয়ে দেয়—বাস্তব পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নয়, বরং কল্পনাশক্তিকে সঙ্গী করেই জীবনের আনন্দ খুঁজে নিতে হয়।

‘দ্য ফিউরিয়াস’
অ্যাকশন সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন তাহলে ‘দ্য ফিউরিয়াস’ আপনাকে দেখেই হবে। পরিচালক কেনজি তানিগাকি মূলত অ্যাকশন কোরিওগ্রাফার হিসেবেই পরিচিত। তাই অপহৃত মেয়েকে উদ্ধারের চিরচেনা গল্পটি খুব একটা নতুনত্ব না আনলেও তাঁর আসল শক্তি ফুটে উঠেছে অ্যাকশনে। ‘দ্য ফিউরিয়াস’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দম ফেলার সুযোগ দেয় না। সময় যত এগোতে থাকে, অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর বিন্যাস ধাপে ধাপে আরও বড় ও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। শুরুতে ট্রাকের চারপাশে ও ভেতরে জ্যাকি চ্যান ঘরানার কুংফু লড়াই দেখা যায়, যেখানে স্টান্টগুলো রক্তপাতের চেয়েও কৌশলনির্ভর। কিন্তু এরপর প্রতিটি সংঘর্ষ আগের চেয়ে আরও নির্মম হয়ে ওঠে।
ছবির সাউন্ড ডিজাইন এমনভাবে করা, যেন আঘাতগুলো নিজেরই গায়ে লাগে।

‘দ্য ফিউরিয়াস’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

গতিশীল ক্যামেরা প্রতিটি লড়াইয়ের ভেতর ঢুকে পড়ে।সঙ্গে ইলেকট্রনিক সংগীত যোগ হয়ে পুরো অভিজ্ঞতাকে আরও তীব্র করে তোলে। প্রতিটি সেট-পিসের পরিকল্পনা এবং সম্পাদনার ছন্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুব কম। চরিত্রগুলোর চলাফেরা, আঘাত ও প্রতিঘাত এমনভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে যে টানা অ্যাকশন থাকলেও বিরক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। ‘দ্য ফিউরিয়াস’ হংকংয়ের অসংখ্য ক্ল্যাসিক মার্শাল আর্ট ছবির প্রভাব বহন করলেও নিছক অনুকরণে আটকে থাকেনি। কেনজি তানিগাকি নিজের স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলীতে এমন এক অ্যাকশন চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শককে আসন ছেড়ে ওঠার সুযোগ দেয় না। চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত এই অ্যাকশন সিনেমায় অভিনয় করেছেন শি মিয়াও, জো তসলিম, ব্রায়ান লে।

‘দ্য অডিসি’
হোমারের মহাকাব্যটি আগেও চলচ্চিত্র রূপ পেয়েছে। কিন্তু ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য অডিসি’ অন্য কারণে আলাদা। তিনি শুধু মহাকাব্যটি পর্দায় তুলে আনেননি, নতুনভাবে ব্যাখ্যাও করেছেন। মূল কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ অক্ষুণ্ন রেখেও ওডেসিয়াসের চরিত্রে যোগ করেছেন নতুন মাত্রা। হোমারের ওডেসিয়াস যেখানে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, যুদ্ধজয়ী বীর; নোলানের ওডেসিয়াস সেখানে অনেক ক্লান্ত, অনুতপ্ত ও মানবিক। হোমারের মূল মহাকাব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুবাদ ও ঐতিহাসিক সূত্র থেকে গল্পটিকে নিজের মতো করে নির্মাণ করেছেন তিনি। বিশেষ করে এমিলি উইলসনের ইংরেজি অনুবাদের প্রভাব ছবিতে স্পষ্ট। মুক্তির পর দেখে সিনেমাটি সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে, বক্স অফিসেও ঝড় তুলেছে। মূল মহাকাব্যের পর্দায় রূপায়ণ নিয়ে বিস্তার তর্ক বিতর্কও হয়েছে। তবে আপনি নোলান ভক্ত হন বা না হন, এই সিনেমা আপনাকে দেখতেই হবে। কারণ, এ ধরনের সিনেমা বড় পর্দায় না দেখা মানে বড় একটা মিস।

চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন, অ্যান হ্যাথওয়ে, রবার্ট পাটিনসন, টম হল্যান্ড, জেনডায়া, সামান্থা মর্টন, লুপিতা নিওঙ্গ।

‘দ্য অডিসি’ সিনেমার দৃশ্যে ম্যাট ডেমন ও জেনডায়া। আইএমডিবি

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’
মুক্তির পর বক্স অফিসে একটার পর একটা রেকর্ড গড়ছে ‘স্পাইডার-ম্যান’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন সিনেমাটি। বাংলাদেশেও সিনেমাটি নিয়ে উন্মাদনা কম হয়। তবে রেকর্ডের কারণে নয়, অনেক সমালোচকও বলছেন, এটি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম পরিণত নির্মাণ। মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ৩৮তম ও ‘স্পাইডার-ম্যান’ ফ্র্যাঞ্চাইজির চতুর্থ সিনেমা এটি। ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত সিনেমাটিতে যথারীতি স্পাইডার-ম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম হল্যান্ড। তাঁর নায়িকা হিসেবে আগের মতোই থাকছেন জেনডায়া। জেনডায়া, জ্যাকব ব্যাটালন ও হাল্ক চরিত্রে মার্ক রাফেলোর চেনা প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি এই সিনেমায় বেশ কয়েকটি নতুন মুখের সংযোজন ঘটছে। ইমান এসফান্দি ও সেডি সিঙ্কের চরিত্র নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মার্ভেল-ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হলো, নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘ডেয়ারডেভিল’-এর পর জন বার্নথাল আবারও তাঁর আইকনিক ‘ফ্র্যাঙ্ক ক্যাসেল’ বা ‘দ্য পানিশার’ চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরছেন।

ছবির গল্পে দেখা যাবে, পৃথিবীর মানুষ আর পিটার পার্কারকে মনে রাখে না। কিন্তু ‘স্পাইডার-ম্যান’ হিসেবে তিনি অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরোনো বন্ধুরা যখন নিজেদের জীবনে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একাকিত্ব ও মানসিক চাপ পিটারকে বদলে দিতে শুরু করে। সেই পরিবর্তন হয়তো তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তনই হতে পারে শহর এবং তাঁর প্রিয় মানুষদের রক্ষা করার একমাত্র উপায়। কারণ, এবার তাঁর মুখোমুখি হতে হবে এমন এক শক্তিশালী খলনায়কের, যাকে কেউ দেখতেই পারে না।

স্পাইডার-ম্যানকে এবার একেবারে নতুন রূপে দেখতে পাবেন দর্শক। ছবিটির প্রিমিয়ারে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে টম বলেন, ‘এবারের গল্প অনেক বেশি পরিণত; আবহও আগের চেয়ে অন্ধকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছবির গল্পটি তরুণেরা সহজেই নিজেদের জীবনের সঙ্গে মেলাতে পারবে।’

ভ্যারাইটি ও বিবিসি অবলম্বনে