
নির্বাচন মানেই উত্তেজনা, মেরুকরণ, কৌশল আর কখনো কখনো হতাশা। বাস্তব রাজনীতি যেখানে ধূসর, সেখানে সিনেমার দুনিয়ায় নির্বাচন প্রায়ই হয়ে ওঠে হাস্যরস, ব্যঙ্গ আর রঙিন চরিত্রের মেলবন্ধন। ভালো বনাম মন্দ, আন্ডারডগের উত্থান, মিডিয়ার কারসাজি, স্ক্যান্ডাল আর শেষ মুহূর্তের টুইস্ট—সবই আছে এই ঘরানার ছবিগুলোয়। ভোটের আগে মন হালকা করতে কিংবা রাজনীতির নাটকীয় দিকটা নতুন চোখে দেখতে চাইলে, এই পাঁচটি নির্বাচনী কমেডি সিনেমা হতে পারে দারুণ সঙ্গী।
‘ব্ল্যাক শিপ’
অভিনয়: ক্রিস ফার্লি, ডেভিড স্পেড পরিচালনা: পেনেলোপ স্পিরিস
ক্রিস ফার্লির কমেডির পূর্ণ প্রদর্শনী যেন এই ছবি। গল্পে মাইক ডনেলি (ফার্লি) তাঁর ভাই আল ডনেলির (ওয়াশিংটনের গভর্নর প্রার্থী) প্রচারণায় সাহায্য করতে গিয়ে বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। ভালোবাসা আর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সংঘর্ষে তৈরি হয় হাস্যকর কাণ্ডকারখানা।
ছবিটি আদর্শবাদী ভালো-মন্দের দ্বন্দ্বকে সরল রেখায় দেখায়—একদিকে সৎ প্রার্থী, অন্যদিকে ‘জেতার জন্য সবকিছু’ করতে প্রস্তুত প্রতিপক্ষ। প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকের কাছে হয়তো কিছু কৌতুক শিশুসুলভ লাগতে পারে, তবু ফার্লির উচ্ছল উপস্থিতি আর হৃদয়ের জায়গা থেকে বলা গল্প ছবিটিকে আজও দেখার মতো।
‘ওয়াগ দ্য গড’
অভিনয়: রবার্ট ডি নিরো, ডাস্টিন হফম্যান পরিচালনা: ব্যারি লেভিনসন
নির্বাচন, মিডিয়া আর ‘স্পিন’-এর ভয়ংকর শক্তিকে বিদ্রূপ করে এই বুদ্ধিদীপ্ত স্যাটায়ার। প্রেসিডেন্টের যৌন কেলেঙ্কারির মনোযোগ ঘোরাতে হোয়াইট হাউস ভুয়া যুদ্ধ সাজায়—আলবেনিয়ার সঙ্গে! রাজনীতির পর্দার আড়ালে কীভাবে জনমত তৈরি হয়, মিডিয়া কীভাবে বাস্তবতা বানায়—সবই তীক্ষ্ণভাবে দেখায় ছবিটি।
মজার বিষয়, ছবিটি মুক্তির এক মাস পরই বাস্তবে মনিকা লিউনস্কি কেলেঙ্কারি সামনে আসে, যা সিনেমার ব্যঙ্গকে আরও বাস্তবসম্মত করে তোলে। এই সিনেমা মনে করিয়ে দেয়, ভোটার হিসেবে আমরা কতটা সহজে প্রভাবিত হতে পারি।
‘ইলেকশন’
অভিনয়: রিজ উইদারস্পুন, ম্যাথিউ ব্রডেরিক পরিচালনা: আলেকজান্ডার পেইন
হাইস্কুল স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হলেও এই ছবির রাজনীতি পুরোপুরি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের। ট্রেসি ফ্লিক (রিজ উইদারস্পুন) অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী, নিয়মানুবর্তী, জেতার জন্য মরিয়া। আর শিক্ষক জিম ম্যাকঅ্যালিস্টার (ব্রডেরিক) ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে তাঁকে ঠেকাতে ওঠেপড়ে লাগে।
নৈতিকতা বনাম জেতার লড়াই—এই প্রশ্নটি ছবির কেন্দ্রে। ট্রেসির মুখে শোনা যায়, ‘নৈতিক আচরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’; কিন্তু বাস্তবে নৈতিকতা কি জয়ের নিশ্চয়তা দেয়? এই সিনেমায় দেখায়, ক্ষমতার লড়াই বয়স দেখে না।
‘নেপোলিয়ন ডাইনামাইট’
অভিনয়: জন হেডার, এফ্রেন রামিরেজ, হেইলি ডাফ পরিচালনা: জ্যারেড হেস
কাল্ট-ক্ল্যাসিক এই ছবিতে স্কুল নির্বাচন একটি বড় মোটিফ। নেপোলিয়নের বন্ধু পেদ্রো সানচেজের প্রার্থিতা—চুপচাপ, নির্লিপ্ত, ক্যারিশমা কম, প্রতিদ্বন্দ্বী সামার হুইটলি-জনপ্রিয়, কিন্তু ভেতরে ফাঁপা।
এখানে নির্বাচন মানে কেবল নীতি নয়, আন্ডারডগের জয়। ‘দুটি মাঝারি বিকল্পের মধ্যে কম খারাপটি বেছে নেওয়া’, বাস্তব ভোটের এই অনুভূতিকে কৌতুকের মোড়কে তুলে ধরে ছবি। আর নেপোলিয়নের বিখ্যাত ড্যান্স সিকোয়েন্স-নির্বাচনী সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
‘দ্য ক্যামপেইন’
অভিনয়: উইল ফারেল, জ্যাক গ্যালিফিয়ানাকিস পরিচালনা: জে রোচ
আধুনিক মার্কিন নির্বাচনের তামাশাকে সরাসরি ব্যঙ্গ করে এই সিনেমা। কংগ্রেসের একটি আসনের জন্য লড়াই-ক্ষমতাধর ইনকাম্বেন্ট ক্যাম ব্র্যাডি (ফারেল) বনাম আন্ডারডগ মার্টি হাগিন্স (গ্যালিফিয়ানাকিস)। বড় টাকা, ইমেজ মেকওভার, আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপন—সব মিলিয়ে রাজনীতির সার্কাস।
ছবিটি দেখায় কীভাবে নীতির চেয়ে চুলের স্টাইল, স্লোগান আর মিডিয়া ইমেজ অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিছু রসিকতা হয়তো অতিরিক্ত, কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে এর মিলই ছবিটিকে প্রাসঙ্গিক করে।
কেন দেখবেন?
এই পাঁচটি সিনেমা মনে করিয়ে দেয়—রাজনীতি কেবল নীতি আর বক্তৃতা নয়; এটি ইমেজ, গল্প, আবেগ আর কখনো কখনো নিখাদ প্রহসন।
টাইম অবলম্বনে