অ্যামাজনের ‘রিচার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন অ্যালান রিচসন। এবার নেটফ্লিক্সের ‘ওয়ার মেশিন’ দিয়ে নজর কাড়লেন। মুক্তির প্রায় তিন সপ্তাহ পরও সিনেমাটি প্ল্যাটফর্মটির বৈশ্বিক তালিকার দুইয়ে রয়েছে।
‘রিচার’ থেকে আরও কঠিন
‘রিচার’ সিরিজে বিশালদেহী প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছিলেন অ্যালান রিচসন। কিন্তু ‘ওয়ার মেশিন’ সিনেমার অভিজ্ঞতা ছিল আরও কঠিন। অভিনেতার নিজের ভাষায়, এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ—যেখানে বহুবার মনে হয়েছে, শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন কি না।
প্যাট্রিক হিউজের এই সিনেমায় ‘৮১’ নামের এক কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিচসন। যুদ্ধক্ষেত্রে ভাইয়ের মৃত্যু দেখার পর জীবনের অর্থ খুঁজতে আর্মি রেঞ্জার প্রশিক্ষণে যোগ দেন তিনি। কিন্তু শেষ মিশনে এসে সামনে দাঁড়ায় এক অদ্ভুত ও ভয়ংকর শত্রু—একটি রহস্যময় যান্ত্রিক হত্যাযন্ত্র। তখন শুধু শারীরিক নয়, মানসিক লড়াইয়েও রূপ নেয় যুদ্ধ।
শুটিং সেটে বাস্তবের যুদ্ধ
এই সিনেমার শুটিং ছিল প্রায় যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই কঠিন। দুর্গম লোকেশন, বিপজ্জনক পরিবেশ—সব মিলিয়ে প্রতিটি দৃশ্য ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। রিচসন জানান, শুটিংয়ের মাঝামাঝি সময়ে তিনি এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে একপর্যায়ে মনে হয়েছিল আর এগোনো সম্ভব নয়। বিশেষ করে আর্মি ট্রেনিংয়ের দৃশ্যগুলো বারবার ধারণ করতে গিয়ে তাঁর শরীর ভেঙে পড়ে।
এমনকি পরবর্তী আরেকটি সিনেমার শুটিংয়ে রিচসনকে অক্সিজেন নিতে হয়েছিল—এ থেকেই বোঝা যায় তাঁর শারীরিক ক্লান্তির মাত্রা।
পরিচালক–অভিনেতার অদ্ভুত বন্ধন
পরিচালক প্যাট্রিক হিউজের সঙ্গে রিচসনের কাজের সম্পর্কও বেশ আলাদা। দুজনের মধ্যে এমন এক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও তাঁদের একসঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করছে। এমনকি এই সিনেমার স্মৃতি ধরে রাখতে হাতে একই ট্যাটুও করিয়েছেন তাঁরা—যা এই প্রজেক্টের প্রতি তাঁদের আবেগের প্রতীক।
অ্যাকশনের বাইরে এক মানবিক গল্প
‘ওয়ার মেশিন’ কেবল একটি অ্যাকশন সিনেমা নয়। এর ভেতরে আছে ভ্রাতৃত্ব, আত্মত্যাগ ও মানসিক শক্তির গল্প। রিচসনের ভাষায়, এমন এক চরিত্র তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁরা, যে ভেঙে পড়ার একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়েও টিকে থাকে। কারণ বাস্তব জীবনেও প্রতিদিন এমন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যায় মানুষ।
বিশ্বব্যাপী সাড়া
মুক্তির মাত্র তিন দিনে ছবিটির ভিউ হয় প্রায় ৩৯.৩ মিলিয়ন, তিন সপ্তাহ ধরেই নেটফ্লিক্সের শীর্ষ দশের তালিকার এক থেকে তিনের মধ্যে ছিল ‘ওয়ার মেশিন’।
ছবিতে দেখা যাবে, মার্কিন সেনাবাহিনীর রেঞ্জার প্রশিক্ষণের শেষ ধাপ চলছে। কঠিন প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে একদল তরুণ সেনা। তাঁদের নেতৃত্ব দেয় একজন অভিজ্ঞ সৈনিক (অ্যালান রিচসন)। কিন্তু একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ মিশন হঠাৎই হয়ে ওঠে জীবন বাঁচানোর লড়াই, যখন অজানা উৎসের এক ভয়ংকর যন্ত্র বা এলিয়েন যুদ্ধযন্ত্রের মুখোমুখি হন তাঁরা। অস্ত্র, কৌশল ও বুদ্ধি ব্যবহার করে তাঁদের সেই শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে হয়।
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কিছু প্রাকৃতিক লোকেশনে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে। বাস্তব লোকেশন ব্যবহার করার কারণে ছবির অ্যাকশন দৃশ্যগুলো খুব বাস্তবধর্মী মনে হয়। পরিচালক প্যাট্রিক হিউজেস সিনেমাটিতে যতটা সম্ভব বাস্তব স্টান্ট ও প্রকৃত বিস্ফোরক ব্যবহার করেছেন, যাতে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে মনে হয় আরও বাস্তব। ছবিটি প্রথমে অস্ট্রেলিয়ায় ১২ ফেব্রুয়ারি এবং পরে ৬ মার্চ বিশ্বব্যাপী নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায়।
দ্য হলিউড রিপোর্টার ও ভ্যারাইটি অবলম্বন