মিউ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে সাদিয়া আয়মান
মিউ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে সাদিয়া আয়মান

‘মিউ’ সিনেমায় মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে সাদিয়ার পোষা বিড়াল

পরিবার মানে শুধু এক ছাদের নিচে থাকা কয়েকজন মানুষ নয়; তাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, অভিমান, দায়বদ্ধতা আর নীরব নির্ভরতার গল্প। সেই গল্পের কেন্দ্রে থাকে কখনো মানুষ, কখনো নীরবে সবার হৃদয়ে জায়গা করে নেয় একটি নরম রোমশ প্রাণী। এমনই কিছু আবেগঘন পারিবারিক কাহিনি নিয়ে আসছে ‘মিউ’। চরকির অরিজিনাল চলচ্চিত্রটি ৪ মার্চ রাত ১২টায় মুক্তি পাচ্ছে।

‘মিউ’–এর পরিচালক আতিক জামান বলেন, ‘পারিবারিক গল্পটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে পোষা প্রাণীর উপস্থিতি। শেষ পর্যন্ত পরিবারের ভেতরের টানাপোড়েন, সম্পর্কের জটিলতা আর ভাঙা–গড়াই ছবির মূল শক্তি।’ চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন সাদিয়া আয়মান, আফসানা মিমি, আফজাল হোসেন, ইশতিয়াক আহমেদ, রাকিব হোসেন, আজিজুল হাকিম, কাব্যকথা প্রতীতি ও তামান্না হক।

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন আফসানা মিমি, আজিজুল হাকিম ও সাদিয়া আয়মান

পরিবারটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মা। আফসানা মিমি বলেন, ‘প্রতিটি পরিবারে মা একটি রাজনৈতিক চরিত্র। পরিবার অনেকটা রাষ্ট্রের মতো, মা সেখানে পরিচালক। পরিবারকে ধরে রাখতে কখনো বকা দেন, কখনো ভালোবাসেন, কখনো আবার কাউকে বঞ্চিতও করেন। এই গল্পে সেই বাস্তবতাই উঠে এসেছে। পাশাপাশি রয়েছে পোষা প্রাণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে মেনে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ।’

‘মিউ’–এর পোস্টার

রাকিব হোসেনের ভাষায়, ‘এটি মসলামুক্ত শহুরে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প। বড় ছেলের বটগাছ হয়ে ওঠার চেষ্টা, দায়িত্ব ও প্রত্যাশার চাপে তার অসহায়ত্ব চরিত্রটিকে খুব মানবিক করেছে। দর্শক সহজেই নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন।’
সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘কাজটি আমার কাছে বিশেষ। কারণ, এখানে পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের গভীর আবেগের সম্পর্কটি খুব সুন্দরভাবে এসেছে। আমরা অনেক সময় তাদের ভালোবাসি, কিন্তু তাদের নির্ভরতার জায়গাটি নিয়ে ঠিকভাবে ভাবি না। এই গল্প সেই জায়গায় ভাবাবে।’

চরকির অরিজিনাল চলচ্চিত্রটি ৪ মার্চ রাত ১২টায় মুক্তি পাচ্ছে

চলচ্চিত্রটির একটি বিশেষ চরিত্রে ‘অভিনয়’ করেছে সাদিয়া আয়মানের বাস্তব জীবনের পোষা বিড়াল ‘আলু’। তিনি বলেন, ‘শুটিংয়ের সময় ওর সব শট একবারেই হয়ে গেছে। খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে।’ এ ছবির সঙ্গে ছোটবেলার একটি স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। সাদিয়া বলেন, ‘আমি ছোটবেলায় একটি বিড়াল পুষতাম, তার নামও ছিল মিউ। সে হারিয়ে যায়। এই গল্পের সঙ্গে আমার জীবনের সেই স্মৃতি অদ্ভুতভাবে মিলে গেছে।’
পরিচালক আতিক জামান বলেন, ‘গল্পটি শুরুতে যেমন ছিল, শেষ পর্যন্ত তেমন থাকেনি। নানা আলোচনা ও ভাবনার পর আমরা একটি মানবিক ও পারিবারিক গল্প দাঁড় করাতে পেরেছি। একটি পরিবারের সব অনুভূতি এতে আছে। পোষা প্রাণীর উপস্থিতি গল্পে নতুন উপলব্ধি তৈরি করেছে।’
মিউ-এর গল্প লিখেছেন মো. আলম ভূঁইয়া। গল্পকার ও নির্মাতা মিলে যৌথভাবে লিখেছেন চিত্রনাট্য ও সংলাপ।