চরকির নতুন প্রকল্প ‘জ্বীনের বাচ্চা’ দিয়ে অভিনেতা থেকে নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। ক্যামেরার সামনেও ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর। চলতি বছর বেশ কয়েকটি সিনেমায় দেখা যাবে তাঁকে। এই অভিনেতা–নির্মাতার সাম্প্রতিক ব্যস্ততার খবর নিয়েছেন লতিফুল হক
অনেক দিন মঞ্চনাটকে কাজ করেছেন। এরপর সিনেমা ও ওয়েবে। কাজ করতে করতেই গল্প বলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আলাপের শুরুতেই মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এটিকে বলছিলেন, ‘গল্প বলার ঝোঁক’। এভাবেই অভিনেতা নূর ইমরানের মধ্যে নির্মাতা তৈরি হতে থাকে। যাঁর হাত ধরে এসেছে জ্বীনের বাচ্চা। নূর ইমরান এটিকে ঠিক পরিকল্পিত নির্মাণ বলতে চান না, আবার হুট করেও করা নয়। প্রথম কাজের জন্য নানা গল্প নিয়ে ভেবেছিলেন। শেষ পর্যন্ত “জ্বীনের বাচ্চা”র কাহিনি তাঁকে নাড়া দেয়।
‘গল্পটির ভেতরে একধরনের নিঃশব্দ ব্যথা আছে। এটিকে দৃশ্যমান না করলে দায় থেকে যেত। আমি থিয়েটারে গল্প বলতে চেয়েছিলাম, সেটা হয়নি; এখন পর্দায় বললাম,’ বলেন নির্মাতা।
প্রথম কাজ মুক্তির পর নিজের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছেন বলে জানালেন নূর ইমরান। কিন্তু নির্মাণের প্রক্রিয়া কেমন লাগল? দেশের বাস্তবতায় নির্মাতাদের তো এখানে জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবই করতে হয়। এই অভিনেতা–নির্মাতা জানালেন পরিচালনার চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং প্রডিউসিং। নির্মাণ নিয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘নিজের দর্শনটাকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা—এটা খুব বেশি কঠিন কাজ। তবে আমার টিম খুবই সাহায্য করেছে। দুই–একটা পরিস্থিতি সামলাতে আর সিদ্ধান্ত নিতে একটু দ্বিধা ছাড়া খুব বেশি সমস্যা হয়নি।’
নির্মাতা হিসেবে সব ধরনের গল্পই বলতে চান নূর ইমরান। তবে বেশি পছন্দ ‘জ্বীনের বাচ্চা’র মতো মিথিক্যাল হরর। কারণ, এ ঘরানায় নানা স্তরে গল্প বলা যায়। বিনোদনের মোড়কে নানা সামাজিক ইস্যুতে বার্তা দেওয়া যায়, চাইলে গল্প যেকোনো দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। ‘এই ঘরানায় আমি অনেক কিছুই বলতে পারি আর কী। আবার দিন শেষে একটা রূপকথার গল্প হয়েও সেটা থেকে যায়,’ বলেন তিনি।
‘জ্বীনের বাচ্চা’ দিয়ে শুরু হলো, সামনে নির্মাতা মোস্তাফিজুর নূর আর কী করতে চান। ‘এটা আসলে নির্ভর করে আমি কখন মুডে থাকি, সেটাই হয়তো পরের গল্পের ধরন ঠিক করে দেবে—প্রেমের গল্প বানাব নাকি আবার মিথিক্যাল হরর বানাব। নাকি একেবারে পরাবাস্তবধর্মী কিছু করব। তবে যা–ই করি, উদ্ভট কিছু করতে চাই। একটু অপ্রচলিত গল্পগুলোকেই বাছতে চাই।’
ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে আশফাক নিপুন, তানিম নূর থেকে মেজবাউর রহমান সুমনের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন নূর ইমরান। জানালেন, এসব নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করা তাঁর নির্মাতা হিসেবে জার্নিকে সহজ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, দেশি নির্মাতাদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে বেশি প্রিয় মেজবাউর রহমান সুমন। বাইরের নির্মাতাদের মধ্যে ভালো লাগে কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর কাজ।
‘রঙিলা কিতাব’, ‘ফেউ’ থেকে ‘গুলমোহর’—গত এক থেকে দেড় বছরে অভিনেতা হিসেবে ওটিটিতে দারুণ সময় কাটিয়েছেন নূর ইমরান। চলতি বছর ফিরছেন বড় পর্দায়। এর মধ্যেই দেশে–বিদেশে সুমনের ‘রইদ’ সিনেমার ট্রেলার প্রশংসিত হয়েছে। চলতি মাসে শেষ হওয়া রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগেও জায়গা করে নেয় সিনেমাটি। এই সিনেমায় চরিত্র হয়ে উঠতে দীর্ঘ এক জার্নির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।
‘আমি নিজে পরাবাস্তব গল্প নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি, “রইদ”–এ সে ধরনের চরিত্র পেয়েছি। এটিকে কাকতালীয়, সৌভাগ্য—সবই বলব। এই সিনেমা, আমার চরিত্র হয়ে ওঠা নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে...। সিনেমাটি আগে মুক্তি পাক, আরাম করে সব বলব,’ বললেন নূর ইমরান।
এ ছাড়া এন রাশেদ চৌধুরীর ‘সখী রঙ্গমালা’য় কাজ করেছেন নূর ইমরান। এখনো শুটিং শেষ হয়নি সিনেমাটির। দক্ষিণবঙ্গের পটভূমিতে নির্মিত কৌতূহল পরিচালিত ‘দুঃসাহস’ সিনেমারও সব কাজ শেষ। জানালেন, নির্মাতারা শিগগিরই হয়তো সিনেমাটি মুক্তির তারিখ জানাবেন। এখন বড় একটি প্রকল্পের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নূর ইমরান। আলোচিত একটি উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে সিনেমাটি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঘোষণা না আসায় এখনই কিছু বলতে চান না।