
এ যেন অলরাউন্ডার মানস চৌধুরী। বিনোদন জগতে তাঁকে রঞ্জন চৌধুরী নামে চেনেন সবাই। দাপটে খেলছেন টেবিল টেনিস, কখনো রোগীর চিকিৎসা করছেন। দুই পরিচয়ের বাইরেও তাঁর আরেকটি পরিচয়, তিনি কণ্ঠশিল্পী। এবারের ঈদে শিল্পীর ‘রঞ্জন চৌধুরী’ নামের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যাবে একাধিক নতুন গান। ক্যারিয়ার, সাম্প্রতিক গানের অবস্থা ও নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।
করোনার মধ্যে সময় কাটছে কীভাবে?
চেম্বারে যাই, রোগী দেখা নিয়ে একটু ব্যস্ত আছি। ইফতারের পর নিয়মিত রোগী দেখি। এ ছাড়া বাড়ির নিচের জিমে ফিটনেস নিয়ে কাজ করছি।
শুনেছি ঈদে আপনার নতুন গান বের হচ্ছে।
হ্যাঁ। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমার দুটি আধুনিক গান বের হবে। গান দুটি আমার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করব। একটি চাঁদরাতে, আরেকটি চাঁদরাতের আগের দিন। একটি গান লিখেছেন শাহীন আনোয়ার, আরেকটি মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। ডুয়েট গানে আমার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন মধুলিকা মণ্ডল। গান দুটি সুর করেছি নিজেই। সংগীতায়োজন করেছেন সব্যসাচী রনি।
এখন গুণী শিল্পীদের মূল্যায়ন কম। উপযুক্ত সম্মান পান না বলে অনেকে এসব গান গাইতে চান না। এসব দেখে সিনেমায় গান গাইতে ইচ্ছে করে না। এখন আমার লক্ষ্য স্টেজ শো।
একসময় ঈদ সামনে রেখে প্রচুর ক্যাসেট বের হতো। সেই রীতি তো হারিয়েই গেছে।
ঐতিহ্যটা নষ্ট হয়েছে পাইরেসির জন্য। আগে আমি অ্যালবাম করে অনেক টাকা পেয়েছি। একেকটি গান গেয়ে ২০-২৫ হাজার টাকা পেয়েছি। এমনও হয়েছে, দু-এক ঘণ্টা গান রেকর্ড করে ৭০-৮০ হাজার টাকা উপার্জন করেছি। এখন সেই দিন হারিয়ে গেছে, ব্যবসাও আর নেই। আগে যাঁরা অ্যালবাম করতেন, তাঁরা এর পেছনে বিনিয়োগ করতেন। কিন্তু পরে ক্যাসেট কোম্পানিগুলো পাইরেসিতে ঢুকে গেল। আর তা ছাড়া গান শোনার নানা মাধ্যম বেরিয়ে গেছে। সব মিলিয়েই আজকের এই অবস্থা।
আপনার বাবা ছিলেন বিখ্যাত গায়ক প্রবাল চৌধুরী। সংগীতের আবহে বড় হয়েও গানকে পেশা হিসেবে নেননি কেন?
আমি এখনো ভালোবেসে গান করি। সংগীত আমার রক্তে। বাবার জন্ম আর মৃত্যুবার্ষিকীতে কেউই খোঁজখবর নেন না। এসব দেখে খুব খারাপ লাগে। আমি চাই, আমার মাধ্যমে আমার বাবা বেঁচে থাকুক।
আপনি বেশ কয়েকটি বাংলা ছবিতেও গান করেছেন। কিছু গান আলোচিতও হয়েছিল। এখন প্লেব্যাকে আপনাকে পাওয়া যায় না কেন?
আসলে এখন গুণী শিল্পীদের মূল্যায়ন কম। উপযুক্ত সম্মান পান না বলে অনেকে এসব গান গাইতে চান না। এসব দেখে সিনেমায় গান গাইতে ইচ্ছে করে না। এখন আমার লক্ষ্য স্টেজ শো। আমার ভালো গানগুলো দর্শক শুনে বলবেন, বাবার কাছাকাছি গাইতে পারি কি না।
আমি এখনো ভালোবেসে গান করি। সংগীত আমার রক্তে। বাবার জন্ম আর মৃত্যুবার্ষিকীতে কেউই খোঁজখবর নেন না। এসব দেখে খুব খারাপ লাগে। আমি চাই, আমার মাধ্যমে আমার বাবা বেঁচে থাকুক।
গান, খেলা, চিকিৎসা—একসঙ্গে তিনটি কাজ সামলান কীভাবে?
ছোটবেলা থেকে এভাবেই বেড়ে উঠেছি। সৃষ্টিশীল কাজের মধ্যেই থাকতে চাই সব সময়। বলতে পারেন, এভাবে কাজ করা অভ্যাস হয়ে গেছে।