
টানা ছয় দিন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন দেশের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতার স্বত্বাধিকারী সেলিম খান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।
প্রথম আলোকে সেলিম খানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী রবিন ইমরান। তিনি জানান, কোভিড-১৯ পজিটিভ হলে সেলিম খানকে ৪ ডিসেম্বর ঢাকার তেজগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে চিকিৎসকেরা গতকাল বুধবার দুপুরে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেন। কিন্তু আজ সকালে সেটা আর কাজ করছিল না। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ছয়টায় সেলিম খানকে মৃত ঘোষণা করেন। রবিন জানিয়েছেন, আজ বাদ আসর রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারে সেলিম খানের বাসভবনের সামনে জানাজা শেষে তাঁকে জুরাইন কবরস্তানে দাফন করা হবে।
আশির দশকে সেলিম খানের হাত ধরে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতার জন্ম। রাজধানীর পাটুয়াটুলী তথা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংগীত প্রযোজনা-পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংগীতা নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিল টানা চার দশক। এখনো প্রযোজনা অব্যাহত রেখেছে তারা। সকালে সংগীতার প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। গীতিকার, সুরকার, যন্ত্র ও কণ্ঠশিল্পী, সংগীতপরিচালক থেকে শুরু করে সংগীতাঙ্গনের প্রায় সবাই সেলিম খানের আকস্মিক মৃত্যুতে মুষড়ে পড়েছেন।
বাংলাদেশের সংগীতের পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলা সংগীতকে দেশে ও বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সংগীতা। সে কথা স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সমসাময়িক আরেক সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেকের স্বত্বাধিকারী সুলতান মাহমুদ বাবুল। সংগীত প্রযোজকদের সংগঠন এমআইবির মহাসচিব ও সিএমভির কর্ণধার এস কে সাহেদ আলী বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রভাবশালী সংগীত ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠার পেছনে সেলিম ভাইদের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তাঁদের মতো মানুষের মেধা, অর্থ ও শ্রমের বিনিময়ে আজ এই ইন্ডাস্ট্রি এত বড় হয়েছে। তাঁর অকাল প্রয়াণ আমাদের অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’ সংগীতাঙ্গনের অনেকে এ–ও বলেছেন, বাংলাদেশের সংগীতের অনেক তারকা ও মহাতারকার আবির্ভাব হয়েছে এই সংগীতার হাত ধরেই।