গতকাল গুণী সম্মাননার মাধ্যমে শুরু হয় সমাপনী আয়োজন। রবীন্দ্রপদকে ভূষিত করা হয় অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেনকে। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার
গতকাল গুণী সম্মাননার মাধ্যমে শুরু হয় সমাপনী আয়োজন। রবীন্দ্রপদকে ভূষিত করা হয় অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেনকে। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার

‘আমরা আবার মাথা তুলে দাঁড়াব’

‘আবার রবীন্দ্রচর্চা হবে, নজরুলচর্চা হবে, আমরা আবার মাথা তুলে দাঁড়াব। আমাদের সংস্কৃতি, গান নিয়ে আমরা মেতে উঠব আশা করি। সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমেই হিংসা, লোভ ও কালিমা থেকে আমরা দূরে থাকতে পারব। মনে রাখবেন, সুদিন ও দুর্দিন—কোনোটাই চিরস্থায়ী নয়; সাহসে বুক বেঁধে সততার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জীবন থেমে থাকে না।’ গতকাল জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের ৪৪তম বার্ষিক অধিবেশন ও রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার।

অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার

গতকাল গুণী সম্মাননার মাধ্যমে শুরু হয় সমাপনী আয়োজন। রবীন্দ্রপদকে ভূষিত করা হয় অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেনকে। মঞ্চে তখন আরও উপস্থিত ছিলেন সদ্যঘটিত কমিটির সভাপতি মফিদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম। রবীন্দ্রপদকে ভূষিত আকরাম হোসেনের শংসাবচন পাঠ করেন লাইসা আহমদ লিসা।
পদক পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, ‘আজকের দিনটা আমার জীবনের সবচেয়ে সম্মানের। আয়োজক, বিবেচক ও নির্বাচকদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সবার কাছে আমি ঋণী। সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায় বলতে হয়, “ঋণ শোধের জন্য নয়, ঋণ স্বীকারের জন্য।”’
সৈয়দ আকরাম হোসেনের বক্তব্যের পর কিশোর ও সাধারণ বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় মানপ্রাপ্তদের সনদ ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। সারা দেশ থেকে মোট ৫৬ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

মফিদুল হক

এরপর শোক প্রস্তাব পেশ করেন জহিরুল হক খান। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া থেকে সুনীল কর্মকারসহ প্রয়াত সংস্কৃতিকর্মীদের স্মৃতিতে শোক জ্ঞাপন করা হয়। এ ছাড়া দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচী ভবনে অগ্নিসংযোগ ও হামলার নিন্দা জানানো হয়। এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম ও সভাপতি মফিদুল হক। এরপর কমিটি ঘোষণা করা হয়। মফিদুল হক সভাপতি, বুলবুল ইসলাম নির্বাহী সভাপতি, লিলি ইসলাম সাধারণ সম্পাদক এবং জহিরুল হক খানকে কোষাধ্যক্ষ করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

কিশোর ও সাধারণ বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় মানপ্রাপ্তদের সনদ ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। সারা দেশ থেকে মোট ৫৬ জনকে পুরস্কৃত করা হয়

সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে শেষ হয় অধিবেশন। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সারওয়ার আলী, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশীদ ও  অধ্যাপক এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম। শেষ পর্বে ছিল সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনের অধিবেশন ও সম্মেলন।
গতকাল সকালে সারা দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধি সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে মফিদুল হককে সভাপতি, বুলবুল ইসলামকে নির্বাহী সভাপতি, লিলি ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ও জহিরুল হক খানকে কোষাধ্যক্ষ করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন কর হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় ‘বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সংগীত’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আলোচক ছিলেন অধ্যাপক কৃষ্টি হেফাজ, অধ্যাপক সন্তোষ ঢালি, ফেরদৌস আরা লিপি ও স্বতন্ত্রা বুলবুল।

শুরুর কথা
বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী জাহিদুর রহিমের প্রয়াণদিবসে ১৯৭৯ সাল থেকে ‘জাহিদুর রহিম স্মৃতি পরিষদ’-এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরে সারা দেশে আরও বড় পরিসরে কাজের জন্য সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ করা হয়। এখন সম্মিলন পরিষদের ৮২টি শাখা রয়েছে। নাম পরিবর্তন করা হলেও জাহিদুর রহিমের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নবীন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রতিযোগিতাভিত্তিক ‘জাহিদুর রহিম স্মৃতি পদক’ প্রবর্তন করা হয়।