
‘প্রেমের সূচক’ নামের একটি গান প্রকাশ করে আলোচনায় তরুণ সংগীতশিল্পী এনজেল নূর। সামনে তাঁকে সিনেমায়ও দেখা যাবে।
‘এটি শুধু কোনো গান নয়, এটা যেন একলা কোনো বৃষ্টির বিকেলে গাড়ির কাচে জমে থাকা জলবিন্দুর মতো নীরব অনুভূতির প্রকাশ। আপনার গলার সুর আর লিরিকসের গভীরতা বুক ছুঁয়ে যায়। গানের প্রতিটি কথা, সুরের প্রতিটি ওঠানামা এক অজানা নস্টালজিয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়’, ‘প্রেমের সূচক’ শুনে ইউটিউবে মন্তব্য করেছেন শেখ সাদমান নামের এক শ্রোতা।
আথিনা চাকমা নামের আরেক শ্রোতা লিখেছেন, ‘এই কণ্ঠ যেন ভোরের শিশিরে ভেজা ফুলের পাপড়ি-কোমল, স্নিগ্ধ, হৃদয়ছোঁয়া। মন্ত্রমুগ্ধের মতো বারবার শুনছি।’
গত ২৭ জুলাই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করেছেন এনজেল। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০ হাজারের বেশি ভিউ হয়েছে। গাওয়ার পাশাপাশি গানের কথা ও সুরও বেঁধেছেন এনজেল।
অতিথি পাখির গান
গানটি লেখার সময় নিজেকে একটি অতিথি পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন এনজেল নূর। একটি অতিথি পাখি যেমন এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে ঘর বাঁধে, কারও প্রেমে পড়ে, কিন্তু সে মনে মনে জানে যে আবহাওয়া বদলালে তাকে চলে যেতে হবে—এই গানেও সেই অনিশ্চয়তা ও বিরহের সুর ফুটে উঠেছে। পাখিটি জানে তাকে চলে যেতে হবে, তাই সে বারবার তার প্রিয় পাখিকে প্রশ্ন করে, ‘এখনই যাবে কি চলে?’
গানে ‘সূচক’ শব্দটিকে অনেকগুলো অর্থে ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে শুরু, পরিমাপক বা ইন্ডিকেটর। তার যতটুকু প্রেম বা ভালোবাসা আছে, তার অস্তিত্ব বা পরিমাপকই হলো তার ওই প্রিয় মানুষ।
স্টোরি টেলার নূর
এর আগে ‘যদি আবার’, ‘তীল’ গেয়ে পরিচিতি পেয়েছেন এনজেল নূর। একটি গান জনপ্রিয় হলে একই ধরনের আরেকটি গান করার পক্ষপাতী তিনি নন। তাঁর কাছে প্রতিটি গান আলাদা গল্প। তিনি বলেন, ‘আমার ৫৮টা গান লেখা আছে। ৫৮টা গানে ৫৮টা গল্প রয়েছে।’
নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেকে সব সময় একজন স্টোরি টেলার বলতে চাই। কারণ, আমার একেকটা গানে একেক রকম গল্প থাকে।’
তাঁর ভাষ্য, ‘আমার একেকটা গান একেক রকম। এগুলো ক্ল্যাসিক্যালের সঙ্গেও মেলে না, মডার্নের সঙ্গেও মেলে না, আবার রবীন্দ্রসংগীতের মতোও না। কিন্তু কিছু একটা তো বটে!’
নূরের ফোনে ৪১২টি সুর রয়েছে। এই সুরগুলো তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা স্টুডিওতে বসে তৈরি করেননি। বরং দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে যখনই কোনো সুর মাথায় এসেছে, রেকর্ড করে রেখেছেন।
তিনি জানান, কখনো বাইক চালানোর সময়, কখনো রান্না করার সময়, এমনকি কারও সঙ্গে কথা বলতে বলতে সুর মাথায় এলেও ফোনে ধরে রাখেন।
জনপ্রিয়তার স্রোতে গা ভাসাতে চান না
অনেক বাণিজ্যিক মিউজিকের অফার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন নূর। কারণ, নির্মাতারা প্রায়ই এমন ‘হিট’ গান চান যাতে কেবল কুইক এন্টারটেইনমেন্ট বা নির্দিষ্ট কিছু বিট থাকে। তাঁর মতে, সব গান যদি কেবল অডিয়েন্সের চাহিদার কথা ভেবে এমন ফর্মুলায় তৈরি হয়, তবে আর্ট বা গল্প বলার আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না।
ইউটিউবে মার্কেটিং, পিআর বা বুস্টিং করে এক সপ্তাহের জন্য ট্রেন্ডিংয়ে আসা তাঁর কাছে সহজ মনে হলেও তিনি তা করতে চান না। তিনি মনে করেন, এমন অনেক গান আছে, যা ১০-১৫ দিন পর আর কেউ শোনে না। তাঁর ভাষ্য, তিনি যদি সেই স্রোতে গা ভাসাতেন, তবে হয়তো আরও বেশি গান রিলিজ করতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তাঁর গানগুলো যেন ১০ বছর পরও একইভাবে শোনে মানুষ।
তাঁর লক্ষ্য তাই দ্রুত হিট নয়, নিজের গল্প বলে যেতে চান এনজেল। তাঁর কাছে একটি গান ধীরে মানুষের কাছে পৌঁছালেও সেটি গুরুত্বপূর্ণ, যদি দীর্ঘদিন পরও মানুষ গানটি শুনতে চায়। তিনি বলেন, ‘সব গান যদি এ রকম হয়ে যায়, তাহলে তো আর্ট থাকল না।’
সামনে অ্যালবাম, সিনেমা
সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি করে গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা আছে। অ্যালবামটি নিয়ে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি ১২টি মৌলিক গানের অ্যালবাম নিয়েও কাজ করছেন। অভিনয়েরও নতুন খবর আছে। সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরে একটি সিনেমার শুটিং হওয়ার কথা। সেখানে তিনি ডালিম কুমারের চরিত্রে অভিনয় করবেন।