শিঙাড়া বিক্রেতার মেয়ের উত্থান, এক কামরার ঘর থেকে কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি

একসময় বাবার শিঙাড়া বিক্রির টাকায় চলত সংসার। মন্দিরে ভজন গেয়ে ৫০ টাকা আয় করতেন তিন ভাইবোন। সেই মেয়েটিই আজ ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের একজন। কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসা, বিলাসবহুল জীবন আর অসংখ্য সুপারহিট গানের মালিক নেহা কক্করের জন্মদিন ছিল গতকাল ৬ জুন। এই শিল্পীর সংগ্রাম, সাফল্য আর অনুপ্রেরণার গল্প জেনে নেওয়া যাক ছবিতে ছবিতে। ছবিগুলো নেহা কক্করের ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া।
১৯৮৮ সালের ৬ জুন উত্তর প্রদেশের ঋষিকেশে জন্ম নেন নেহা কক্কর। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর শৈশব কেটেছে নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে।
নেহার বাবা ছিলেন শিঙাড়া বিক্রেতা। বড় বোন সনু কক্কর যে কলেজে পড়তেন, সেই কলেজের সামনেই শিঙাড়া বিক্রি করতেন তিনি। এ কারণে অনেক সময় বন্ধুদের কটূক্তিও শুনতে হয়েছে নেহাকে।
মা-বাবা ও দুই ভাইবোনকে নিয়ে এক কামরার ছোট্ট ভাড়া বাসায় থাকতেন নেহা। সেই একটি ঘরই ছিল তাঁদের শোবার ঘর, বসার ঘর ও রান্নাঘর।
মাত্র চার বছর বয়স থেকে গান গাওয়া শুরু করেন নেহা। বড় বোন সনু কক্কর ও ভাই টনি কক্করের সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভজন গেয়ে পারিশ্রমিক পেতেন।
উৎসবের সময় মন্দিরে গান গেয়ে তিন ভাইবোন ৫০ টাকা করে আয় করতেন। বাড়ি ফিরে সেই টাকাগুলো তুলে দিতেন মায়ের হাতে।
শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নেহা কক্কর।
দুই ছবিতে জীবনের দুই অধ্যায়।
২০২০ সালের অক্টোবরে গায়ক রোহানপ্রীত সিংকে বিয়ে করেন নেহা। দিল্লিতে বিয়ে এবং চণ্ডীগড়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁদের বিয়ে সে সময় ছিল ভারতের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’–এর দ্বিতীয় সিজনে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন নেহা। শিরোপা জিততে না পারলেও সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বড় স্বপ্নের যাত্রা।
প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়লেও থেমে যাননি নেহা। ২০০৮ সালে প্রকাশ করেন নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘নেহা দ্য রকস্টার’।
একসময় যে মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ই পরে বিচারকের আসনে বসেন নেহা। এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি।
২০০৮ সালে ভাই টনি কক্করকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান নেহা। সংগ্রামের সেই শহরই পরে তাঁকে এনে দেয় তারকাখ্যাতি।
সেকেন্ড হ্যান্ড জওয়ানি’, ‘ধাতিং নাচ’, ‘সানি সানি’, ‘কালা চশমা’, ‘দিলবার’, ‘আঁখ মারে’, ‘কোকাকোলা’ ও ‘সাকি সাকি’—একের পর এক হিট গান তাঁকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
একসময় ৫০ টাকার জন্য গান গাওয়া সেই মেয়েটিই আজ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটির বেশি। সংগ্রাম, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নেহা কক্কর হয়ে উঠেছেন লাখো তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণা।
দিলবার’, ‘কালা চশমা’, ‘আঁখ মারে’ ও ‘কোকাকোলা’—এই গানগুলো শুধু হিটই হয়নি, ইউটিউব ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কোটি কোটিবার শোনা হয়েছে।