লাঠিতে ভর দিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে এলেন লোকসংগীতশিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া। বয়সের ভারে ন্যুব্জ; রোগে–শোকে কাতর, অর্থসংকটে দিন কাটছে তাঁর।
কাঙালিনী সুফিয়াকে নিয়ে গতকাল ‘“খাওনের টাকা নেই, ওষুধ কিনব কই থাইকা”, কষ্টে আছেন কাঙালিনী সুফিয়া’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে প্রথম আলো।
সংবাদটি নজরে আসার পর কাঙালিনী সুফিয়াকে অর্থসহায়তা দেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।
তাঁর হাতে নগদ এক লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়। ফরিদুর রেজা সাগরের পক্ষে প্রথম আলো কার্যালয়ে এই অর্থ তুলে দেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাঙালিনী সুফিয়ার মেয়ে পুষ্প বেগম, নাতনি শিল্পী আক্তার ও প্রথম আলোর হেড অব কালচার অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট মাসুম অপু।
‘টাকা দিয়ে ওষুধ কিনব’
প্রথম আলোর সংবাদে বলা হয়, কিডনি জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন কাঙালিনী সুফিয়া। প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার ওষুধ প্রয়োজন। চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে পারছেন না তিনি।
নগদ এক লাখ টাকা পাওয়ার পর কাঙালিনী সুফিয়া প্রথম আলোকে বললেন, ‘টাকাটা পেয়ে খুব উপকার হলো। এই টাকা দিয়ে ওষুধ কিনব। বাড়িভাড়া দেব। ঈদের কেনাকাটা করব।’
আনিসুল হক জানান, আগামী এক বছর কাঙালিনী সুফিয়াকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’সহ বেশ কয়েকটি গান গেয়ে পরিচিতি পেয়েছেন কাঙালিনী সুফিয়া। গানের সঙ্গেই আজীবন থাকতে চান, নিয়মিত শো করতে চান। প্রথম আলো কার্যালয়ে এসেও গান শোনালেন তিনি, মুখে মুখে গানও বাঁধলেন তিনি।
তবে শরীর আগের মতো সায় দেয় না। বছর তিনেক ধরে হাঁটাচলার জন্য লাঠির ওপর নির্ভর করতে হয় তাঁকে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের উত্তর জামসিং এলাকার ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি।
দেনা মেটাতে কয়েক বছর আগে সাভারের পূর্ব জামসিং এলাকার নিজের বাড়ি বিক্রি করে দেন কাঙালিনী সুফিয়া।