জ্যোতির্ময়ী নায়ক। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
জ্যোতির্ময়ী নায়ক। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

গান গেয়ে ২৫ লাখ টাকা জিতলেন, ক্যানসার রোগীদের গান শোনানো ছিল তাঁর পেশা

প্রায় ১০ মাসের দীর্ঘ প্রতিযোগিতা শেষে ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর বিজয়ীর মুকুট উঠেছে ওডিশার ২৪ বছর বয়সী গায়িকা জ্যোতির্ময়ী নায়কের মাথায়। ট্রফির পাশাপাশি তিনি পেয়েছেন বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ লাখ টাকা নগদ পুরস্কার। আর মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের তনিষ্ক শুক্লা হয়েছেন প্রথম রানারআপ। গতকাল রোববার রাতে এই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রেয়া ঘোষাল, বিশাল দাদলানি ও বাদশাহর বিচারকত্বে অনুষ্ঠিত এবারের আসরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ইয়াদোঁ কি প্লেলিস্ট’। দর্শকপ্রিয়তার কারণে অনুষ্ঠানটির মেয়াদ দুই দফায় বাড়ানো হয়, ফলে প্রতিযোগিতাটি প্রায় ১০ মাস ধরে চলে।

জয়ী হওয়ার পর জ্যোতির্ময়ী বলেন, প্রায় এক বছরের এই যাত্রা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে এসে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। শুরু থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল ভালো গান গাওয়া ও বিচারকদের প্রশংসা অর্জন। পুরস্কারের অর্থ নিয়ে তিনি আগে কখনো ভাবেননি। এখন সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে পরিকল্পনা করবেন।

প্রতিযোগিতার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে জ্যোতির্ময়ী বলেন, কিংবদন্তি শিল্পীদের গান পরিবেশন করতে পারা ছিল তাঁর সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। আর এলিমিনেশনের সময় নিচের সারিতে চলে যাওয়াটা ছিল সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা। তবে দর্শকদের ভোট ও নিজের পরিশ্রমই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

ট্রফি হাতে শ্রেয়া ঘোষালের সঙ্গে জ্যোতির্ময়ী নায়ক। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সংগীতই ছিল পথচলার শক্তি
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ঝোঁক ছিল জ্যোতির্ময়ীর। ভক্তিমূলক ও ওড়িয়া আঞ্চলিক গান দিয়ে তাঁর সংগীতচর্চার শুরু। প্রশিক্ষিত কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি মিউজিক থেরাপিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। ক্যানসার রোগীদের মানসিক স্বস্তি দিতে তিনি সংগীত ব্যবহার করতেন।

জ্যোতির্ময়ীর ভাষায়, সেই রোগীদের আশীর্বাদই তাঁকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, গান শুনে রোগীরা খুশি হতেন এবং তাঁকে একদিন ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে দেখতে চাওয়ার কথা বলতেন। তাঁদের সেই শুভকামনাই তাঁর পথচলার বড় শক্তি ছিল।

প্রথম ওড়িয়া নারী বিজয়ী
জ্যোতির্ময়ী জানান, তিনি ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর ইতিহাসে প্রথম ওড়িয়া নারী, যিনি শুধু প্রতিযোগিতায় অংশই নেননি, শিরোপাও জিতেছেন। এ জন্য তিনি তাঁর বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের পূর্ণ সমর্থনই তাঁকে নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করতে সাহস জুগিয়েছে বলে জানান তিনি।

জ্যোতির্ময়ী নায়ক। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বলিউডে প্লেব্যাকের স্বপ্ন
জ্যোতির্ময়ী এখন বলিউডে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চান। গ্র্যান্ড ফিনালেতে তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তনিষ্ক শুক্লা, অংশিকা চোংকর, মনরাজ বীর সিং, মাইস্কমে বসু ও সুহাইল সুফি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উষা উত্থুপ, উদিত নারায়ণ, পাপন, কুমার শানু, শেহনাজ গিল ও উর্মিলা মাতন্ডকর।
বিজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিচারক শ্রেয়া ঘোষাল বলেন, ‘পুরো মৌসুমে প্রতিযোগীদের বিকাশ খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। প্রত্যেকেই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে মঞ্চকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, ট্রফি যে–ই জিতুক না কেন, এই প্রতিযোগিতাই তাঁদের সংগীতজীবনের নতুন সূচনা।’

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে