
বিতর্ক আর র্যাপার বাদশা যেন একে অপরের সমার্থক! গানের কথা থেকে দৃশ্যায়ন ও একাধিকবার নিজের সৃষ্টির কারণে সমালোচনায় জড়িয়েছেন তিনি। এবার তাঁর সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘টাটিরি’ গানের দৃশ্যায়নে নারীদের আপত্তিকরভাবে তুলে ধরায় আবার বিতর্কে নাম লিখিয়েছেন। বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে বাদশার গানের কথায়ও। যার জেরে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে র্যাপারের বিরুদ্ধে। গায়ককে তলব করেছিল হরিয়ানা নারী কমিশনও। চলতি বিতর্কের আবহে এবার বাদশার বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ।
১ মার্চ ‘টাটিরি’ গানটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেন বাদশা। যদিও প্রথমে এই হরিয়ানভি গান শুনে অনুরাগীরা উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন, তবে দিন কয়েক কাটতে না কাটতেই নিন্দার ঝড় শুরু হয় অন্তর্জালে। কেন? কারণ, গানের কথা ও দৃশ্যে নারীদের ‘ভোগ্যপণ্য’ হিসেবে দেখানোর অভিযোগে রে–রে করে উঠেছে শ্রোতামহল। ওই মিউজিক ভিডিওর গোড়াতেই দেখা যায়, কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে স্কুলের ছাত্রীরা নাচতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও নেপথ্যে গানের চটুল কথা। আর এহেন যৌন ইঙ্গিতমূলক গানে আপত্তি তুলে বাদশার বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল হরিয়ানা নারী কমিশন। অন্যদিকে মুলায়ম সিং যাদবের পুত্রবধূ অপর্ণা যাদবও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগীকে একটি চিঠি লিখে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে বাদশার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেছিলেন। এবার সেই পরিপ্রেক্ষিতে র্যাপারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ।
হরিয়ানা পুলিশের ডিজিপি অজয় সিংঘল জানিয়েছেন, ‘নারী ও নাবালিকাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এহেন কনটেন্টের ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতির পক্ষে হাঁটব। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে বাদশার বিতর্কিত ‘টাটিরি’ গানের লিংক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পঞ্চকুলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ‘টাটিরি’ গান ব্যবহার করা হয়েছে, এমন ৮৫৭টি কনটেন্ট মুছে ফেলা হয়েছে; যার মধ্যে ১৫৪টি ইউটিউব ভিডিও ও ৭০৩টি ইনস্টাগ্রাম রিল। সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেই লিংকগুলো অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
পাশাপাশি বাদশার ‘টাটিরি’ গানটি যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর প্রচার না করা হয়, সে জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হরিয়ানার পঞ্চকুলার সেক্টর ২০–এর সাইবার ক্রাইম শাখায় বাদশার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন অভয় চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, এই গানটিতে নারীদের অশালীন ও অসম্মানজনকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। স্কুলের পোশাকে পড়ুয়াদের এমন নাচ ও অঙ্গভঙ্গি দেখলে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যাবে। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে র্যাপার বাদশার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে হরিয়ানায়।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে