পুরস্কার হাতে টেইলর সুইফট। এএফপি
পুরস্কার হাতে টেইলর সুইফট। এএফপি

এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস

টেইলর সুইফটের ইতিহাস, আর কার হাতে উঠল কোন পুরস্কার

টেইলর সুইফটের জন্য ২০২৬ সালটা যেন একের পর এক সাফল্যের গল্প লিখে চলেছে। ট্রাভিস কেলসিকে বিয়ে করার কয়েক মাসের মধ্যেই এবার সংগীতজগতের আরেকটি বড় রেকর্ড নিজের করে নিলেন এই মার্কিন পপ তারকা। বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পিকক থিয়েটারে অনুষ্ঠিত এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে (ভিএমএ) ইতিহাস গড়েছেন তিনি। পুরস্কারের সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছেন বিয়ন্সেকে। এখন ভিএমএর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পাওয়া শিল্পী টেইলর সুইফট।

এর আগে বিয়ন্সের সঙ্গে যৌথভাবে ৩০টি পুরস্কার নিয়ে শীর্ষে ছিলেন টেইলর। এবার নতুন একটি সম্মান পাওয়ার মধ্য দিয়ে বিয়ন্সেকে ছাড়িয়ে যান তিনি। ‘দ্য ফেট অব ওপেলিয়া’ গানের ভিডিওর জন্য প্রথমবারের মতো দেওয়া ‘আর্টিস্ট ডিরেক্টর অনার্স’ পেয়েছেন টেইলর। গান গাওয়ার পাশাপাশি দৃশ্যনির্ভর গল্প বলায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় এই পুরস্কার।

এবারের আয়োজনে ‘ভিডিও অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও পেয়েছেন টেইলর। পুরস্কারটি গ্রহণের সময় তিনি শ্রদ্ধা জানান প্রয়াত কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টনকে। টেইলর বলেন, পার্টনের লেখা প্রতিটি গানেই গল্প বলার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল। তাঁর ভাষায়, পার্টন খ্যাতি সামলেছেন ‘অনেক ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও সৌজন্যের সঙ্গে’।

ডলি পার্টনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে টেইলর আরও বলেন, তাঁর প্রতিটি গানেই গল্প এত জীবন্ত হয়ে উঠত যে শ্রোতারা সহজেই সেই জগতে ঢুকে পড়তে পারতেন।

নতুন গানে নতুন গল্প

পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি নতুন গান ‘পেশেন্ট জিরো’-এর মিউজিক ভিডিওও প্রথমবার দেখানো হয় অনুষ্ঠানে। ভিডিওটিতে অভিনয় করেছেন কলিন ফ্যারেল ও ডাকোটা জনসন।

গানটিতে এক নারীকে তাঁর সঙ্গীর ব্যাপারে সতর্ক করতে দেখা যায় টেইলরকে। সেই পুরুষের সঙ্গে নিজের অতীত সম্পর্কের কথাও উঠে আসে গানে।

তবে সব বড় পুরস্কার এবার টেইলরের হাতে ওঠেনি। ‘আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার গেছে পপসংগীতের আরেক কিংবদন্তি ম্যাডোনার হাতে।

পুরস্কার হাতে টেইলর সুইফট। এএফপি

পুরোনো স্মৃতি মনে করলেন ম্যাডোনা

পুরস্কার গ্রহণের সময় নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একটি ঘটনা মনে করেন ম্যাডোনা। এমটিভি ভিএমএর প্রথম আসরে মঞ্চে পারফর্ম করার সময় ঘটে যাওয়া একটি বিব্রতকর মুহূর্তের কথা বলেন তিনি। সেই ঘটনার পর তাঁর তৎকালীন ব্যবস্থাপক তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। ম্যাডোনা মজা করে জানান, সেই ব্যক্তি এখন আর তাঁর ব্যবস্থাপক নন।

এবারের অনুষ্ঠানেও ম্যাডোনা ছিলেন অন্যতম আকর্ষণ। ২০০৩ সালে ব্রিটনি স্পিয়ার্স ও ক্রিস্টিনা আগুইলেরার সঙ্গে তাঁর বহুল আলোচিত পারফরম্যান্সের পর এবারই প্রথম ভিএমএর মঞ্চে এককভাবে পারফর্ম করলেন তিনি।

৬৮ বছর বয়সী এই পপ তারকা হাঁটু পর্যন্ত লম্বা বুট ও খোলা প্ল্যাটিনাম চুলে মঞ্চে ওঠেন। সাবরিনা কার্পেন্টারের সঙ্গে পরিবেশন করেন ‘ব্রিং ইয়োর লাভ’। পরে চার্লি এক্সসিএক্সের সঙ্গে ‘ড্যান্সেটেরিয়া’ পরিবেশন করেন।

সাবরিনা কার্পেন্টার ও ম্যাডোনা তাঁদের যৌথ পরিবেশনের জন্য ‘বেস্ট কোলাবরেশন’ পুরস্কারও পান। পুরস্কার গ্রহণের সময় দুজনই জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি বার্তা পাঠিয়ে স্টুডিওতে একসঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ম্যাডোনা।

ম্যাডোনা। ছবি: রয়টার্স

দুই দশক পর সম্মান পেল নির্ভানা

এবারের ভিএমএতে ‘ভিডিও ভ্যানগার্ড’ সম্মান পেয়েছে গ্রাঞ্জ ব্যান্ড নির্ভানা। দুই দশকেরও বেশি সময় পর কোনো ব্যান্ড এই পুরস্কার পেল। ব্যান্ডটির প্রয়াত গায়ক কার্ট কোবেইন ১৯৯৪ সালে আত্মহত্যা করেন। তবে ‘নেভারমাইন্ড’ ও ‘ইন ইউটেরো’র মতো অ্যালবামের মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকে যে প্রভাব তৈরি করেছিল নির্ভানা, তা এখনো সংগীতজগতে প্রবল।

ব্যান্ডের মিউজিক ভিডিওগুলোর ওপর একটি বিশেষ ভিডিও প্রদর্শনের পর বক্তব্য দেন বেসিস্ট ক্রিস্ট নভোসেলিক। তিনি বলেন, নির্ভানার গান এখনো মানুষের কাছে এতটা প্রাসঙ্গিক, কারণ মানুষ এখনো ‘সত্যিকারের ও আপসহীন’ কিছু খুঁজে বেড়ায়।

পুরস্কার হাতে লিসা। এএফপি

পুরস্কারের পাশাপাশি জমকালো পরিবেশনা

এবারের ভিএমএ অনুষ্ঠানটি শুধু পুরস্কারের জন্য নয়, একাধিক বিশেষ পরিবেশনার কারণেও আলোচনায় ছিল। প্রয়াত কান্ট্রি কিংবদন্তি ডলি পার্টনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেন কেসি মাসগ্রেভস।

অন্যদিকে জর্জ মাইকেলের স্মরণে বিশেষ পরিবেশনা করেন টেডি সুইমস, সোমব্র ও রায়ে। জর্জ মাইকেলের বিখ্যাত অ্যালবাম ‘ফেইথ’ প্রকাশের ৪০ বছর পূর্তিকে ঘিরে ছিল এই আয়োজন।

থাই সংগীতশিল্পী ও ব্ল্যাকপিংকের সদস্য লিসাও পেয়েছেন পুরস্কার। ‘ড্রিম’ গানের জন্য তিনি জিতেছেন ‘বেস্ট পপ’ বিভাগে পুরস্কার। গানটিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেনতারো সাকাগুচি।

এবারের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন র‍্যাপার স্নুপ ডগ। সিবিএস ও এমটিভিতে সম্প্রচারিত এই আয়োজনে বরাবরের মতোই পুরস্কারের চেয়ে তারকাদের পারফরম্যান্স, মঞ্চের নানা চমক ও আলোচনার মুহূর্তগুলোই ছিল দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ।

এএফপি অবলম্বনে