বাংলা সিনেমায় সম্পর্কের এই গোপন কুঠুরি খুলে দিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। কোলাজ
বাংলা সিনেমায় সম্পর্কের এই গোপন কুঠুরি খুলে দিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। কোলাজ

সম্পর্কের গোপন কুঠুরি খুলে দেওয়া নির্মাতা

পুরোনো একটি বাড়ি। জানালার ফাঁক গলে ঘরে ঢুকছে একচিলতে আলো। কাছাকাছি থেকেও মানুষগুলোর মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব। কেউ কথা বলতে চেয়েও থেমে যাচ্ছেন, কেউ বছরের পর বছর জমিয়ে রেখেছেন অভিমান। নীরবতার আড়ালে চাপা পড়ে আছে ভালোবাসা, ঈর্ষা, অপরাধবোধ ও না-পাওয়ার বেদনা। এমন দৃশ্য দেখলেই যেন মনে পড়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের কথা।

বাংলা সিনেমায় সম্পর্কের এই গোপন কুঠুরি খুলে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ক্যামেরা খুব বেশি ছুটে বেড়াত না; বরং স্থির হয়ে মানুষের ভেতরটা দেখত। দৃশ্যমান ঘটনার চেয়ে চরিত্রের মনের ভেতরে জমে থাকা অদৃশ্য টানাপোড়েনই ছিল তাঁর আগ্রহের জায়গা।
গতকাল ৩১ আগস্ট ছিল ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্মদিন। বেঁচে থাকলে গতকাল তাঁর বয়স হতো ৬৩ বছর। ১৯৬৩ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রভাবশালী এই নির্মাতা। ২০১৩ সালের ৩০ মে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয়। চলে যাওয়ার ১৩ বছর পরও তাঁর সিনেমা, সংলাপ, পোশাক কিংবা পরিচয় নিয়ে আলোচনা থামেনি; বরং সময় যত এগিয়েছে, ঋতুপর্ণর কাজ আর তুলে যাওয়া প্রশ্নগুলো ততই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

ঘরের ভেতরের মহাকাব্য
ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমায় আদিগন্ত মাঠ কিংবা খোলা আকাশের চেয়ে বেশি দেখা যায় বনেদি বাড়ি, বন্ধ দরজা, বারান্দা, পর্দা টানা জানালা এবং ঘরের আবছা আলো। এই সীমিত পরিসরের মধ্যেই তিনি নির্মাণ করেছেন সম্পর্কের মহাকাব্য।
মা ও মেয়ের দীর্ঘদিনের অভিমান নিয়ে ‘উনিশে এপ্রিল’, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক নারীর লড়াই নিয়ে ‘দহন’, একাকী নারীর নিঃসঙ্গতা ও প্রতারিত হওয়ার গল্প নিয়ে ‘বাড়িওয়ালি’, পারিবারিক পুনর্মিলনের আড়ালে সম্পর্কের ভাঙন নিয়ে ‘উৎসব’—একটির পর একটি ছবিতে তিনি বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের চেনা মানুষদের নতুনভাবে হাজির করেছেন।

তাঁর সিনেমার চরিত্রগুলোকে সহজে ভালো বা মন্দ বলে ভাগ করা যায় না। তারা ভুল করে, আঘাত দেয়, কখনো স্বার্থপর হয়ে ওঠে; তবু নির্মাতা তাদের বিচার করতে বসেন না। বোঝার চেষ্টা করেন। এই মানবিক দৃষ্টিই তাঁর ছবিগুলোকে সময়ের সীমানা পেরিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

সিনেমার দৃশ্যে ঋতুপর্ণ ঘোষ। আইএমডিবি

বিজ্ঞাপন থেকে চলচ্চিত্রে
ঋতুপর্ণর বাবা সুনীল ঘোষ ছিলেন তথ্যচিত্র নির্মাতা ও চিত্রকর। শিল্প ও চলচ্চিত্রের আবহেই তাঁর বেড়ে ওঠা। সাউথ পয়েন্ট হাইস্কুলে পড়াশোনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডিগ্রি নেন। কর্মজীবন শুরু করেন বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। অল্প কথায় মানুষের মনোযোগ কাড়ার যে দক্ষতা বিজ্ঞাপনে অর্জন করেছিলেন, পরে তাঁর চলচ্চিত্রের সংলাপেও সেই মুনশিয়ানা দেখা গেছে।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘হীরের আংটি’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু। তবে তাঁকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে দ্বিতীয় সিনেমা ‘উনিশে এপ্রিল’। অপর্ণা সেন ও দেবশ্রী রায় অভিনীত ছবিটি শ্রেষ্ঠ বাংলা কাহিনিচিত্র হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

‘দহন’, ‘অসুখ’, ‘বাড়িওয়ালি’, ‘উৎসব’, ‘তিতলি’, ‘শুভ মহরত’, ‘চোখের বালি’, ‘রেইনকোট’, ‘অন্তরমহল’, ‘দোসর’, ‘খেলা’, ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’, ‘আবহমান’, ‘নৌকাডুবি’ও ‘চিত্রাঙ্গদা’র মতো ছবির মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সিনেমায় নিজস্ব একটি ধারা তৈরি করেন। দুই দশকের কর্মজীবনে তাঁর কাজ ১২টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।

নারীকে দেখেছিলেন মানুষ হিসেবে
ঋতুপর্ণর প্রথম দিকের ছবিগুলো তাঁকে নারীবাদী নির্মাতার পরিচিতি দিয়েছিল। তাঁর ছবির নারীরা কেবল মা, স্ত্রী বা প্রেমিকা নন; তাঁদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা, ক্ষোভ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ব্যর্থতা আছে।

‘উনিশে এপ্রিল’-এ প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিল্পী মা ও অভিমানী মেয়ের সম্পর্ককে তিনি একমাত্রিক করে তোলেননি। ‘দহন’-এ যৌন নিপীড়নের শিকার নারী এবং প্রতিবাদী প্রত্যক্ষদর্শী—দুজনের সামাজিক লড়াই আলাদা হলেও তাঁদের অসহায়তার জায়গা পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়। ‘বাড়িওয়ালি’র বনলতা নিঃসঙ্গ, কিন্তু তাঁরও প্রেম ও সংসারের আকাঙ্ক্ষা আছে। ‘তিতলি’তে একই পুরুষকে ঘিরে মা ও মেয়ের আবেগ দেখাতে গিয়ে মাকে কেবল বয়সী অভিভাবকের ছাঁচে আটকে রাখেননি; তাঁকে রোমান্টিক ও আকর্ষণীয় নারী হিসেবেও তুলে ধরেছেন।

‘চোখের বালি’তে বিধবা বিনোদিনীর প্রেম, কামনা ও অধিকারবোধ সামনে এনে প্রচলিত সামাজিক ধারণাকে প্রশ্ন করেন ঋতুপর্ণ। গয়না ও রঙিন পোশাকে বিনোদিনীর উপস্থিতি ছিল সেই নিষেধের বিরুদ্ধেই দৃশ্যমান প্রতিবাদ। রবীন্দ্রনাথের বহুল পঠিত উপন্যাসকে তিনি কেবল পর্দায় রূপ দেননি, সমকালীন দর্শকের সামনে নতুন করে পাঠও করেছিলেন।

নারীদের নিয়ে সিনেমা বানালেও তিনি তাঁদের নিখুঁত বা মহিমান্বিত করে দেখাননি। তাঁর নারীরা ভুল করেন, ঈর্ষান্বিত হন, প্রতিশোধ নিতে চান, আবার ভালোবাসেনও। সম্ভবত এখানেই তাঁর নির্মাণের বড় শক্তি—নারীকে কোনো প্রতীক নয়, পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে দেখা।

তারকারাও হয়ে উঠতেন অন্য মানুষ
ঋতুপর্ণ ঘোষ তাঁর ছবিতে বাংলা ও হিন্দি সিনেমার অনেক পরিচিত অভিনয়শিল্পীকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে হাজির করেছেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেবশ্রী রায় ও রাইমা সেনদের পাশাপাশি অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, অজয় দেবগন, মনীষা কৈরালা, রাখি গুলজার, শর্মিলা ঠাকুর, নন্দিতা দাস, কিরণ খের, বিপাশা বসু, প্রীতি জিনতা ও অর্জুন রামপাল তাঁর পরিচালনায় অভিনয় করেছেন।

তারকাদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগালেও তাঁদের পর্দার পরিচিত ভাবমূর্তির মধ্যে আটকে রাখেননি। ‘চোখের বালি’র ঐশ্বরিয়া, ‘রেইনকোট’-এর অজয় দেবগন ও ঐশ্বরিয়া, ‘দ্য লাস্ট লিয়ার’-এর অমিতাভ কিংবা ‘দোসর’-এর প্রসেনজিৎ—প্রত্যেককেই দর্শক অন্য এক আলোয় দেখেছেন।

এই তারকাসমৃদ্ধ নির্মাণ ছিল তাঁর সচেতন কৌশলও। তথাকথিত শিল্পসিনেমার সংবেদনশীলতা বজায় রেখেও বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছানোর পথ তৈরি করেছিলেন তিনি। ফলে তাঁর ছবিতে বুদ্ধিবৃত্তি ছিল, কিন্তু দুর্বোধ্যতা ছিল না; সাহিত্য ছিল, কিন্তু ভারী ভাষার অহংকার ছিল না।

‘চোখের বালি’ সিনেমার পোস্টার। আইএমডিবি

নিজের পরিচয়ও হয়ে উঠেছিল বক্তব্য
কর্মজীবনের শেষ দিকে ঋতুপর্ণর সিনেমা ও ব্যক্তিজীবনের দূরত্ব ক্রমেই কমে এসেছিল। জেন্ডার ও যৌন পরিচয় নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন, প্রচলিত পোশাক ও সৌন্দর্যের ধারণাকে প্রশ্ন করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার রক্ষণশীল সমাজে তখন এমন অবস্থান নেওয়া সহজ ছিল না।

অনেকে তাঁকে বুঝতে পারেননি। কেউ উপহাস করেছেন, কেউ দূর থেকে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু তিনি নিজের উপস্থিতিকেই একধরনের সাংস্কৃতিক বক্তব্যে পরিণত করেছিলেন। তাঁর পোশাক, অলংকার ও জনসমক্ষে নিজেকে তুলে ধরার ধরন যেন বারবার বলেছে—মানুষের পরিচয়কে একটি নির্দিষ্ট বাক্সে আটকে রাখা যায় না।
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’ ও সঞ্জয় নাগের ‘মেমোরিজ ইন মার্চ’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সমকামী মানুষের সম্পর্ক, নিঃসঙ্গতা ও সামাজিক অস্বীকৃতিকে সামনে আনেন। নিজের পরিচালিত ‘চিত্রাঙ্গদা’য় রুদ্র চরিত্রে অভিনয় করে শরীর, পরিচয়, আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নকে আরও ব্যক্তিগত স্তরে নিয়ে যান। তাঁর শেষ দিকের কাজগুলোয় জেন্ডার ও যৌন পরিচয়ের অনুসন্ধান বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

ঋতুপর্ণর শিল্প যেন তাঁর জীবনের সম্প্রসারণ; তাঁর জীবনও হয়ে উঠেছিল শিল্পের প্রতিধ্বনি। অধিকাংশ শিল্পী শুধু কাজের মধ্য দিয়ে কথা বলেন। ঋতুপর্ণ কাজের পাশাপাশি নিজের উপস্থিতির মধ্য দিয়েও সমাজের সঙ্গে কথা বলেছেন। এখানেই তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা।

রবীন্দ্রনাথের কাছে বারবার ফেরা
ঋতুপর্ণ ঘোষের সৃষ্টিজগতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপস্থিতি ছিল গভীর। ‘চোখের বালি’ ও ‘নৌকাডুবি’ নির্মাণের পাশাপাশি ‘চিত্রাঙ্গদা’য় রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্যকে নিজের জীবন ও সময়ের আলোয় পুনর্ব্যাখ্যা করেন। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নির্মাণ করেন তথ্যচিত্র ‘জীবনস্মৃতি’।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাছে শুধু সাহিত্যিক ছিলেন না; ছিলেন আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের এক নিরন্তর সঙ্গী। পুরোনো সাহিত্যকে জাদুঘরে তুলে না রেখে সমকালীন জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। এ কারণে তাঁর রবীন্দ্রনাথ-পাঠ কখনো নিছক অনুবাদ হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছে নতুন ব্যাখ্যা।

চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় এক স্মৃতিচারণায় জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে ঋতুপর্ণর সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা হয়েছিল। ঋতুপর্ণ তাঁকে বাড়িতে যেতে বলেছিলেন। চূর্ণী কথা দিয়েছিলেন, যাবেন। কিন্তু সেই দেখা আর হয়নি। চূর্ণীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঋতুপর্ণর শেষ ফেসবুক পোস্টেও ছিল রবীন্দ্রনাথের সেই আকুল আহ্বান, ‘মনে রেখো আমায়।’

এখনো কেন ঋতুপর্ণ
ঋতুপর্ণ ঘোষকে শুধু একজন চলচ্চিত্র পরিচালক বললে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না। তিনি ছিলেন চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা, লেখক, সম্পাদক ও সঞ্চালক। সম্পাদনা করেছেন চলচ্চিত্রবিষয়ক সাময়িকী ‘আনন্দলোক’ ও রোববারের সাহিত্য সাময়িকী ‘রোববার’। সাহিত্য, সংগীত, পোশাক ও শিল্পভাবনা—সব মিলিয়ে তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।

আজকের দ্রুতগতির সময়ে তাঁর ছবির স্থিরতা যেন আরও বেশি প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের বেশি কোনো কিছুতে মনোযোগ ধরে রাখা যখন কঠিন, তখন ঋতুপর্ণর সিনেমা দর্শককে থামতে বলে। নীরবতা শুনতে, একটি দৃষ্টি লক্ষ করতে এবং অসমাপ্ত বাক্যের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সম্পর্কের ইতিহাস বুঝতে শেখায়।
নতুন প্রজন্মও তাই বারবার তাঁর কাছে ফিরে যায়। কেউ সিনেমার জন্য, কেউ সংলাপের জন্য, কেউ তাঁর ব্যক্তিগত সাহস ও অকপটতার জন্য। আবার কেউ নিজের ভেতরের অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। ঋতুপর্ণ শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেননি; মানুষের দিকে তাকানোর একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি করেছিলেন। সম্পর্কের ভাষা বদলে দিয়েছিলেন, নারীর অন্তর্জগৎকে সামনে এনেছিলেন এবং নিজের পরিচয় নিয়ে নির্ভয়ে কথা বলার সাহস জুগিয়েছিলেন।

৩১ আগস্ট তাঁর জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ঋতুপর্ণর ছবি, সংলাপ ও সাক্ষাৎকারের নানা অংশ। চলচ্চিত্রপ্রেমীরা ফিরে দেখছেন ‘উনিশে এপ্রিল’, ‘দহন’, ‘চোখের বালি’, ‘দোসর’, ‘আবহমান’ কিংবা ‘চিত্রাঙ্গদা’। আলোচনা করছেন তাঁর নির্মাণশৈলী, সম্পর্ক দেখার সংবেদনশীলতা এবং পরিচয় নিয়ে তাঁর অকপট অবস্থান নিয়ে।

জন্মদিনের এসব স্মরণ ও আলোচনাই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে—ঋতুপর্ণ কেবল অতীতের কোনো চলচ্চিত্রকার নন। বাংলা সিনেমায় তাঁর তৈরি ভাষা, মানুষের দিকে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং রেখে যাওয়া প্রশ্নগুলো আজও সমানভাবে জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক। তাঁকে বাদ দিলে যে হারিয়ে যায় বাংলা চলচ্চিত্রের একটি স্বতন্ত্র সময়, সম্পর্ক দেখার এক সংবেদনশীল চোখ এবং নিজের মতো হয়ে বাঁচার এক সাহসী ভাষা।