আবার 'আয়েশা'

‘আয়েশা’ টেলিছবির দৃশ্যে তিশা
‘আয়েশা’ টেলিছবির দৃশ্যে তিশা

‘আয়েশা’ টেলিছবিটি আজ বুধবার আবার দেখতে পাবেন দর্শক। চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের পরদিন রাতে টেলিছবিটি প্রচারিত হওয়ার পর অসংখ্য দর্শক তাঁদের ইতিবাচক অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। অনেকে ‘আয়েশা’ আবারও সম্প্রচারের অনুরোধ করেছেন। তাই দর্শকদের অনুরোধে আজ বেলা ৩টা ৫ মিনিটে চ্যানেল আইয়ে আবারও দেখানো হবে টেলিছবি ‘আয়েশা’। কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের উপন্যাস ‘আয়শামঙ্গল’ অবলম্বনে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ঈদের জন্য তৈরি করেছেন টেলিছবিটি। এখানে ‘আয়েশা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। তাঁর স্বামী জয়নালের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী।

‘জীবিত মানুষটারে দেখতে চাইলাম, দিলেন না। মৃত মানুষটারেও দেখতে দিলেন না। কবর কোথায়, সেটাও বলতেছেন না। আমরা কবর জিয়ারতও করতে পারব না? এটা কোন বিচার, স্যার?’ ‘আয়েশা’র সংলাপ। তিশার এই সংলাপ এখন অনেকের মুখে। এই টেলিছবিতে তিশা আর চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ‘টেলিছবিটা দেখে কান্না ধরে রাখতে পারিনি।’

‘আয়েশা’ টেলিছবির পোস্টার

এ সময়ে আবারও ‘আয়শামঙ্গল’ নিয়ে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা কেন বোধ করলেন? পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, ‘আমার সিনেমা বা টেলিভিশন প্রযোজনাগুলো যদি খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমার পক্ষপাতিত্ব সর্বহারার প্রতি, পরাজিত অথবা পরাজয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের প্রতি। বিজয়ীর প্রতি আমি কোনো টান বোধ করি না। “আয়শামঙ্গল”-এ একজন নারীর কাছ থেকে হুট করেই গায়েব করে দেওয়া হয় তাঁর স্বামীকে। তারপর তাঁকে রাষ্ট্রের মতো বিশাল একটা শক্তির মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। আর রাষ্ট্রের মুখোমুখি যখন আপনাকে দাঁড়াতে হয়, তখন তো আপনাকে পরাজয়ের মুখোমুখিই দাঁড়াতে হয়। আমি দেখতে চাই, সেখান থেকে একজন একা মানুষ কীভাবে ভীষণ শক্তিশালী হয়ে ওঠে, কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। প্রিয়জন হারিয়ে ফেলার এই বেদনা তো এই সময়েও প্রাসঙ্গিক। কদিন আগে কাউন্সিলর একরামকে যে তাঁর প্রিয়জনেরা হারিয়ে ফেললেন, তার বেদনা আর আমাদের গল্পের আয়েশার বেদনা তো একই। ঘটনাচক্রে একরাম সাহেবের স্ত্রীর নামও আয়েশা কিন্তু।’

যে টেলিছবি নিয়ে এত প্রশংসা, তার নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এখন কী ভাবছেন? টেলিছবিটি প্রচার হওয়ার পর ফেসবুকে এই নির্মাতা লিখেছেন, ‘ফিল্মমেকার হিসেবে আমরা কী করি আসলে? সময়ের চিহ্নটা ইতিহাসের বুকে এঁকে যাই। যে রকম করে আদিম মানুষেরা যে রাস্তা দিয়ে পার হতো, সেখানে একটা চিহ্ন এঁকে যেত। যেন ইতিহাসের কাছে সাক্ষ্য দেওয়া, এই সময়ের মধ্য দিয়ে আমরা এসেছি। যে সময়টাতে আমরা বাস করছি, বাস করতাম অথবা করব, তার ওপর একটা মার্কার পেনের চিহ্ন রেখে আমরা সবাই হারিয়ে যাব। এই তো খেলা। বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার সময়ের আনন্দ, বেদনা, অসহায়ত্ব—এসব যেন আমাদের গল্পে উঠে আসে—বিনীতভাবে আমরা সেই চেষ্টা করি। “আয়েশা”ও এমনই একটা চেষ্টা।’