১ অক্টোবর মুক্তির পর থেকেই ইউটিউবে ট্রেন্ডিংয়ে উঠে এসেছে ‘জন্মদাগ’। ভিকি জাহেদ পরিচালিত আলোচনায় থাকা এই নাটকে অভিনয় করেছেন মেহ্জাবীন চৌধুরী ও আফরান নিশো। ১২ দিনে চ্যানেল আইয়ের ইউটিউব চ্যানেল থেকে নাটকটি দেখা হয়েছে ১৭ লাখ ৩৫ হাজারবার। এই নাটক আর বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কথা হলো মেহ্জাবীন চৌধুরীর সঙ্গে।
আপনার চোখ নাকি ফুলে গেছে? কেমন আছেন এখন?
হ্যাঁ। এখন বাসায়, বিশ্রাম নিচ্ছি। আগের চেয়ে বেশ ভালো আছি। আপনি কীভাবে জানলেন?
আপনাকে ফোনে না পেয়ে আপনার এক সহকর্মীকে ফোন করেছিলাম। তিনিই জানালেন। কী নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে?
নাটকের শুটিং চলছে পুরোদমে। ভালোবাসা দিবস সামনে রেখে বেশ কিছু নাটকের কাজ করছি।
‘জন্মদাগ’ নিয়ে যে হইচই পড়ে যাবে, শুটিংয়ের সময় ভেবেছিলেন?
ভিকি জাহেদের কাজ আমার খুবই পছন্দের। তিনি যখন গল্পটা শোনালেন, সবাই ভেবেছি, দর্শক দেখুক বা না দেখুক, আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে নাটকটি বানাব। দর্শক সাধারণত রোমান্টিক বা কমেডি নাটক পছন্দ করেন। এ ধরনের ডার্ক থ্রিলার–জাতীয় নাটক দর্শকের ভালো লেগেছে দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে।
ছোট পর্দায় এক দশকের পথচলার অভিজ্ঞতা আপনার। সেটার আলোকেই জানতে চাই, কোন পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশের নাটক?
বাংলাদেশের নাটক প্রতিদিন উন্নতি করছে। এখন আর বাংলাদেশি নাটকের দর্শক বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। তাই আমরা এখন কোনো লিমিটেড জোনে কাজ করছি না। তবে এটা সত্যি যে সীমাবদ্ধতার কোনো সীমা নেই। বলতে গেলে বাংলাদেশের নাটক কেবল ভালোবাসার ওপর ভর করে নির্মিত হয়। না হলে দুনিয়ার কোথাও দুই দিনে একটি নাটকের ২৪ থেকে ৩০টি সিকোয়েন্স করা সম্ভব নয়। এত অল্প বাজেটে কাজ হয়, যেটা ভাবনারও বাইরে। বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ নির্মাতাকেও যদি আমাদের একটা গল্প দিয়ে নাটক পরিচালনা করতে বলা হয়, তিনি বাজেট শুনে দৌড়ে পালাবেন।
বাজেট ছাড়া আর কোনো সংকট নেই?
নেই মানে! এই তো কিছুদিন আগে কিশোরগঞ্জে গেলাম। একটা নাটকের দৃশ্যে রেললাইনের পাশে একটি লাইব্রেরি দরকার। সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড়ে শুটিং করা দায়। অবশ্যই আমি তাঁদের এই উন্মাদনা, ছবি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি ভালোবাসা হিসেবেই দেখি। কিন্তু এসবের ভেতরে কাজ করা তো মুশকিল। পরে পুলিশ, র্যাব, ডিবির সহায়তায় শুটিং সারলাম। আমাদের একটি নকল হাসপাতাল নেই। কোভিড পরিস্থিতিতে হাসপাতালে শুটিং করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই চিত্রনাট্য থেকে হাসপাতালের দৃশ্য সরিয়ে দিতে হচ্ছে। এয়ারপোর্টের দৃশ্যগুলোও কেবল যাওয়া-আসা বা প্লেন ওড়া দেখিয়ে সারতে হয়। একটি পার্কও পাই না শুটিং করার জন্য। অথচ এসবের জন্য অন্যান্য দেশে ফিল্মসিটি আছে, শুটিং স্টুডিও আছে, লোকেশনের সব রকম ব্যবস্থা আছে। এখানে আমাদের হাত-পা সবই বাঁধা। আমরা আর পেরে উঠছি না। দিন শেষে দর্শক নেটফ্লিক্সের কনটেন্টের সঙ্গে আমাদের নাটকের তুলনা করে। আর বলে, আমাদের নাটকটা বাস্তবসম্মত হয়নি। এই দুইয়ের তুলনা হয়?
নারীর ওপর নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন চলছে। মেয়ে হিসেবে আপনার বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? মিডিয়াতে কাজের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন?
আমার বড় হওয়া একটি আরব দেশে। সেখানে ইভ টিজিং বা নারী নির্যাতনের জন্য দ্রুততম সময়ে কঠিন শাস্তি কার্যকর হয়। তাই সেখানকার পরিস্থিতি বেশ নিরাপদ। আমার মনে হয়, অনেক আগে থেকেই নারীদের যেকোনো নির্যাতনের বিষয়ে ভোকাল হওয়া উচিত ছিল। পরিবার বলেছে, ‘ওই রাস্তা দিয়ে গেলে বখাটেরা টিজ করে। তাহলে আর ঘর থেকে বের হওয়ার দরকার নেই।’ কী অদ্ভুত কথা! ঘর থেকে বের হওয়া আমাদের সবার অধিকার। প্রত্যেক মানুষকে পৃথিবীতে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু হওয়ার জন্য, করার জন্য বা কোথাও ভূমিকা রাখার জন্য। এখন একজন মানুষ যদি ঘর থেকেই বের হতে না পারে, তাহলে সেই উদ্দেশ্য কীভাবে সফল হবে? মানুষ হিসেবে সবার সমান অধিকার। এখানে কোনো নারী–পুরুষ নেই। মানুষকে ছেলে বা মেয়ে হিসেবে কাউন্ট করা বন্ধ করতে হবে। চুপ থাকার সংস্কৃতিতে ফুলস্টপ টানতে হবে। আর এখন তো দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এখন আমাদের সরব হওয়া ছাড়া উপায় নেই। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ছাড়া কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। আন্দোলন চলছে। সরকারও আইন পরিবর্তনের বিষয়ে কথা বলছে। একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমার বিশ্বাস। আর ১০ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। আমার সৌভাগ্য যে আমার কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি।
লকডাউনে লাড্ডু বানিয়েছেন দেখলাম। নতুন আর কী কী শিখলেন?
লকডাউন শেষ। রান্নাবান্না সব ভুলে গেছি। এখন শুধু কাজ আর কাজ। বাড়ি ফিরে মা যা রান্না করে, খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
আপনি বিরিয়ানি খুবই ভালোবাসেন। বিরিয়ানি খেয়ে এত ফিট থাকেন কীভাবে?
অভিনয় করা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ। সারা দিন ছোটাছুটি করতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সংলাপ আওড়াতে হয়। ক্যালরি জমার সুযোগ নেই।
দর্শক জানতে চান, আপনি কীভাবে এত সুন্দর করে কাঁদেন?
হা হা। যেখানেই যাই, সেখানেই এটা শুনি। আমি কিন্তু সুন্দর করে হাসিও। কিন্তু সবাই কেন যেন আমার কান্না খুব পছন্দ করেন। আমি জানি না আসলে কীভাবে কাঁদি। কিশোরগঞ্জ গিয়েছিলাম, সেখানেও একজন বললেন যে আমার কান্না দেখলে নাকি তাঁদেরও চোখ ছলছল করে। দর্শকদের আমার কান্না ভালো লাগে, এটা দর্শকদের ক্রেডিট। আর আমার বড় পাওয়া।
বড় পর্দার বিষয়ে ভাবনা কী?
ছোট পর্দা বড় পর্দা বলে আলাদা কিছু নেই। পর্দায় থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বড় পর্দা নিয়ে আলাদা কোনো ভাবনা নেই। আর এখন করোনা পরিস্থিতিতে তো কবে হল খুলে আবার সব স্বাভাবিক হবে, তার ঠিক নেই।
আপনার সহকর্মীরা কবে আপনার বিয়ের দাওয়াত পাচ্ছেন?
তিন বছর পর।
পাত্র কি পছন্দ করে রেখেছেন?
উমমম...তিন বছর পর জানা যাবে।