আজমেরী হক বাঁধন
আজমেরী হক বাঁধন

বাঁধন বললেন, ‘এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব’

ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার পর নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়েননি; বরং ঘটনার শেষ দেখেই ভেনিস ছাড়বেন।

কথা প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘প্রচুর মানুষ আমাকে ফোন করছেন, আমার খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন—আমি কেমন আছি, কোথায় আছি, কীভাবে আছি? আমি শুধু আপনাদের সবাইকে বলতে চাই, আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঠিক আছি। আমি আমার মাথা কখনো নত করিনি। আর সেটা করতে ভুলেও গেছি। তাই আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়।’

ইতালির স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতার কথাও জানান বাঁধন। তিনি বলেন, হামলার পর পুলিশ তাঁকে নিরাপদ একটি জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

আজমেরী হক বাঁধন

বাঁধন বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ এম্বেসি থেকে অ্যাম্বাসেডর সাহেব আমাকে ফোন করেছেন। তাঁর অফিস থেকে লোক আসছে। তাদের সঙ্গে আমি থানায় যাচ্ছি কেস ফাইল করতে।’ বাঁধ জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার পর যাঁরা তাঁকে ফোন, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ঘটনার প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান অভিনেত্রী।

তাঁর মতে, ‘আমাদের কাছে সমস্ত প্রমাণ আছে এবং আমরা এরই মধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি।’ কথা প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষ আমাকে যেভাবে সাপোর্ট করেছেন, গতকাল থেকে, ঘটনাটা ঘটে যাওয়ার পর থেকে, আমি ভীষণভাবে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি মনে করি, আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি। কারণ, আমার দেশের মানুষ আমার বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে। সেটার জন্য অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।’

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন

বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণেই ইতালিতে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা ও হেনস্তা করা হয়েছে। ফেসবুক লাইভেও তিনি তাঁর সেই অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, যেটা আমি মনে করি, আমার জীবনে নেওয়া কিছু সঠিক সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি। আমি একজন গর্বিত জুলাই যোদ্ধা। আমি “যোদ্ধা” শব্দটা ব্যবহার করতে পছন্দ করতাম না। কিন্তু যেহেতু এটা…।’

বাঁধন জানান, অনেকে তাঁকে ফোন ও বার্তা পাঠিয়ে সাহস না হারানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাকে সবাই একটা কথা বারবার বলছেন, সাহস হারাবেন না। বাঁধন সাহস হারানোর জন্য জন্মায়নি। এ কথা মনে রাখা প্রয়োজন, আমাকে ভয় দেখানো, আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়।’

আজমেরী হক বাঁধন

তবে নিজের ওপর হামলার চেয়ে ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেনস্তার ঘটনায় বেশি ক্ষুব্ধ বাঁধন। বিশেষ করে ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটিকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাঁধন বলেন, ‘আমার ভাই এবং তার পরিবার, তার ছোট বাচ্চা ও তার স্ত্রী যেভাবে হ্যারাজড (হয়রানির শিকার) হয়েছে, সেটার জন্য আমি মারাত্মকভাবে আপসেট।’

বাঁধন আরও বলেন, ‘আমার জন্য আমার ছোট ভাই এবং তার ওয়াইফ এবং তার তিন বছরের বাচ্চা যেভাবে অ্যাসল্টেড (নিগৃহীত) হয়েছে, সেটা ন্যক্কারজনক।’ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ভেনিস ছাড়বেন না বলেও জানান অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব।’

চলতি সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন। উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক অরিজন্তি বিভাগে জায়গা পেয়েছে সিনেমাটি। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি। বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং হাত থেকে মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিল।

বাঁধনের অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মী ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।