‘দার-ই-নাজাত’–এর দৃশ্যে দুরে ফিশান সেলিম ও নামির নওয়াজ খান
‘দার-ই-নাজাত’–এর দৃশ্যে দুরে ফিশান সেলিম ও নামির নওয়াজ খান

জারিয়াবকে ছেড়ে আরেক নারীকে বিয়ে, জামিলকে ‘ভণ্ড’ বলছেন দর্শকেরা

পাকিস্তানের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দার-ই-নাজাত’ নিয়ে দর্শকের মধ্যে তুমুল আলোচনা চলছে। শনিবার প্রচারিত সিরিয়ালটির ১৩তম পর্বে গল্পে বড় ধরনের মোড় আসে।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামিল চরিত্রের দ্বিচারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক দর্শক। একই সঙ্গে জারিয়াব চরিত্রে দুরে ফিশান সেলিমের অভিনয়েরও প্রশংসা করেছেন তাঁরা। জামিল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নামির নওয়াজ খান।

নামির নওয়াজ খান ও দুরে ফিশান সেলিম

জারিয়াবকে ছেড়ে আরেক নারীকে বিয়ে

দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও শৈশবের ভালোবাসার মানুষ জারিয়াবের সঙ্গে কয়েক বছর সম্পর্ক ছিল জামিলের। এমনকি কিছুদিন তাঁরা একসঙ্গে বসবাসও করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামিল এক মাদ্রাসার অচেনা নারীকে বিয়ে করেন। জারিয়াবকে বিয়ের বিষয়টিও জানাননি তিনি।

জারিয়াব যখন সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার কারণ জানতে জামিলের বাড়িতে হাজির হন, তখন তাঁদের কথোপকথন দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নেয়। আবেগপ্রবণ জারিয়াব হঠাৎ করে এত নিষ্ঠুরভাবে সম্পর্ক শেষ করার কারণ জানতে চান। জবাবে জামিল বলেন, যোগ্য নন জারিয়াব।

জামিল বলেন, ‘তোমার সঙ্গে আমি যে সময়টা কাটিয়েছি, সেটা ছিল আমার অজ্ঞতার সময়। আমি সেসব ছেড়ে এসেছি। সামনে এগিয়ে যেতে আমার এমন একজন জীবনসঙ্গী দরকার ছিল, যে আমাকে ধর্মের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। যে হবে ধার্মিক, পবিত্র ও নিষ্পাপ।’

এরপর জামিল বলেন, ‘আমার মনে হয়, আল্লাহ আমার তওবা কবুল করেছেন এবং তার বিনিময়ে তাঁকে আমার জীবনে দিয়েছেন।’

জারিয়াবকে নিজের মতো কাউকে বিয়ে করার পরামর্শও দেন জামিল।

জামিলের কথা শুনে জারিয়াব প্রশ্ন করেন, তওবা করার অধিকার কি শুধু পুরুষের? তবে সরাসরি সেই প্রশ্নের উত্তর দেননি জামিল। বরং একজন ধার্মিক স্ত্রীর কী কী গুণ থাকা উচিত, তা বলতে থাকেন। একই সঙ্গে জারিয়াবের মধ্যে সেই গুণগুলো নেই বলেও দাবি করেন।

এই দৃশ্যটিই দর্শকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মের কথা বললেও জামিলের আচরণে আত্মঅহংকার ও দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জারিয়াব চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুরে ফিশান সেলিম

জারিয়াবের অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক

জারিয়াব চরিত্রে দুরে ফিশান সেলিমের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন দর্শকেরা। হৃদয়ভাঙা এক নারীর আবেগ তিনি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

নাটকে দেখা যায়, একপর্যায়ে জামিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। তাঁকে সান্ত্বনা দিতে জারিয়াব নিজের হার্ভার্ডে ভর্তির সুযোগ পর্যন্ত ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। সেই জারিয়াবকেই পরে ধর্ম ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে প্রত্যাখ্যান করেন জামিল।

শুটিংয়ের ফাঁকে দুরে ফিশান সেলিম ও নামির নওয়াজ খান

‘ভণ্ডামিটা একেবারেই বাস্তব’

জামিলকে পাকিস্তানের গড়পড়তা পুরুষের প্রতিচ্ছবি উল্লেখ করে এক দর্শক লিখেছেন, ‘নিজে যা ইচ্ছা করো, কিন্তু স্ত্রী সব সময় নেক, ভদ্র ও পর্দানশিন হতে হবে। ভণ্ডামিটা একেবারেই বাস্তব।’

আরেক দর্শক লিখেছেন, ধর্মের সন্ধান পাওয়ার পরও নিজের বিনয় হারানো উচিত নয়—নাটকটি সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরেছে।

কেউ কেউ আবার বলেছেন, জামিলের মতো আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে থাকা নারীদের জন্য এই পর্বটি একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। একজন দর্শক সরাসরি জামিলকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদের সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জামিলকে ভণ্ডও বলছেন কেউ কেউ।

সাকিব খান পরিচালিত ‘দার-ই-নাজাত’ সিরিয়ালে আরও অভিনয় করেছেন শেহেরিয়ার মুনাওয়ার, রোমাইসা খান, সাহার হাশমি, সানিয়া সাঈদ, সাবা হামিদ ও নাদিয়া আফগান।

ডন অবলম্বনে