চলতি রম্য

আমরা সব সময় আমজনতার আম হতে চেয়েছি: ফজলি আম

ফজলি আমের জিআই স্বত্ব নিয়ে টানাটানি ছিল রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মধ্যে। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) ঘোষণায় বলা হয়েছে, ফজলি আম এখন থেকে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ উভয় এলাকার। শুনানি শেষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বয়ং ফজলি আমেরা কী ভাবছে? ‘একটু থামুন’–এর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বললেন বাংলাদেশ ফজলি আম পরিষদের নেতা ফজলি চৌধুরী...

ফজলি আম
ছবি: প্রথম আলো
প্রশ্ন

যদি ভুল বলে না থাকি, আপনাকে নিয়ে এর আগে একবার বাংলাদেশ–ভারতের মধ্যে বেশ টানাটানি হয়েছিল। এবার তো খোদ দেশের মধ্যেই টানাহেঁচড়া! কেমন লাগে এসব?

ফজলি: একটা রিসেন্ট এক্সাম্পল দিই। এমবাপ্পেকে নিয়ে এই কদিন রিয়াল–পিএসজির মধ্যে কী হলো দেখুন! এমবাপ্পে টপ প্লেয়ার বলেই কিন্তু এমন হয়েছে। নইলে প্লেয়ার তো আরও গণ্ডায় গণ্ডায় আছে। কই তাদের নিয়ে তো কিছু হয় না। কাজেই এই যে আমাকে নিয়ে দুই দিন পরপর এমন টানাটানি হয়, আই রিয়েলি এনজয় ইট। আপনি কোয়ালিটিফুল হলে সবাই চাইবে আপনি তার হোন।

প্রশ্ন

একদিক দিয়ে আপনার শেষ কথাটাই ফলল। আপনি এখন রাজশাহী–চাঁপাই দুই এলাকারই। এই নতুন পরিচয় নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট?

ফজলি: আই অ্যাম রিয়েলি হ্যাপি উইথ দ্যাট! আসলে আমাদের যাবতীয় এফোর্ট, স্ট্রাগল সবই কিন্তু একটা আইডেনটিটির জন্যই। এই যে শত শত মুকুলের মতো ঝরে না পড়ে টিকে থাকা, ঝড়ঝাপটা সয়ে বড় হওয়া, রসগন্ধহীন স্ট্রাগলিং বিটার লাইফ পার করে একটু একটু করে রসাল মিষ্টি হওয়া—এসব তো নিজের একটা পরিচয়ের জন্য। আপনার হয়তো অনেক পটেনশিয়াল আছে, অনেক কোয়ালিটি আছে কিন্তু বলার মতো একটা আইডেনটিটি যত দিন না হবে, তত দিন আপনার ওগুলো কোনো কাজেই আসবে না। দিন শেষে আইডেনটিটিই ম্যাটার করে। আর সেই আইডেনটিটি যদি সর্বজনীন হয়, তাহলে তো কথাই নেই। আমার কাছে আইডেনটিটির জন্য জিওগ্রাফিক্যাল ইনডেক্স, পেটেন্ট এগুলো খুব একটা ম্যাটার করে না।

প্রশ্ন

এটার কিন্তু একটা খারাপ দিকও আছে। রাজশাহী বা চাঁপাই আগে যেমন আপনাকে ওউন করত, এখন কিন্তু আর করবে না। এর মধ্যেই কিন্তু এটা নিয়ে অনেকের অসন্তুষ্টি দেখা যাচ্ছে।

ফজলি: অসন্তুষ্টি মানুষের কমন প্রবলেম। এগুলো গায়ে মাখলে চলে না। আপনি কখনোই সবাইকে সন্তুষ্ট করে চলতে পারবেন না। আমরা সব সময় আমজনতার আম হতে চেয়েছি। আর আম হয়ে আমজনতারই যদি না হতে পারলাম, এর চেয়ে কুচকুচে কালো জাম বা ঠনঠনা নারকেল হওয়াই ভালো।

প্রশ্ন

একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। আপনার নামকরণের কথা যদি একটু বলতেন।

ফজলি: আমি ঠিক শিওর না। সত্য হতে পারে, আবার মিথও হতে পারে। বাপ–দাদার কাছে শুনেছি। ঘটনাটা এমন, ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে মালদহের কালেক্টর র‌্যাভেন সাহেব ঘোড়ার গাড়িতে চেপে গৌড় যাচ্ছিলেন। পথে তাঁর জলতেষ্টা মেটানোর জন্য গ্রামের এক নারীর কাছে জল খেতে চান। ফজলু বিবি নামের সেই নারীর বাড়ির উঠানে বড় একটি আমগাছ ছিল। ফজলু বিবি সেই আম দিয়ে ফকির-সন্ন্যাসীদের আপ্যায়ন করতেন (এ জন্য আমাদের আরেক নাম ফকিরভোগ)। ফজলু বিবি তাকে জলের বদলে একটি আম খেতে দেন। আম খেয়ে কালেক্টর সাহেব ইংরেজিতে তাঁকে আমের নাম জিজ্ঞেস করেন। বুঝতে না পেরে ওই নারী নিজের নাম বলে বসেন। সেই থেকে ওই আমের নাম হয়ে যায় ফজলি।

প্রশ্ন

ইন্টারেস্টিং! হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ক্ষীরশাপাতি, চোষা—এদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কতটুকু উপভোগ করেন?

ফজলি: একটু আগে যেমনটা বললাম, আমরা আসলে আমজনতার জন্য। আমাদের মধ্যে কোনো কম্পিটিশন নেই। তবে হ্যাঁ, কাউকে ওভাররেটেড হতে দেখলে খারাপ লাগে। আপনি দেখবেন, অনেকে কেবল টকটকা রঙের জন্যই ওভারপ্রাইসড হয়ে যায়। এটা বিরক্ত লাগে।

প্রশ্ন

একটা আনপপুলার অপিনিয়ন বলি, আপনার নামের সঙ্গে আপনার অনন্য স্বাদ-গন্ধের ব্যাপারটা যায় না। ফজলি শুনলেই মনে হয় খুবই সাধারণ কিছু।

ফজলি: হা হা হা। ইট ডাজন্ট বদার মি অ্যাট অল। কথায় আছে না, নামে কীই–বা আসে–যায়।

প্রশ্ন

এমনিতেই বাগান–বাজার মিলিয়ে আপনাদের এখন ব্যতিব্যস্ত সময় যাচ্ছে। তার ওপর এসব শুনানিটুনানি। এত কিছুর মধ্যে ‘একটু থামুন’কে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ফজলি: মাই প্লেজার। আপনাকেও ধন্যবাদ।