প্রতিবছরই আমাদের দেশে কোনো না কোনো দুর্যোগ, বিশেষত বন্যা বারবার ফিরে আসে; রাষ্ট্র প্রতিবারেই কোনো আগাম প্রস্তুতি রাখে না, তাই অবস্থা হয় বেগতিক। জনগণই বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত। সে অনুযায়ী প্রতিবছরই আমরা কিছু স্পেশাল মৌসুমি পাবলিকের দেখা পাই। যাঁদের কর্মকাণ্ডের জুড়ি মেলা ভার! তাঁদের নিয়েই ভেবেছেন এবং এঁকেছেন আবিদ আনজুম সরকার

প্রতিবছরই এনাদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে। ত্রাণ/সহযোগিতা করার চেয়ে ক্যামেরার মেগাপিক্সেল আর ড্রোন শটের নিখুঁত অ্যাঙ্গেল মেলানোই এনাদের মূল মিশন।
এক প্যাকেট মুড়ি আর আধা লিটার পানির বোতল ১০ জন মিলে ধরে এমনভাবে পোজ দেন, যেন পুরো জেলার দায়িত্ব ওনারাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ত্রাণ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী মানুষের চেয়ে এঁদের হাসিমুখের সেলফি ফেসবুকে বেশি জ্বলজ্বল করে। এঁরা মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার ভিউয়ের চাতক পাখি।
বন্যার সময় যাতায়াতের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে রীতিমতো জলদস্যুদের মতোই পকেট কাটেন এনারা।
যে রাস্তায় কালকেও রিকশা চলত, সেখানে আজকে কোমরপানি। ব্যস, এঁরা একটা ভাঙা নৌকা বা কলার ভেলা নিয়ে হাজির। ২ মিনিটের রাস্তা পার করে দেওয়ার জন্য হাঁকিয়ে বসবেন ২০০ টাকা। আরেক দিকে ত্রাণ বা সাহায্য পাঠানোর নৌকার ভাড়াই হাঁকিয়ে বসবেন কমপক্ষে হাজার তিনেক। প্রতিবাদ করলেই বলেন, ‘জলে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই কইরেন না মামা, সাঁতার কাটলে ঠান্ডা লেগে জ্বর–সর্দি, গা ব্যথা, মইরা যাওনের সম্ভাবনা ফ্রি!’
এ দেশে শুধু দুর্যোগে নয়, বিভিন্ন উৎসব–পার্বণেও এনাদের কর্মকাণ্ড চলে পুরোদমে। দুর্যোগের বাজারে পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে পকেট ভারী করাই এনাদের মূল লক্ষ্য।
বন্যা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এঁদের দোকানের মোমবাতি, দেশলাই, চিড়া, মুড়ি আর স্যালাইনের স্টক ‘অদৃশ্য’ হয়ে যায়। ৫ টাকার মোমবাতি রাতারাতি ৫০ টাকা হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করলে উল্টো দুঃখী মুখ করে বলবেন, ‘ভাইরে ভাই, ইমপোর্ট কস্ট বেশি, আমরা তো লসে আছি!’
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকার
গালভর্তি মেকআপ বা দামি সানগ্লাস পরে প্লাবিত এলাকায় গিয়ে রিলস বানাতে দেখি এনাদের। ব্যাকগ্রাউন্ডে স্যাড মিউজিক দিয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘গাইস, আই অ্যাম সো হার্টব্রোকেন! জাস্ট লুক অ্যাট দিস পিপল...’