টা ট কা র স

সুমি বলেছিল, পূজার ছুটির আগেই

বাজারে মাছ, মাংস, তেল, ডাল, শাকসবজি সবার মধ্যে একতা দেখে অবাক বিপুল চৌধুরী। কী দারুণভাবেই না ওরা নিজেদের দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে! ইশ্‌, এই একতাটা যদি মানব সম্প্রদায়ের মধ্যেও থাকত। কী নিদারুণভাবেই না মানুষের দাম কমছে!

হঠাৎ বাসার গেটের দিকে চোখ পড়তেই উচ্চমার্গীয় চিন্তায় বাধা পড়ল। গেটের সামনে একটা চ্যাংড়া ছেলে দাঁড়িয়ে। ছেলেটা একটু পরপর মাথা উঁচু করে তার বাসার দিকে তাকাচ্ছে আবার চোখ নামিয়ে হাঁটছে। ভুরু কুঁচকে গেল বিপুলের। এ এখানে কী চায়? দিনকাল ভালো না। চোরছ্যাঁচড় না তো?

বিপুল চৌধুরী বিপুল বেগে ছুটে এলেন। ‘বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে এমন ঘুরঘুর করছ কেন, কাকে চাই?’     

—না মানে গেটে কোনো দারোয়ান দেখছি না তো, তাই...     

 ‘আমি আছি, বলো।’ চোখ পাকিয়ে ঝাড়ি দিলেন বিপুল।   

 —আসলে হয়েছে কী দারোয়ান চাচা, আমি সুমিদের বাসায় যেতে চাইছিলাম। ও এই বিল্ডিংয়েই থাকে। আমাকে ব্লক করে রাখায় মোবাইল ফোনে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।

ত্যাঁদড়টা তাকে ‘দারোয়ান চাচা’ বলল! ঠাডিয়ে একটা চড় মারার সুপ্ত বাসনাটা আপাতত দমিয়ে রাখলেন বিপুল। ছেলেটা তাঁর ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েকে খুঁজছে কেন, আর সুমিই বা ওকে ব্লক করে রেখেছে কেন? ঘটনা কী? ঘটনা না জানা পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা ঘটানো ঠিক হবে না। মাথা ঠান্ডা রেখে বললেন, ‘কাকে খুঁজছ সুমিকে? কিন্তু তুমি কে?’  

 —সেটা আপনাকে বলব কেন? এটা ওর আর আমার পার্সোনাল ব্যাপার।

 ‘এটা আমারও পার্সোনাল ব্যাপার।’ আর থাকতে না পেরে বিপুল চৌধুরী ফোঁসফোঁস করে উঠলেন।

 —আপনার ব্যাপার মানে? ছেলেটা চোখ বড় বড় করে তাকাল।

 ‘আমি সুমির বাবা। এবার বলো, তোমার পরিচয় শুনি।’

 —ইয়ে মানে আংকেল, আমি সরি। সুমি আমার ক্লাসফ্রেন্ড। আমার বাড়ি হাতিয়া। এখানে ভার্সিটি হলে থাকি।

 ‘ঠিক আছে, এবার বলো, সুমিকে খুঁজছ কেন?’  

 —আমি আপনার কাছে...    

 ‘এত ইতস্তত করছ কেন? কী ব্যাপার বলবে তো?’    

 —আমি সুমিকে... মানে সুমি আমাকে বলেছিল...  

 ‘সুমি যা–ই বলে থাকুক, লাভ নেই। সুমি এখনো অনার্স পাস করেনি।’

 —তাতে কী? আমার তো এখনই চাই।

 ‘তুমি চাইলেই হলো? আমরা এখন চাইছি না।’

 —কিন্তু সুমি যে বলেছিল...

 ‘সুমি কী বলেছিল, সেটা ব্যাপার না। সুমির বাবা কী বলছে, সেটাই আসল ব্যাপার। বুঝতে পেরেছ?’ 

 —জি আংকেল, পেরেছি। কিন্তু সুমি তো বলেছিল... 

 ‘সেই কখন থেকে সুমি বলেছিল, সুমি বলেছিল করছ। কী বলেছিল ও তোমাকে?’

 —বলেছিল, আমার কাছ থেকে ধার নেওয়া দুই হাজার টাকা পূজার ছুটির আগেই ফেরত দেবে। আর কদিন পরেই পূজা। টাকা না পেলে পূজায় বাড়ি যাবার টিকিট কাটব কী করে!