রস‍+আলো

ইস্যুর বাজার ছিল জমজমাট!

এ সপ্তাহে বাংলাদেশের ইস্যুর বাজার ছিল জমজমাট!

সব ইস্যুর বড় ইস্যু বিশ্বকাপ।একদিকে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল একের পর এক অবিশ্বাস্য কামব্যাক দিয়ে যাচ্ছে, আরেক দিকে নিজেদের বিদায়ের পর ব্রাজিল সমর্থকেরা যাকেই সমর্থন দিচ্ছে, তারাই অবিশ্বাস্যভাবে বাদ পড়ে যাচ্ছে। কোনোভাবেই ফেসবুকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা যাচ্ছে না। মহাবিপদ!

এদিকে আমাদের এক মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, যিনি সব সময়ই চান আর্জেন্টিনার মতোই কামব্যাক দিতে। টানা বৃষ্টিতে দেশ ভেসে যাচ্ছে বন্যায়, এমনকি ঢাকার রাস্তায় গলাসমান পানি। তাও তিনি বলে ফেললেন, পরিস্থিতি ভালো, পরীক্ষা হবে। ছেলেপুলেরা হাবুডুবু খেতে খেতে পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখল, প্রশ্নেই একগাদা ভুল। এরপর যা হওয়ার তা–ই হলো, ছেলেপুলে খেপে গেল। মন্ত্রী মহোদয় বললেন, ফার্মের মুরগি। ছেলেপুলেরা আরও বেশি খেপে গেল। তারপর আর কী, শেষমেশ এই দফায় কামব্যাক দেওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে মন্ত্রী বললেন, সরি!

স্বাভাবিক, চাইলেই কি সবার পক্ষে আর্জেন্টিনা

হওয়া যায়!

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হলো কার্টুন বিদ্রোহ। সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া একটা কার্টুন নিজের মতাদর্শের বাইরে যাওয়াতেই খেপে গেলেন এক বিদ্রোহী। বিদ্রোহীর লেখা-যুক্তি পড়ে, তার দেওয়া ধমক-ধামক শুনে আমাদের মাথায় হাত। কার্টুনিস্টরা যদি ধমক শুনে ভয় পেয়ে কার্টুন আঁকা ছেড়ে দেয়, তবে মহাবিপদ! কার্টুনিস্টদের ক্যারিয়ারের কী হবে! তারা কোথায় যাবে, কী করে খাবে! আর কার্টুন ছাড়া রস+আলোই বের হবে কীভাবে! ভয়াবহ দুশ্চিন্তার বিষয়! (ফেক দুশ্চিন্তার ইমোজি হবে, হাহা)

এত এত ইস্যু পেরিয়ে যেদিন রস+আলোর এই সংখ্যা বাজারে, সেই দিনটা সাধারণ দিন নয়।

এই দিনের শেষেই বিশ্বকাপের ফাইনাল।

ফাইনালে কে জিতবে? (অবশ্য এর চেয়ে বড় প্রশ্ন, কাল থেকে আমরা ঝগড়া করব কী নিয়ে!)

দেখা যাক। আর যা-ই হোক, বাঙালির ঝগড়ার ইস্যুর অভাব হওয়ার কথা নয়।

আর…

আর এই দিনটা হুমায়ূন আহমেদকে হারানোর। রস+আলোর পক্ষ থেকে তাঁর জন্য ভালোবাসা।