অক্সিজেন বাড়াবে যে যোগাসন

ইয়োগা বা যোগশিক্ষাতে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামকে প্রাণায়াম বলা হয়। আমাদের শরীরে খাদ্যের চেয়েও শ্বাসের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, খাদ্য ছাড়াও মানুষ বা অন্যান্য জীব বেশ কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারে, কিন্তু কয়েক মিনিট অক্সিজেন বন্ধ থাকলেই জীবন শেষ। আমাদের শরীর ও মনের যেকোনো পরিবর্তন এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রাণায়াম শেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রাণায়াম করার মাধ্যমে আমাদের শরীর ও মন ভালো রাখা সম্ভব। আর করোনার এই মহামারির সময়ে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করার বিকল্প নেই। বিভিন্ন ধরনের প্রাণায়ামের মধ্যে রয়েছে ভস্ত্রিকা, অনুলোম-বিলোম, কপালভাতি, ভ্রামরী, বাহ্য, শাতলী ইত্যাদি। পড়ুন তেমনই দুটো আসনের বর্ণনা।

ভ্রামরী প্রাণায়াম
ছবি: খালেদ সরকার

ভ্রামরী প্রাণায়াম

যেভাবে করবেন

সুখাসন বা সিদ্ধাসনে ধীরস্থিরভাবে বসুন। দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে দুই কান বন্ধ করবেন এবং বাকি চারটা আঙুল চোখের পাতার ওপর এমনভাবে রাখুন, যাতে আঙুল চোখের পাতায় স্পর্শ না করে। চোখ এমনিতেও বন্ধ থাকবে। এভাবে আমাদের ২টি ইন্দ্রিয় অর্থাৎ চোখ ও কান বন্ধ হয়। এরপর নাক দিয়ে বুক ভরে শ্বাস টেনে নিন এবং মুখ বন্ধ রেখে শ্বাস ছাড়ার সময় ভ্রমরের মতো নিরবচ্ছিন্ন আওয়াজ করতে করতে শ্বাস ছাড়ুন। ভ্রমরের মতো আওয়াজ করতে হয় বলে একে ভ্রামরী প্রাণায়াম বলে। ভ্রামরী প্রাণায়ামের সময় মনোযোগ দুই ভ্রুর মাঝে স্থির রাখবেন।

কতবার করবেন

প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ১১-২১ বার করুন।

অনুলোম-বিলোম প্রাণায়াম

অনুলোম-বিলোম প্রাণায়াম

যেভাবে করবেন

ডান হাত তুলে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা নাকের ডান দিকের ছিদ্র (পিঙ্গলা নাড়ি) বন্ধ করে নাকের বাঁ ছিদ্র (ইড়া নাড়ি) দিয়ে শ্বাস টেনে নিন। শ্বাস ফুসফুস ভরে নিতে হবে। এরপর অনামিকা বা মাধ্যমা দুটি আঙুল একসঙ্গে করে নাকের বাঁ ছিদ্র বন্ধ করে ডান পাশের ছিদ্র দিয়ে পুরোটা শ্বাস বের করে দিন। এরপর বাঁ ছিদ্র দিয়ে শ্বাস টেনে নিন। শ্বাস টানার পর আঙুল পরিবর্তন করে নাকের ডান ছিদ্র বন্ধ করে বাঁ ছিদ্র দিয়ে শ্বাস ছেড়ে দিন। আবার একইভাবে নাকের বাঁ ছিদ্র দিয়ে শ্বাস টেনে নিন। এই ধারাবাহিকতায় যাতে ভুল না হয়, সে জন্য মনে রাখবেন যখন শ্বাস ফুসফুসে ভরবেন, এরপর‌ আঙুল পরিবর্তন করে নাকের অন্য ছিদ্র দিয়ে শ্বাস ছাড়বেন। এভাবে চলতে থাকবে। অনুলোম-বিলোম প্রাণায়াম বিভিন্ন গতিতে আপনি করতে পারবেন। তবে ঘুমের ক্ষেত্রে প্রাণায়ামটি খুব ধীরগতিতে করবেন। শ্বাসের গতি এত ধীর করবেন যেন আপনার নিজের শ্বাসের শব্দ আপনি নিজেও শুনতে না পান। চেষ্টা করবেন ৮-১৬ সেকেন্ডে একবার শ্বাস নেওয়া এবং ৮-২৬ সেকেন্ড ধরে আবার ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে। আপনি চাইলে সময় আরও বাড়াতে পারেন। যখন অনুলোম-বিলোম করবেন, তখন সব মনোযোগ শ্বাসের গতিপথের দিকে দেবেন। বাঁ হাত কোলের ওপর স্থির রেখে শুধু ডান হাত দিয়ে অনুলোম-বিলোম প্রাণায়াম করবেন। অনুলোম-বিলোম প্রাণায়ামে বাঁ হাত ব্যবহার করবেন না।

সময়কাল

প্রতিদিন ঠিক ঘুমানোর আগে কমপক্ষে ৫ মিনিট করুন। ঘুমের সমস্যা বেশি হলে ১০-১৫ মিনিট করুন। ২১-২৮ দিন টানা করবেন। অনিয়মিত অভ্যাসে ঠিকমতো উপকার পাবেন না।