তারুণ্য

আড্ডা হলেই ডায়েট বাদ?

বন্ধুদের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় আড্ডা, সেখানেও কি ডায়েট? মডেল: স্বর্ণা, গোধূলী, রনি ও রায়হান। ছবি: অধুনা
বন্ধুদের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় আড্ডা, সেখানেও কি ডায়েট? মডেল: স্বর্ণা, গোধূলী, রনি ও রায়হান। ছবি: অধুনা

বন্ধুরা সব এক হলেই হলো। আড্ডা জমবে দারুণ। তুমুল আড্ডায় চায়ের কাপে ঝড়। তবে বন্ধুরা একসঙ্গে জড়ো হলে শুধু কি আর চায়ের কাপ হলেই চলে? মুখরোচক নানান খাবারে আড্ডায় মাতেন আজকের তরুণেরা।
স্বাস্থ্যসচেতনদের ব্যাপারটা অবশ্য খানিক আলাদা। এই যেমন ধরুন গ্রাফিক ডিজাইনার তানভীর হাসানের কথা। প্রায় আট বছর ধরে ডায়েট করছেন। বন্ধুদের আড্ডায় খাওয়া-দাওয়ার বেলায়ও মেনে চলেন কিছু বিষয়। কোনো দিন দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খাবেন এমনটা জানা থাকলে সেদিন সকালে অন্য দিনের চেয়ে একটু হালকা নাশতা করেন। আগে থেকে জানা থাকলে কয়েক দিন আগে থেকেই একটু বাড়তি শরীরচর্চা করেন আর কয়েক দিনের ক্যালরির পরিমাণটাও খানিক কমিয়ে দেন। আর চেষ্টা করেন এমন কোথাও যেতে, যেখানে নানান ধরনের খাবারের মধ্য থেকে একটু স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ মিলবে। ডিপ ফ্রাই করা খাবার আর মেয়নেজ বা পনিরের মতো উচ্চ ক্যালরির খাবার পরিহার করতেই চেষ্টা করেন। মেয়নিজ বা পনিরের মতো টপিং থাকলে সেটি বাদ দিয়ে খাবারটা পরিবেশন করতে বলেন রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশককে।
পাস্তা বা বিরিয়ানির মতো খাবারও তানভীর পরিহার করেন নিজের তাগিদেই। কোমলপানীয়র পরিবর্তে পানি বা ক্লাব সোডা নিতেই পছন্দ করেন তিনি। এক স্কুপ আইসক্রিম খেতে পারেন, তবে চকলেট সস আর আইসক্রিম মেশানো ব্রাউনি নেবেন না তিনি। আর কোনো খাবারের পরিমাণ বেশি মনে হলে সেটি ভাগ করে নেন বন্ধুদের সঙ্গে।
কথা হলো মেডিকেলপড়ুয়া মাহি নূরের (ছদ্মনাম) সঙ্গে। সামাজিকতা রক্ষার খাতিরে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খেতে গেলেও চেষ্টা করেন সবজি, মাছ বা মুরগির মাংসের কোনো খাবার অর্ডার করতে। ফলের সালাদও নিয়ে থাকেন কখনো। ভাতজাতীয় খাবার, কফি আর কোমলপানীয় না নিতেই চেষ্টা করেন, আর নিলেও খুব অল্প পরিমাণে। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা বোরহানিও নিয়ে থাকেন।
এ তো গেল সচেতন তরুণদের কথা। এবার জেনে নিন বিশেষজ্ঞ মতামত। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো বলেন, বন্ধুদের আড্ডায় উচ্চ ক্যালরির খাবার খাওয়া হয়ে গেলে বাড়ি ফিরে সেদিনের খাবারের পরিমাণটা একটু কমিয়ে দিতে হবে। আর বাইরে কম ক্যালরির খাবার খেলে সেদিনকার স্বাভাবিক খাবারের পরিমাণ খুব একটা কমানোর প্রয়োজন নেই।
অতিরিক্ত মেয়নেজ বা মাখন আছে, এমন খাবার না নিয়ে ফলের সালাদ নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। বার্গার বা পিৎজার মতো খাবার পরিহার করা উচিত। কম চিনি দিয়ে তৈরি ফলের শরবতও খাওয়া যেতে পারে। তবে জুসে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। বাইরে চা-কফিও চলতে পারে। এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে দুধ ও চিনির পরিমাণের ব্যাপারে। যে খাবারই বাইরে খাওয়া হোক না কেন, খেয়াল রাখুন, তা যেন কম ক্যালরিসম্পন্ন হয়।
আড্ডায় যতটা অতিরিক্ত খাবার খেলেন, বাসায় এসে সেই পরিমাণ ক্যালরি সেদিনের খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিন। হয়তো বাইরে ভাতজাতীয় খাবার খেলেন, সে ক্ষেত্রে বাসায় এসে ভাতের পরিবর্তে সালাদ খেতে হবে। ওদিকে বাসায় হয়তো মা রান্না করে রেখেছেন আপনার জন্য, বাসায় ফিরে সে খাবারটা না খেলে মা মনে কষ্ট পাবেন। তাই সম্ভব হলে বাসায় আগেই জানিয়ে রাখুন, বাইরে থেকে খেয়ে এসে আপনি আর খাবেন না। আর রান্না করা হয়ে গিয়ে থাকলে বুঝিয়ে বলুন, আপনি সেটি পরদিন খেয়ে নেবেন। এভাবে নিজের ডায়েট কন্ট্রোলও ঠিক থাকবে, বন্ধুদের আড্ডাও জমবে, আবার মায়ের মনও রাখতে পারবেন।