মাঠের খবর

এমন দর্শক সব সময় থাকবে তো?

বদলে গেছে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের দৃশ্যপট। প্রায় ১০ দিন ধরে দিনভর হাজারো মানুষের আনাগোনা। রাতে ফ্লাড লাইটের বন্যায় হইহুল্লোড়। সমস্বরে গোল গোল বলে চিৎকার। এ যেন দুই দশক আগের স্টেডিয়াম।
শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবলে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে। ফুটবলের প্রতি দর্শকদের ভালোবাসা এখনো যে পুরোপুরি ফিকে হয়ে যায়নি, তার প্রমাণ এই টুর্নামেন্ট।
টুর্নামেন্টের এমন সাফল্যে খুশির রোল উঠেছে আয়োজকদের মধ্যে। তবে গ্যালারি ভরা দর্শক কি স্থানীয় লিগে আসবে—এমন প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে কারও কারও মনে। বিদেশি দল এবং ঢাকার বড় দলের খেলা দেখার জন্য যে পরিমাণ দর্শক ভিড় করেছে তার ছিটেফোঁটা হলেও স্থানীয় ফুটবলে ধরে রাখার ব্যাপারে অনেক ক্রীড়া সংগঠক আশাবাদী। তবে তার জন্য পরিকল্পনা দরকার।
টুর্নামেন্ট কমিটির সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘এমন দর্শক ১৫-২০ বছর আগে ফুটবলে আমরা দেখেছি। একটি পাতানো ম্যাচের পর ফুটবল থেকে দর্শকেরা মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল। এই টুর্নামেন্ট দর্শকখরা ঘুচিয়েছে। তবে টুর্নামেন্টের সাফল্য যদি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তাহলে অর্জনটাই নষ্ট হয়ে যাবে। স্থানীয় ফুটবলকে জনপ্রিয় করতে এর আলোকে কিছু পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।’
নিয়মিত লিগ আয়োজন, বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট চালু ও বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে লিগ আয়োজন করলে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছেন ক্রীড়া সংগঠকেরা।
আট দলের অংশগ্রহণে শেখ কামাল ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টটি গ্রুপ ম্যাচের প্রতিটিতে দর্শক পেয়েছে। ২৫ হাজার ধারণক্ষমতার এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রতিদিন হাজার দশেক দর্শক হয়েছে। চট্টগ্রাম আবাহনী ও আফগানিস্তানের স্পিনগার বাজানের প্রথম সেমিফাইনালে উপচে পড়েছিল দর্শক। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে সেদিন স্টেডিয়াম।
এমন দৃশ্য দেখে উচ্ছ্বসিত চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) ফুটবল সম্পাদক ও টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য আল্লামা মোহাম্মদ ইকবাল।
তিনি বলেন, ‘এমন দর্শক অনেক দিন দেখা যায়নি। দর্শকদের ভালোবাসা এখনো ফুটবলের প্রতি আছে। স্থানীয় ফুটবলেও আস্তে আস্তে দর্শকখরা ঘুচবে বলে আমাদের আশা করি।’
শেখ কামাল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। এর মধ্যে রোডশো, শোভাযাত্রা, পথ ফুটবল, মাইকিংসহ নানা আয়োজন ছিল। ফুটবলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে শুরু থেকে মরিয়া ছিল টুর্নামেন্ট কমিটি। সেটা অনেকটা সফল হয়েছে দাবি করে এখন ভবিষ্যতের চিন্তা করা উচিত বলে মনে করছেন অনেক ক্রীড়া সংগঠক।
টুর্নামেন্টের প্রচার কমিটির আহ্বায়ক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বলেন, এম এ আজিজ স্টেডিয়ামকে আবার পুরোনো চেহারায় দেখা গেছে এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে। দর্শকদের ফুটবলমুখী করতে এই টুর্নামেন্টের সাফল্যকে কাজে লাগাতে হবে।