শুধু যে নগদ টাকা বহনের সুবিধা কমে তাই নয়, ডিজিটাল কেনাকাটায় সুবিধা মেলে অনেক।
শুধু যে নগদ টাকা বহনের সুবিধা কমে তাই নয়, ডিজিটাল কেনাকাটায় সুবিধা মেলে অনেক।

কেনাকাটা

কেনাকাটায় ডিজিটাল পেমেন্ট

কেনাকাটায় নানা ধরনের সুবিধা থাকায় পণ্যের মূল্য পরিশোধে ডিজিটাল পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই।

ডিজিটাল যুগে এসে কাগুজে টাকার ব্যবহার কমিয়েছে ডিজিটাল পেমেন্ট। নিরাপদ আর কেনাকাটায় নানা ধরনের সুবিধা থাকায় বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো পণ্যের মূল্য পরিশোধের ডিজিটাল পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন অনেকেই।

ক্রেডিট কার্ড হলো ব্যাংক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ধার নেওয়া। আপনার ইচ্ছেমতো এই অর্থ কেনাকাটা করে অথবা নগদ উত্তোলন করে খরচ করতে পারবেন। অন্যদিকে হাতের মুঠোয় ব্যাংকের সুবিধা এনে দিয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। টাকা জমা রাখা, কেনাকাটা, মুঠোফোনে রিচার্জ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেটের বিল প্রদানসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক নানা সুবিধা দিচ্ছে। অনলাইন কেনাকাটাতেও ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং বেশ সুবিধাজনক।

এদিকে দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক পণ্যসামগ্রী, আসবাব, গাড়িসহ বড় কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার এখন অনেক বেড়েছে। বছর কয়েক আগেও শুধু উচ্চবিত্তদের হাতেই ক্রেডিট কার্ড দেখা যেত। তবে এখন সেই ধারণায় বদল এসেছে। মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে ঝুঁকছেন। ব্যাংকভেদে মাসিক আয় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা হলেই ক্রেডিট কার্ড নেওয়া যায়। বেশি দামের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে কিস্তি নেওয়ারও সুবিধা মেলে। আবার জরুরি কোনো প্রয়োজনে অন্য কারও দ্বারস্থ না হয়ে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেই ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া যায়। বেসরকারি একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রুহুল আমিন জানালেন, বছর দশেক ধরে তিনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আসছেন। শুরুতে ডুয়েল কারেন্সি (দ্বৈত মুদ্রা) সুবিধার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার শুরু করলেও কিস্তিতে পণ্য কেনা, কেনাকাটায় বিভিন্ন ছাড়, লাইফস্টাইল, ঋণের সুবিধাসহ জরুরি প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড এখন তাঁর নিত্যসঙ্গী। ৪০ বা ৫০ হাজার টাকার ওপর যেকোনো ধরনের কেনাকাটার ক্ষেত্রে তিনি ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি সুবিধা নেন। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগেই কিস্তি সুবিধা নিয়ে কিছু আসবাব কিনেছি। ক্রেডিট কার্ড থাকায় তখন আমার আসবাবের প্রয়োজনও মিটেছে, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে আমার পকেটে কোনো চাপ পড়েনি; বরং নিজের সুবিধামতো মাসিক কিস্তিতে ওই টাকা পরিশোধ করেছি।’

মোবাইলের মাধ্যমেও মূল্য পরিশোধ করা যায়

বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০টি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে। প্রায় সব কটি ব্যাংকেই ভিসা ও মাস্টারকার্ডের সেবা মিলবে। এর বাইরেও দেশের কয়েকটি ব্যাংকে মিলবে অন্য কয়েকটি ব্র্যান্ডের কার্ড যেমন সিটি ব্যাংক অ্যামেক্স কার্ড, প্রাইম ব্যাংক জেবিসি কার্ড, ইস্টার্ন ব্যাংক ডিনার্স ক্লাব কার্ড, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক নেক্সাস পে কার্ড ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ইউনিয়ন পে ইন্টারন্যাশনাল। এ ছাড়া ইউসিবি, সাউথইস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের প্রি-পেইড ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। প্রি-পেইড মোবাইল সিম কার্ডের মতোই এসব কার্ডে আগে টাকা জমা করে প্রয়োজনমতো খরচ করা যায়।